সেদিন বিআরডিবি’র ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের উপজেলা কর্মকর্তা পদে চাকরির মৌখিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে এলাম।
আমার বাবা সারা জীবন বিআরডি’তে চাকরি করার কারনে সিনেমার ঘটনার মতো চাচ্ছিলেন আমি যেন তার এক সময়ের কর্মক্ষেত্রে কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করি।
আমার ইচ্ছা না থাকলেও বাবার ইচ্ছার প্রতি গুরুত্ব দিয়েই লিখিত পরীক্ষার পর গিয়েছিলাম মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহনের জন্য।
মৌখিক পরীক্ষায় পরীক্ষকের সম্মুখীন হতেই প্রথম প্রশ্নটি হলো বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে তুমি কি জানো?
তাকে খুশি করার জন্য না বললেও বলতে ইচ্ছা হলো বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে আলাদা আলাদা ব্যাখ্যা করি। মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কামন্ডারদের চোখে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বলি, আসম আবদুর রবের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করে বলি।
কাদের সিদ্দিকী ও শাজাহান সিরাজের ভাষায় বলি..। কিছুই বলা হলোনা। আমাকে চুপ দেখে বললেন। বঙ্গবন্ধুর জন্ম-মৃত্যু সম্পর্কে বলো..
দিলাম উত্তর, তারপর বললেন ঠিক আছে যাও।
আমি বেরিয়ে একটা ফোন পাই, প্রতিষ্ঠানটির একেবারে উপরের একটি জায়গা থেকে। বঙ্গবন্ধুর যে উত্তরসূরী নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করছেন।
তিনি জানান, উত্তরসূরীর তালিকা কর্মকর্তাদের হাতে পৌছেছে। তার বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। চাকরিটা হচ্ছেনা নিশ্চিত হয়ে আমি আনন্দিত হলেও বাবা মনে খুব কষ্ট পেলেন।
তিনি চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুকে যারা ধারন ও বাহন করেন তাদের আশির্বাদ নিতে। তাতে নজরানা দিতেও রাজী ছিলেন। আমি আমার বর্তমান পেশা ছাড়তে চাইনি। আর নিজে জ্বালানি বিটে কাজ করার কারনে যত্রতত্র তেল-গ্যাস খরচে আমার ভীষন অনিহা। মাত্র কয়েক দিন আগেই হোসেন মনসুর ও তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী ঘোষণা করেছেন বাসা বাড়িতে আর নতুন সংযোগ দেয়া হবেনা।
যা’ই হোক, বাবা বারবার বলেন, আমি বললাম তুই আমার কথা শুনলিনা। তিনি ব্যথিত। আমিও সমব্যথির অভিনয়ে বলি আমার ভুল হয়েছে। আর মনে মনে হাসি।
নিজের মনে প্রশ্ন জাগে- চাকরি, প্রশ্ন, বঙ্গবন্ধু, চাকরিপ্রাপ্তদের তালিকা, মেধা আর যোগ্যতা!!!!!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

