মেয়েটার নাম নাবিলা। স্রেফ এটুকুই জানে নীল।
আর জানে মেয়েটার নগ্ন শরীরের শ্বাসরুদ্ধকর সৌন্দর্য্যের কথা। প্রতিটি তিলের অবস্থান, ত্বকের প্রতি ইঞ্চির রসায়ন , অজানা অচেনা প্রতিটি দেহ-বাঁক। তবুও কয়েক মুর্হুতের জন্য নাফিসাকে ভীষন কুৎসিত লাগে নীলের। কুৎসিত,কদর্য, বীভৎস।
প্রতিবারই অবশ্য এমন হয়, যখন শেষ হয়ে যায় শরীরের ভালোবাসাবাসির পর্ব। শুধু নাফিসা নয়; লিয়া বা অন্য মেয়েদেরকেও এমনটাই লাগে। সাদিয়া, ঝুমা, .... জেরিন..... কিংবা অন্য কেউ।
ভী-ষ-ণ ভালো লাগে সবাইকে। শরীরের সৌন্দর্য্য বেসামাল করে নীলকে প্রতিনিয়তই। শুধু জৈবিক উচ্ছাসটা শেষ হয়ে যাবার পর কয়েকটা মুহুর্ততের জন্য পৃথিবীর সবকিছুকে কুৎসিত মনে হয়। ভীষন-ভীষণ কদাকার।
অবশ্য নীল জানে; বিয়ের রাতে যেদিন মৌ-কে আপন করে পাবে সে,সেদিন আর এমনটা হবে না। পৃথিবীকে মনে হবে অসম্ভব সুন্দর কোনো সংগীতের বাদ্যযন্ত্র। মৌ-য়ের আত্মার সাথে মিশে মিশে যাবে তার জীবন সংগীত ।
অনেক স্বপ্ন তার মৌ-কে ঘিরে।
অনেক, অনেক......... অ-নে-ক।
তার জীবনের একমাত্র ভালোবাসা মৌ, তার স্বপ্ন নারী। পৃথিবী নামক এই গ্রহের শ্রেষ্ঠ সুন্দরী।
"তুমি আমাকে ভালোবাসো, নীল?"মৌ নয়, নাবিলা।
" ভালো না বাসলে তুমি এখানে থাকতে পারতে?"নাবিলার নগ্ন শরীরটাকে নিবিঢ় করে কাছে আরো টেনে নেয় নীল। " তুমি জানো, কতটা সুন্দর তুমি?"
"মৌ-য়ের চাইতে তো আর বেশি নই।"
"তার চাইতে অনেক বেশি।"
"তাহলে মৌ- কে বিয়ে করছো কেন?"
"কি করবো বলো। বিয়ে তো আর আমি ঠিক করিনি, বাবা- মা- করেছে।"
"তাতে কি ? বাবা- মাকে তুমি আমার কথা বলে দাও।"
" বলেও লাভ হবে না।"নির্বিকার নীল,সহজ।
এবং অবশেষে... ....ধোঁকার আলিঙ্গন থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে দ্রুত হাতে শরীরকে পোশাকে আগলায় নাবিলা। দরজা খুলে চলে যায় দ্রুত পায়ে। রাগ করে। হয়তো অভিমানও।কষ্ট পায়।
অবশ্য এসবে কিছু যায় আসে না নীলের। একজন নাবিলা এমন কোনো দু¯প্রাপ্য নারী নয় যে পিছু পিছু ছুটতে হবে। কেউ চলে গেলে যাক। অন্যেরা তো আছেই।
শেষ বিকেলের আকাশ ক্রমশ অন্ধকার হয়ে ফুটতে শুরু করে একটা দুটো নত্রের আভাস। ব্যস্ত সড়কের কোলাহল ক্রমশ উচ্চগ্রামে ওঠে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে। তবুও এলোমেলো শুয়েই থাকে নীল। শরীর জুড়ে জৈবিক উচ্ছাসের কান্তি, অথচ পরিতৃপ্তি অনুপস্থিত।
ঠিক যেমন অনুভবটা একটা ছবি শেষ করার পর হয়। একটুও পরিতৃপ্তি পাওয়া হয় না। কেবল কান্তি। একরাশ কান্তি! তৃষ্ণা মেটাবার আকাঙ্খায় মন রয়ে যায় আরও বেশি পিপাসার্ত । কান্ত, তৃষ্ণার্ত।
মোৎসার্টের বাজনাটা যেন বাজতে শুরু করে সময় বুঝেই। মোবাইলের ধাতব শরীরে এসে উপস্থিত হয় আফসানার অস্তিত্ব। কল রিসিভ করে নীল। অপর প্রান্তে নিশ্চুপ আজ ঝর্নার কলকল আওয়াজ । নীরব, নিঃস্তব্ধ।
"কথা বলিস না কেন ?"
" কি বলবো?"
" তাহলে ফোন করলি কেন?"
" জানি না..............'
বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সংযোগ। আর নীল অপেক্ষা করে।
যদিও ফোন আর আসে না । আসেই না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


