মুজাহিরুল হক রুমেন-
আপনি আধুনিক বাংলিশ বাঙালি হতে চান। তাহলে কোন চিন্তা নেই। কারন বাংলিশের আজব লিলা আর উশৃঙ্খলতা আপনার ঘরে পৌছে দেয়ার জন্য সর্বদা আপনার আশেপাশে উকি দিচ্ছে- বাংলিশ ভাসমান বিশ্ববিদ্যালয় (এফএম রেডিও)। ভাসমান শব্দটা ঢাকায় বেশি শোনা যায় যে বিষয়ে, নিশ্চিয়ই আপনার মনে সে ব্যাপারটা আসছে, হ্যা আপনি ঠিকই ধরেছেন। বাংলিশের সাথে ভাসমান যৌনতার একটা সম্পর্ক আছে। এটাকে আপনি মায়ের মুখে ছাই দিয়ে পরশির বাড়িতে দুধ কলা নিয়ে যাওয়ার সাথেও তুলনা করতে পারেন।
যা'ই হোক মূল প্রসঙ্গে আসি। বাংলিশ চর্চায় যারা এতোদিন চুলজ্জায় ভুগতেন। তাদের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছেন এ দেশের খ্যাতিমান কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ। বাহ, নামটা শুনেই কেমন সাহস সাহস অনুভূতি জাগছে। তাইনা। বাংলা বেচে যাদের খাওয়ার ইচ্ছা তারা এদেশের কতিপয় লেখক-কবিকে গালাগাল দেয় তাদের সাথে দ্বিমত করার কারনে। তারা এমন কোন লেখক বা কবিকে বহুদিন ধরে খুজছিলেন, যে কিনা তাদের পক্ষে বাংলাকে বিকৃত করে বাংলিশ এদেশের আউশ-আমন ধানের মতো নিজস্বতাকে বিকিয়ে বিআরসহ নানা বিদেশীজাত আনার পে কাজ করবে। তাদের জন্য সুখবর হলো- আর খুঁজে বেড়াতে হবেনা তেমন বিখ্যাত কাউকে। এমন মহান কাজটি করেছে চ্যানেল আই। তারা তাদের ুদে গানরাজ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ অসাধ্যকে সাধন করেছে।
ুদে গানরাজ অনুষ্ঠানের পার্টনার হলো রেডিও টুডে। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করছে রেডিও টুডের এক বাংলিশ উপস্থাপক। আরেকটি বিষয় রেডিওতে যারা অনিচ্ছা সত্যেও অনুষ্ঠানের খাতিরে বাংলিশ শুনতেন আর হাত নিশপিশ করতেন। ইচ্ছা থাকলেও কিছু ছুড়ে মারতে পারতেননা তাদের জন্য এক টুকরো সুখবর আছে। আপনার মনের ঝাল মেটাতে এখন টিভির পর্দায় আপনি বাংলিশ বিশেষজ্ঞকে দেখতে পাবেন। ইচ্ছা করলেই তার উদ্দেশে ঘরের বিভিন্ন সামগ্রী ছুড়ে মারতে পারেন দেয়ালে। সতর্ক বাণী হলো- সাবধান টিভি উপর কিছু ছুড়ে মারবেন না।
যা’ই হোক অনুষ্ঠানটি সম্পর্কে বলি। প্রতিভাবান শিশু শিল্পী খুজতে নামা এই চ্যানেল কতৃপ রবীন্দ্র নাথ ও নজরুল মেলা করলেও এদের প্রাণের ভাষা বাংলিশ। এর পেছনে একটা যৌক্তিকতাও আছে, আর সেই যুক্তি হলো আধুনিকতা। বিশ্ব কবি ও বিদ্রোহী কবির বাংলা বড় পুরনো। তাই আধুনিক চ্যানেলের আধুনিকতা বোঝানোর জন্য দরকার সময়-অপযোগী নতুন ভাষা। আর এমন চিন্তা ভাবনার জন্য বাংলিশের বিকল্প তো এখন পর্যন্ত কিছু নেই। তাই কেউ কোন দিন তাদের দোষারোপও করতে পারবেনা।
আর দোষারোপ করা উচিৎও হবেনা। কারন আধুনিক পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে শফিক রেহমান এদেশে বাংলা পত্রিকার বিভিন্ন্ পাতার নাম বাংলিশেই করেছিলেন। তাতে কেউতো তাকে জরিমানাও করেনি। কটু কথাও বলেনি। আর স্বাআধিনতা বলে একটা কথাতো আছেই। সংবাদপত্র নতুন কিছু করতে পারবে আর টেলিভিশন চ্যানেল কি বসে বসে আঙ্গুল চুষবে।
আপনি যা’ই বলেন বাংলিশ ভাষার উপকারিতা অস্বীকার করা যায়না। বাংলিশ ভাষার একটা উ-পকারিতার কথা খুব মনে পড়ছে। আমার এক সচিব বড় ভাই কোন একটা অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহনে জার্মানি গিয়েছিলেন। বিভিন্ন দেশী অংশগ্রহনকারীদের সাথে দুপুরের খাবার খাওয়া অবস্থায় তার মুঠো ফোনে একটা বার্তা আসলো। বার্তা সংকেত শুনে পাশে বসা এক শ্রীলংকান বন্ধু প্রশ্ন করলো বার্তা কি বউ পাঠিয়েছে। তিনি বললেন, হ্যা। তারপর তার উৎসুক বন্ধুরা সেই বার্তা পড়তে চাইলো তিনিও নির্দিধায় তা পড়তে দেন। কিন্তু বার্তা পড়তে গিয়ে বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞরা কোন শব্দের মানেই বুঝতে পারছিলেননা। এক পর্যায়ে ইংরেজি অভিধান নিলেন শব্দার্থ উদ্ধারে। কিন্তু তাতে কোনই লাভ হলোনা। দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর তার কাছে রহস্য জানতে চাইলে তিনি সেই রহস্যের সমাধান না করে একাই হাসলেন বাংলিশ বার্তা নিয়ে।
যা'ই হোক মুল কথায় যাই। চ্যানেল আই এর ওই অনুষ্ঠানে দুই বিশেষজ্ঞ বিচারক হলেন হুমায়ুন আহমেদ ও তার সহধর্মীনী মেহের আফরোজ শাওন। শাওন নিজে গান করেন। হুমায়ুন আহমেদ গান লেখেন। শাওন সব ধরনের গানের প।ে কিন্তু হুমায়ুন আহমেদ ব্যান্ড সঙ্গীতের চরম বিরোধী। ব্যান্ড সঙ্গীত নিয়ে বিভিন্ন বিরূপ মন্তব্য করে থাকেন হুমায়ুন আহমেদ। সেটা তিনি করতেই পারেন। কারন তিনি আধুনিক লেখক। সে অর্থে ব্যান্ড সঙ্গীতের চেয়ে অধিক আধুনিক বাংলিশ ভাষা। তাই তো তিনি মুখ চোখ কুচকে ব্যান্ড সঙ্গীত সম্পর্কে নানা নেতিবাচক মন্তব্য করেন। আর ভাল লাগে হেসে হেসে বাংলাকে বিকৃতভাবে নতুন আঙ্গিকে উচ্চারণ। উপস্থাপকের সব কথার উত্তর তিনি যে আনন্দের সাথে দিচ্ছিলেন তাতে মনে হয়েছে কখনো সম্ভব হলে তিনি বাংলিশ ভাষায় লিখতেও পারেন।
দেশ বরেণ্য এমন ব্যক্তিত্বকে বাংলিশের সাথে পেয়ে মনে সাহস জন্মানোটাই তো স্বাভাবিক। সর্বশেষ একটা কথা বলছি বাংলিশ প্রেমিকদের এর পর যদি কেউ বাংলা দরদী হয়ে বড় বড় কথা বলে তাহলে আপনি বড় করে হুমায়ুন আহমেদও যে আপনার পে আছে তা স্মরণ করিয়ে দেবেন। ব্যস, এর পর আর কোন মুখে আপনার সাথে কথা বাড়াবে সে ? আপনাকে এ কথা বলতে বলতে একটা কথা মনে পড়লো। আমরা তখন বিলের ধান উঠে গেলে ক্রিকেট খেলতাম। আমাদের এক বন্ধু সেখানে প্রায়শই আম্পায়ার থাকতো। সে মাঝে মধ্যেই ব্যাটসম্যানদের উল্টাপাল্টা আউট দিতো। তারপর ব্যাটসম্যান আপত্তি জানালে বলতো আমি না হয় তোমার নামে মিথ্যা বললাম। কিন্তু এই এগারোজন (ফিল্ডিংয়ে থাকা) কি তোমার নামে মিথ্যা কথা বলে? তেমনি করে আপনিও বলতে পারবেন বাংলিশ যদি ভাল না’ই হতো তা হলে কি আর হুমায়ুন আহমেদও এর পে থাকেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


