somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শুধু তোমার কারণে.. .. ..১০ম পর্ব

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দুপাশের জানালা গুলোতো পাল্লা দিয়ে ঢুকছে আর্দ্র বাতাস। ভেজা, মাটির গন্ধ মাখা সুবাস।
এ হাওয়ার পথ রোধ করে দেয়া উচিত, জানে নীল। কারণ এটা তার বাড়ি নয়, স্টুডিও যেখানে সামান্য একটু পরিসরে সে নিজের ঠাঁই করে নিয়েছে। আর্দ্র বাতাস ছবিগুলোর সর্বনাশ করে দেবে চিরতরের জন্য।
মৌ দাঁড়িয়ে ছিল জানালার ধারে। বৃষ্টি শুরু না হলে নাকি এখান থেকে এক পাও নড়বে না সে। অবশ্য সত্যিকারের কারণটা হচ্ছে লোডশেডিং। অন্ধকার সিড়ি বেয়ে নামতে বেচারীর ভয় করবে। নীলের ঘরে সামান্য একটা মোমবাতি পর্যন্ত নেই।
প্রেমিকার পাশে এসে দাঁড়ায় নীল।
বাতাসের বেগটা বাড়ছে ক্রমশ , বুঝি ঝড় আসবে। সমস্ত রাস্তা এপাশ ওপাশ অন্ধকার, শুধু সারবাঁধা দোকানগুলোতে জ্বালানো মোমবাতির আলোটুকই ভরসা। রাস্তায় লোক চলাচল কমছে। ক্রমশ।
বাতাসের বেগ প্রবল হলো আরেকটু। আর সমস্ত মোমবাতি গুলো নিভে গেল একসাথে। তবুও দেখতে পেল নীল.. .. .. দেখতে পেলো তাকে।গাঢ় অন্ধকারের মাঝেও চোখ যেন খুঁজে নিল তাকেই। কেবলমাত্র তাকে!
মার্সিডিজটা থেকে একটু ব্যবধানে দাড়িয়ে সে।আপাদমস্তক কালো পোশাকে ঢাকা নারী মুর্তি- যেন ছায়া মানবী কোনো। মাথায় জড়ানো ওড়নাটার এক প্রান্ত দিয়ে মুখটা ঢেকে দাড়িয়ে আছে সে। বাতাসে উড়ছে তার পরনের পোশাক, ওড়না, মাথার দীর্ঘ কালো চুল। আর স্থির চোখ জোড়া চেয়ে আছে এদিকেই।
স্থির অপলক!
এত উঁচু থেকেও সেই চোখ জোড়াকে কি করে স্পর্ষ্ট দেখতে পেলো জানে না নীল। দেখতে পেলো তার পায়ের হালকা চটিজোড়া আর সোনার নুপুর; আকাশের কালচে নীল রঙটার ছড়িয়ে পরা তার সমস্ত শরীরে; বাতাসে তার পরনের পোশাকের তীব্র নাচন।
স্পষ্ট দেখতে পেলো তাকে। শান্ত, অবিচল।
এবং সেই ছায়ামানবী তাকিয়ে ছিল সরাসরি ওপর দিকেই। নীলের দিকে তাকিয়ে ছিল!
সহ্য করতে পারে না নীল। একটুও সহ্য করতে পারে না। নিজের ওপর রাগ হয়, নিজেকেই ঘৃনা হয়। কেননা তারও ভীষন ইচ্ছা করে.............
ইচ্ছা করে সেই অপলক চোখ জোড়ায় দৃষ্টি রেখে দাঁড়াতে। এক্ষুনি, এই মুর্হুতে ক্যানভাসে বন্দী করে নিতে এই ভয়ংকর সুন্দর দৃশ্য।এবং নিজেকে ফেরাতে পারে না নীল কিছুতেই, বোঝাতে পারে না।
ক্রমশ অবুঝ হয় মন। অস্থির হয় এক ছুটে ক্যানভাসের সামনে গিয়ে দাঁড়াবার জন্য। আঙ্গুলেরা অস্থির হয়ে ওঠে রঙের উচ্ছাসে নিজেকে ভেজাতে, স্পর্শ পেতে ব্রাশের শরীরী ভালোবাসার।
এবং একটা দুটো জলকনা নামতে শুরু করে মেঘের অবয়ব ভেঙ্গে!
বাতাসের বেগ বাড়তে থাকে আর বাড়তেই থাকে। জল কণারা বেড়ে যায় সংখ্যায়,কিন্তু সে দাঁড়িয়ে থাকে স্থির।তাকিয়ে থাকে........ ঠিক তেমনি করেই।
উফ! অসহ্য!
............. অসহ্য!!
কারণ নিজেকে অতিক্রম করে ত পারে না নীল। আর অতিক্রম করতে পারে না বলেই মৌ-কে টেনে নেয় কাছে। আলিঙ্গনে জড়িয়ে নিবিড় করে ভালোবাসে । আর অনেক দুরের ব্রজ্রপাতের ঝাপসা আওয়াজটা মিশে মিশে যায় তার হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দনের সাথে.....
তবুও আফসানাকে দেখতেই পায় সে। মৌয়ের অধরে ঠোট ছোঁয়াবার পরেও নীল স্পষ্ট দেখতে পায় তাকে। অবিচল দাঁড়িয়ে আছে সেই কৃষ্ণবরণ প্রস্তর মুর্তি আগের মতোই।
নীলের দিকে তাকিয়ে আছে!


বৃষ্টি ভেজা রাস্তা, সম্পূর্ণ মনযোগ থাকা উচিত সেদিকেই। তবুও সামনের ছোট আয়না টুকুয় বড় আপার প্রতিবিম্ব থেকে চোখ ফেরাতে পারে না শফিক। ড্রাইভিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে প্রায়ই আড় চোখে তাকায়।
বৃষ্টিতে একদম ভিজে গেছে সে। বসে আছে স্থির। শুধু চোখজোড়া বেয়ে নামছে বিন্দু বিন্দু জলকণা; ঠিক বৃষ্টি বিন্দুর মতো। একটুও আওয়াজ হচ্ছে না। সামান্যতমও না। যেন কোনো প্রতিমার পাথুরে চোখ বেয়ে গড়াচ্ছে সত্যিকারের অশ্রু।
ভীষন মন খারাপ হয় শফিকের। কেন কে জানে!
‘বাসায় যাবো, আপা?’
‘চলো!’
‘অফিসে আর ফিরবেন না?’
‘যেতে হলে রমিজ মিয়াকে নিয়ে যাবো। তুমি আজকে বাসায় চলে যাও।’
‘অসুবিধা নেই, আপা। আমি আছি।’
‘আমি একবেলা অফিস না গেলে কিছু হবে না। তুমি বাসায় না ফিরলে হবে। তোমার মেয়েটা বাবার জন্য অপেক্ষা করছে।]
মনটা আরও খারাপ হয় শফিকের। এত ভালো কেন এই মানুষটা? কেন এত ভালো? সকলে তাকে খারাপ বলে- বড় সাহেব, ম্যাডাম, দুলাভাই, ছোটআপা। কিন্তু মানুষটা তো কারও কোনো ক্ষতি করেনি। সে শুধু সবার মধ্যখানে নিজের মত বেঁচে থাকে,নিজেকে গুটিয়ে বেঁচে থাকে।
নিজের মত বাঁচতে চাওয়াটাই তবে অপরাধ?????

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:২২
৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×