আবার সেই ঘন ঘন লোড শেডিং। নতুন করে পুরান যন্ত্রনা।সেচ মৌসুমে সেচের কাজের জন্য শহর থেকে গ্রামে বিদ্যুৎ দিয়েছে। সেচের অতিরিক্ত চাহিদার জন্য এবার আমরা ইতিহাসের সর্ব প্রথমবার ১২ ঘন্টার লোড শেডিং দেখেছি।মাঝে মাঝে আরো বেশী। তাও ২ ঘন্টা অন ২ ঘন্টা অফ।অনেক এলাকায় তো ২ ঘন্টা পর ১ ঘন্টা বিদ্যুৎ থেকে আবার চলে গেছে। আগে ১ ঘন্টার লোড শেডিং ছিলো কার বুদ্ধিতে ২ ঘন্টা লোড শেডিং করলো কে জানে। অনেক সমালোচনার পর ফিরে এলো ১ ঘন্টার লোড শেডিং। মন্দের ভালো।
এখন আবার শুরু হয়েছে সেই ঘন ঘন লোড শেডিং।কি কারন কে জানে। বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনের কাছে অনেক রেডী জবাব আছে। পিডিবির চেয়ারম্যান বলেন, এখন দিন-রাতের চাহিদা প্রায় সমান হয়ে গেছে। আগে যেমন সর্বোচ্চ চাহিদার সময় (সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত ১১টা) চাহিদা অনেক বেড়ে যেত। তার আগে-পরে থাকত কম, এখন আর তেমন হচ্ছে না। সব সময়ই চাহিদা মোটামুটি একই থাকছে। তাই ঘাটতিও থাকছে সর্বক্ষণই। কেউ বলতে পারেন রাত দিনের চাহিদা কিভাবে এক হয়। রাতে কয়টা কল কারখানা খোলা থাকে। গার্মেন্টসও রাতে খোলা থাকে না। একবার জাতীয় গ্রীড ফেল করার জন্য একটা পাখিকে দায়ি করা হয়েছিলো। হাস্যকর ব্যাপার।
পিডিবির হিসাব অনুযায়ী আজকাল পাঁচ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে চার হাজার মেগাওয়াটের মতো। গতকাল শনিবারও পাঁচ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সম্ভাব্য উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল চার হাজার ১৫ মেগাওয়াট।
সর্বোচ্চ ঘাটতি এক হাজার মেগাওয়াট। গভীর রাতে, যখন একমাত্র গৃহস্থালি চাহিদা ছাড়া কোনো চাহিদাই থাকে না, তখন এই ঘাটতি অনেক কমে যায়। তার পরও দেশের সর্বত্র অব্যাহত লোডশেডিংকে অস্বাভাবিক মনে করেন অনেকেই। পিডিবি এবং বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলোর একাধিক সূত্র জানায়, তারাও এর আগামাথা কিছু বুঝে উঠতে পারছে না। (তথ্য : প্রথম আলো)
ঢাকায় বিদ্যুৎ বিতরণকারী অন্যতম সংস্থা ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালেহ আহমেদ বলেন, তাঁর আওতাধীন এলাকায় গভীর রাতেও প্রায় দেড় শ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকে। ফলে লোডশেডিং না করে উপায় থাকে না।
অরেকটি বিতরণকারী সংস্থা ডিপিডিসির পরিচালক (কারিগরি) সিরাজউদ্দৌলা বলেন, ঘাটতি থাকে বলেই তাঁরা লোডশেডিং করতে বাধ্য হন।
এর সমাধান কি?
আমাদের দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান উৎস গ্যাস। যদি গ্যাস সংকট হয় শুরু হয় লোডশেডিং।শিল্প কারখানায় বন্ধ করে গ্যাস সরবরহ হয় পাওয়ার প্লান্টে।তাও রক্ষা হয় না। চলতে থাকে লোডশেডিং। দেখা যাক বিশ্বে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান উৎস সমুহ:
বিশ্বে ৪৪.৯% বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় কয়লা থেকে। গ্যাস থেকে হয় ২৩.৪%, নিউক্লিয়ার ২০.৩%, জলবিদ্যুৎ ৬.৯%, রিন্যুয়াবল ও অন্যান্য বাকিটা।
রিন্যুয়াবল (বাংলাটা সঠিক জানিনা) উৎসটা হচ্ছে সৌর শক্তি, বায়ু (উয়িন্ড মিল) ইত্যাদি। রিন্যুয়াবল উৎসর সুবিধা হচ্ছে প্রাথমিক খরচের পর আর তেমন খরচ নেই। কোন জ্বালানি লাগে না। আর অসুবিধা হচ্ছে এর সাথে ভুমি জরিত। যত বেশী ক্ষমতার উৎপাদন তত বেশী ভুমি। ধরুন সেচের জন্য সৌর শক্তি ব্যবহার করবেন তো একজনের জমিতে প্লান্ট স্থাপন করে আরেকজনের জমিতে সেচ দিতে হবে। তবে বিন্দু বিন্দু করে যেমন সিন্ধু হয় তেমনি লাইট, ফ্যান ছোট ছোট লোড সৌর শক্তির মাধ্যমে দিয়ে বিদ্যুৎ বাচানো যায়। তবে প্রাথমিক খরচের যোগান থাকতে হবে।
জলবিদ্যুৎও রিন্যুয়াবল উৎস। ভুমি -পানি দুটাই আমাদের অভাব।
নিউক্লিয়ার নিয়ে চিন্তা ভাবনা চলছে প্রা ৩০-৪০ বছর ধরে। ভুমিও তৈরি তখন থেকেই আজো বাস্তবায়ন হয় নাই। এই প্রযুক্তির অবশ্যই বাস্তবায়ন করা সময়ের দাবি। অনেক উদ্দোগ নেয়া হয়েছে সফল কতটুক হবে জানিনা। আশায় আছি।
বাকি থাকে কয়লা। আমাদের উন্নতমানের কয়লার খনি আছে।বিশ্বে ৪৪.৯% বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় কয়লা থেকে।সেখনে আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের এর ব্যবহার খুবই নগন্য। কয়লা উত্তোলনে অনেক বির্তক আছে যার কারনে আজও কয়লানীতি চুড়ান্ত হয়নি। কিন্তু বির্তকের ভয়ে যদি কোন মাটির নিচে পরে থাকে তবে লাভ কার? এখন যত পাওয়ার প্লান্ট হচ্ছে সব হচ্ছে গ্যাস নির্ভর কয়লার কোন খবরই নাই।বিশ্বে গ্যাসের ব্যবহার বেশী হয় কল কারখানায় কাচামাল হিসাবে কিন্তু আমরা কল কারখানা বন্ধ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি। ব্যপার দুঃখজনক ও দেশের জন্য ভালো নয়।
তাই অবিলম্বে কয়লা ও নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টের ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্তে আসতে হবে।
আর চাইনা লোডশেডিং।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই আগস্ট, ২০১০ দুপুর ১২:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


