somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অপরিপূর্ণ (ফাটাফাটি) গল্প ...... (পর্ব - 5)

১৯ শে অক্টোবর, ২০০৬ বিকাল ৫:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পূর্বে প্রকাশিত অংশ

: হ্যালো
: কেমন আছো 'জরিমানা'?

: ভালো, তুমি?
: এইতো চলে যাচ্ছে...। কতোক্ষণ সময় দিতে পারবে?

: তুমি কতোক্ষণ চাও?
: তোমাকে না বলেছি একটা প্রশ্নের উত্তর কখনো আরেকটা প্রশ্ন দিয়ে দিবেনা আমাকে! কথা শুনোনা কেন?

: হাহাহা, তোমার কথা শুনলেতো তুমি ক্ষেপবে না, আর তোমাকে না ক্ষেপাতে পারলে কথা বলে মজা কোথায়?
: আমি যে ক্ষেপি সেটাই বা বুঝলে কী করে?....

: কতোগুলো দিন পর তুমি আমাকে শুনতে চাইলে.... এতোদিন পর মন চাইলো তোমার?
: ..... মন যে চেয়েছে সেটা কি বলেছি?

: নাহ্, তা অবশ্যি বলোনি! আচ্ছা তুমি আমার সাথে এমন ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কথা বলো কেন জিলাপীর মতো!
: হাহাহাহা...

: আরে হাসো কেন ভিলেইনের মতো, আজ্জবতো!
: না ভাবছিলাম আপনার সাথে হিজ এক্সিলেন্সী, হার এক্সিলেন্সী স্টাইলে কথা বলা শুরু করবো কিনা!

: তাও করতে পারেন, আপনাকে দ্বারা এটাও মানায়...। কিন্ত হাসিটা যে সেই জন্য দেননি এটা আপনার মতো এম্পটি হেডও বুঝবে!
: আমারে এম্পটি হেড বললা?

: নতুন করে বললাম নাকি, এটা তো গেলো পাঁচ বছর ধরে শুনে আসছো! আহারে কষ্ট পেয়ো না, কানাকে কানা আর খোঁড়াকে খোঁড়া বলতে নেই, ভুল হয়ে গেছে মাফ চাও...।
: কে মাফ চাইবে, ফাইজলামী করো? যাহ্ দূরে গিয়া কান ধইরা খাড়ায়া থাক্...।

: হাহাহা, এইতো তুমি ক্ষেপছো, কী মজা! আচ্ছা একটা শব্দ পাচ্ছি, সেটা কিসের?
: পিয়ানোর, পিয়ানো শুনছি...। অদ্ভুত রকমের সুন্দর জানো, মন খারাপ থাকলে আরো খারাপ করে দেয়, ভালো থাকলে আরো ভালো করে দেয়!

: সেদিন একটা প্রোগ্রামে তোমার শাড়িটা পড়তে গিয়েও পড়লাম না, যদি পুরাতন হয়ে যায়!
: আমার শাড়ি?

: ঈশ, আবারো প্যাঁচায় রে!
: প্যাঁচালাম কই, কাউকে কোন জিনিষ দিলে সেটা আর তার থাকে না, যাকে দেয়া হলো তার হয়ে যায়...

: আচ্ছা, তোমার দেয়া আমার শাড়ি, হলো এবার প্যাঁচানো মহারাজ?
: হুমমম

: জানো, প্যাকেটটা এখনো রেখে দিয়েছি। .... ... সবুজ প্যাকেটে মোড়া নীল আকাশ!
: ... ... ... সর্দি লাগিয়েছেন কী করে! মনেতো হচ্ছে কথা বলতে অসুবিধা হচ্ছে, রেখে দেই?

: রেখে দিলে দিতে পারো তোমার ঘুমের ডিস্টার্ব হলে, আমার নাক বন্ধ হলেও অতোটা খারাপ লাগছে না!
: খারাপ লাগলে বলো....

: হাহাহা... বললে কী করবা?
: রেখে দিবো, আবার কী করবো?

: প্রথম দিকে তুমি যখন হঠাৎ নাই হয়ে গেলা, প্রথমদিন সারাটা বিকেল তোমার জন্য অপেক্ষা করলাম তুমি এলে না। পরদিন ভাবলাম আজতো অবশ্যই কথা হবে, কিন্ত হলো না। তুমি আসলে না....।
: কেনো আমি তো মাইক কে বলেছিলাম যেনো তোমাকে জানিয়ে দেয়...

: ও জানিয়েছে। কিন্ত ও জানানোর আগেই আমি জেনে গিয়েছিলাম। কী করে সেটা জিজ্ঞেস করো না, ওটা তোমার এম্পটি হেডে ধরবে না!
: হাহাহা: আমার অবাকই লাগে তুমি কতো বড় হয়ে গেছো। খুবই স্বভাবিক কিন্ত ভাবতে কেমন যেন লাগে। ঈশ কতো গুলো দিন... ... ...

: হুমমম, আসলেই অনেক গুলো দিন....


অন্ধকার ঘরে বসে সেই অনেক গুলো দিন আগে বাঙলা একাডেমির সামনের চুড়িওয়ালার ঝাঁপি থেকে কেনা নীল রঙের চুড়ি গুলো হাতে নিয়ে, শিপলুর সাথে হওয়া শেষবারের কথোপকথনটার অস্তিত্ব মাথার ভেতর টের পাচ্ছিলো শুভ্রা। মাথার ঠিক ভেতরে যেন কুট কুট করে শিপলু কথা বলে যাচ্ছে, এখনো জীবন্ত... মনে হচ্ছে যেন সামনে বসেই কথা বলছে, নি:শ্বাসের শব্দও শুনতে পাচ্ছে সে, কিন্ত ঘর অন্ধকার বলে শিপলু কে সে দেখতে পাচ্ছে না...।

: নাজমা, এখানে একটা মোমবাতি দিয়ে যেও তো!

এতোক্ষণে শুভ্রা খুব হালকা স্বরে নাজমাকে ডাকলো। আগেই বলেছি অন্য সময় হলে চেঁচিয়ে সারা বাড়ি মাথায় তুলতো মোমবাতির জন্য। কিন্ত আজ, আজকের এই বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যা, ভিজে যাওয়া পৃথিবী, উড়ে চলা সিফনের আঁচল, বেপরোয়া এলোচুল- সব কেমন যেন এলোমেলো করে দিয়েছে তাকে। এতোদিনের বন্ধ থাকা দরজার কপাট গুলো সশব্দে খুলে যাচ্ছে একের পর এক। সযত্নে আগলে রাখা দরজার খিলগুলো ধরে রাখার কোন চেষ্টাই আজ করছে না শুভ্রা। একটা দমকা হাওয়া এসে সব উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে...।সময়ের সাথে দৌড়ে সে ক্লান্ত আজ! প্রশান্তি চাই আজ তার, পরম শান্তি। বকুল তলার সেইদিন গুলো, ডাসের আইল্যান্ডে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটানো সময় গুলো, শিপলুর সাথে খিটমিটানো সেই সময়ের শান্তি গুলো চাই তার...!


-:পথচলা হয়নিকো শেষ এখনো :-
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০০৭ রাত ১২:৩৬
১৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×