somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দিবস এবং পরিবর্তনের প্রাসঙ্গিকতা

০১ লা জুলাই, ২০১২ রাত ১২:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯২১ সালের এই দিন থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করলেও এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে প্রকাশ্যে ও অন্তরালে যারা অনন্য ভুমিকা রেখেছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শুরু করছি।
১৯২০ সালের ২৩ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের অধীনে পরের বছর ১৯২১ সালের ১ জুলাই থেকে ৩টি অনুষদের অধীনে ১২ টি বিভাগে ১১০৫ জন ছাত্রছাত্রী(১জন ছাত্রী)এবং ৩ টি আবাসিক হল নিয়ে কার্যক্রম শুরু হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আজ তার শিক্ষা কার্যক্রমের ৯১ বছর পুর্ণ করছে অর্থাৎ বর্তমানে শত বছর পুরনের দ্বারপ্রান্তে। ঢাকা শহর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে পূর্ববঙ্গ তথা বাংলাদেশের মুসলিম মধ্যবিত্ত শ্রেনীর বিকাশে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি অগ্রনী ভুমিকা পালন করেছে। মুসলমানদের মধ্যে মধ্যবিত্ত শ্রেনীর যে শুন্যতা ছিল তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ক্রমান্বয়ে দূর হতে থাকে।এই বিকাশমান মধ্যবিত্ত শ্রেনীর হাত ধরেই প্রতিষ্ঠা পায় বাংলাদেশ নামক বাঙালি জাতীয়তাবাদ ভিত্তিক অসাম্প্রদায়িক এবং স্বাধীন একটি রাস্ট্র। ব্রিটিশ প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বাঙালিদের গুরুত্ব অনুধাবন হওয়ায় অথবা প্রশাসনে প্রয়োজনীয় দক্ষ ও শিক্ষিত লোকবলের চাহিদার নিমিত্তেই মুলত ব্রিটিশরা এই বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপন করেন। অবশ্য স্থাপনের অন্যান্য প্রাসঙ্গিকতাও অশেষ গুরুত্ব বহন করে।
এক্ষেত্রে বঙ্গভঙ্গ এবং বঙ্গভঙ্গ রদ এই দুটি ঘটনা নিয়েও একটু আলোচনা করা সমিচীন। কেননা, সেই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ যাই হয়ে থাকুক পরবর্তীতে বিভিন্ন ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষনে ব্রিটিশ রাজের নেওয়া স্বিদ্ধান্তগুলো ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। ব্রিটিশরা বঙ্গভঙ্গ করেছিল মুলত বিশালাকার বাংলা প্রদেশের শাসনগত সমস্যা সহজ করার জন্য। এটি কোনোভাবেই কোনো পক্ষের দাবীর প্রেক্ষিতে ঘটেনি। কিন্তু বঙ্গভঙ্গের পরে দেখা গেলো এই বিভাজনে পূর্ববঙ্গ এবং আসাম মিলে একটা প্রদেশ হওয়াতে এবং ঢাকা রাজধানী হওয়াতে ঢাকা শহরের শিক্ষিত ও ধনাট্যদের এবং সাধারনভাবে পূর্ববঙ্গের শিক্ষিতশ্রেণীর সরকারী চাকুরী এবং ব্যবসা বানিজ্যের দ্বার কিছুটা উন্মুক্ত হয়েছে। কিন্তু এই বিভাজনকে ভারতবর্ষের অধিকতর সচেতন শ্রেনী মেনে না নেওয়ার দরুন সৃষ্ট অসন্তোষ এবং উদীয়মান স্বদেশী জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশে ধারায় আন্দোলনের ফলে পুনরায় বঙ্গভঙ্গের স্বিদ্ধান্ত রহিত করা হয়। যদিও পূর্ববঙ্গের যারা ভেবেছিল এই বিভাজনের ফলে তাদের অধিক সুবিধা হবে তারা বঙ্গভঙ্গের স্বিদ্ধান্ত বহাল রাখার জন্য দেনদরবার তথা আন্দোলন করেছিল। কিন্তু ঐ যে, ব্রিটিশ রাজ বঙ্গভঙ্গের স্বিদ্ধান্ত যেমন কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নেননি, ঠিক তেমনি কারো আন্দোলনের দরুন স্বিদ্ধান্ত বহালও রাখেন নি। অপরাপর অনেক প্রশাসনিক স্বিদ্ধান্ত গ্রহন ও বাতিলের মতোই এক্ষেত্রেও তারা তাদের প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গীই কাজে লাগায়। উপরন্তু এই বিভাজনের ফলে ব্রিটিশ রাজ উপলব্ধি করে যে, ভারতবর্ষের হিন্দু অথবা মুসলমান এদের কোনোপক্ষেরই এমন কোন সক্ষমতা নেই যে, তারা একটি অখন্ড জাতীয়তাবাদী মোর্চা গঠন করবে। এরই মধ্যে বিশ্বব্যাপী শুরু হয় প্রথম মহাযুদ্ধ, ভারতবর্ষের হিন্দু-মুসলমানরা সমঝোতার প্রয়োজন উপলব্ধি করে ১৯১৫সালে লক্ষনৌ চুক্তি করে এবং ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে ঐক্যবদ্ধ অসহযোগ আন্দোলন ইত্যাদি সংকট এবং ভারতীয় রাজনৈতিক বাস্তবতা দ্রুত উপলব্ধি করে ব্রিটিশ রাজ বলতে শুরু করে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়টি বঙ্গভঙ্গ রদের ফলে অপুরনীয় ক্ষতিসাধনে মুসলমানদের জন্য একটি চমৎকার রাজকীয় ক্ষতিপুরন হিসেবে চিন্তা করা হয়েছিল’। অথচ দেখা যাচ্ছে, যে সময়ে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন হয়েছে তখন ভারতবর্ষের হিন্দু-মুসলমান একত্রিত হয়েছে ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দাবীতে। কিন্তু ব্রিটিশ রাজ এই একত্রিত হওয়াকে কোনোভাবেই মেনে নিতে না পেরে তাদের শাসন ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে বঙ্গভঙ্গ ও রহিতকরন বিষয়ে সৃষ্ট হিন্দু-মুসলমান মনোমালিন্যকে পুনরায় জাগিয়ে তুলতেই এহেন প্রচারনা চালায়। তাদের এই হীন উদ্দেশ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য’র বক্তব্যেই বুঝা যায়।পি জ়ে হার্টগ বলেছিলেন, ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অধ্যয়নই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম মুল লক্ষ্য হবে। সেজন্য তিনি একজন ইউরোপীয় অধ্যাপককে ইসলামিক স্ট্যাডিস বিভাগের প্রধান হিসেবেও নিয়োগের সুপারিশ করেন। ইংরেজদের এহেন প্রচারনা ও কার্যক্রমের দরুন সর্বসাধারন্যে ধারনা জন্মায় যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পূর্ববঙ্গের মুসলমান সমাজের তরুনদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি পায়। ইংরেজ প্রতিভুগন অধিকতর সচেতনতার সঙ্গে বুঝেছিল যে, নবজাগ্রত মুসলিম জনগোষ্ঠীর যত না দেওয়া উচিত আধুনিক বিজ্ঞানের জ্ঞান, তারচেয়ে বেশি দিতে হবে ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের জ্ঞান। তবে বাস্তব সত্য হলো ১৯৪৭ নাগাদ যে তথ্য পাওয়া যায়, সেখানে স্পস্টত মুসলিম ছাত্র সংখ্যা অনেক কমই ছিল। এরচেয়েও সত্য হলো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্দেশ্য হয়ত কিছু শিক্ষিত কেরানী তৈরিই ইংরেজদের মনোবাসনায় থাকতে পারে, তবে বঙ্গভঙ্গ ও রহিতকরনের ফলে উদ্ভুদ হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের অবনতিতে ধুরন্ধর ইংরেজরা হিন্দু-মুসলমান উভয় পক্ষকেই কৌশলে কাছে টানতা যেখানে যা বলা দরকার সেটাই বলেছে। এবং হিন্দু-মুসলমান উভয় পক্ষের জ্ঞানী ব্যক্তিরাই নিজেদের প্রাপ্তির স্বপক্ষে সাফাই গেয়েছে নিরলস। শুরুটা এভাবেই করেন। তবে বাস্তবতা হলো, দুনিয়ার সব দেশের শিক্ষাসহ দেশের সকল স্তরেই উন্নয়ন শাসক শ্রেনীর মাধ্যমেই ঘটে। কাজেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ইংরেজ শাসকদের স্বাভাবিক শাসন ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই ধরে নেওয়া যায়। তবে যেকোন দেশেই স্থান, কাল পাত্র ভেদে যেমন কিছু উৎসাহী থাকে এইক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।
এই বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপনের কাজ শুরু হয় ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের স্বিদ্ধান্ত গ্রহনের অব্যবহিত পরেই। ১৯১২ সালেই ব্রিটিশ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব দেয় এবং একটি সাংগঠনিক কমিটি গঠন করে। সে মোতাবেক ব্রিটিশ রাজের নিয়ন্ত্রনাধীন ইন্ডিয়া সরকার ১৯১২ সাল থেকে একটি ফান্ড গঠন করে টাকা জমাতে শুরু করেন। ১৯২০-২১ সাল নাগাদ এই টাকার পরিমান প্রায় ৬০লক্ষতে পরিনত হলেও প্রতিষ্ঠার সময়ে বেঙ্গল সরকার সেই টাকা বিশ্ববিদ্যালয় গঠনে ব্যয় করেনি এবং পরবর্তীতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডে ফেরত দেয়নি। ১৯২১-২২ সেশনে সরকার মাত্র ৭ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ দেয়। এক্ষেত্রে প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের তথ্যমতে, “সেটেলমেন্ট রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে যে যায়গায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে এর পুরো জমিই সরকারী খাস জমি। ঢাকার নওয়াবরাতো নয়-ই অধিকন্তু ঢাকার কোন মুসলমান ধনীর কাছ থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সরাসরি কোন অর্থনৈতিক সহযোগিতা পায়নি। এমনকি, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের নামকরনটিও হল নির্মান হওয়ার পরে করা হয়েছে এবং এটাতেও নওয়াবদের কোন আর্থিক অনুদান ছিলনা।”
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পূর্ববঙ্গ মানে আজকের বাংলাদেশ ধর্মগতভাবে মুসলিম প্রধান পাশাপাশি কৃষক প্রধানও। তিরিশ দশকে দেখা গেছে এই প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নকালীন ছাত্রদের বড় অংশটি ক্ষুদ্র তালুকদার ও কৃষকের সন্তান। ছাত্রজীবন শেষ করে এখানের ছাত্ররাই বিভিন্ন ক্ষেত্রে তথা পেশাজীবী মধ্যবিত্ত স্তরের সকল স্তরে এরা নিযুক্ত হন এবং কালক্রমে এদের নিয়েই গড়ে উঠে নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেনী। তারাই চল্লিশ ও পঞ্চাশের দশকে এই অঞ্চলের একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে উঠে। এভাবে ১৯৪৭ সালে নবগঠিত পাকিস্তানের পূর্ব অংশে একটি শক্তিশালী মধ্যবিত্ত শ্রেনীর ভিত স্থাপিত হয়। অবশ্য ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান আলাদার হওয়ায় মধ্যবিত্ত হিন্দুদের পূর্ববঙ্গ ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ায় এবং অনুরুপভাবে পশ্চিমবঙ্গের মধ্যবিত্ত মুসলমানদের পূর্ববঙ্গে আসায় স্বাভাবিকভাবেই পূর্ববঙ্গ তথা পূর্ব পাকিস্তান বা আজকের বাংলাদেশের মুসলমানের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এসবের ধারাবাহিকতায় বলা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা মুসলিম মধ্যবিত্ত বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে পরিনত হয় বাঙালি মধ্যবিত্তে। এবং এই বাঙালি মধ্যবিত্তের উদার মনোভাবের ফলেই পাকিস্তান জন্মের ১ বছরের মধ্যেই সাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদের বদলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে।
বাংলাদেশের এই সমাজে আধুনিককালে শিক্ষা ও চেতনা বিস্তারের মাধ্যম হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করেছে। বিভাগপূর্ব থেকেই বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত ছাত্র ও তরুন সমাজে বিভিন্ন ধারা-উপধারা সৃষ্টিতে এবং রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতি নির্ধারনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রনী ভুমিকা রেখেছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বিভাগপূর্ব সময় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করেই মুলত ভাষা ও সাংস্কৃতিক চেতনার জাগরন ঘটতে শুরু করে। ১৯৪৮ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের সুচনার মাধ্যমে শুধু রাজনৈতিক গ্রহে এই চেতনাটি পরিগ্রহ করে এবং ব্যাপক বিস্তার লাভ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জন্মের পর এই প্রথম ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রকাশে একটি অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক চেতনার ধারক ও বাহকে অবতীর্ণ হয়। যার ফলশ্রুতিতে কালক্রমে এই চেতনার স্ফুরনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করেই বাংলাদেশের রাজনীতির চর্চা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়। যে কারনে নিরদ্বিধায় বলা যায়, যেকোনো একটি শিক্ষায়তন যে উদ্দেশ্য স্থাপিত হয় তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, সাংস্কৃতিক চেতনাবোধ জাগ্রত করা। সেই অর্থএ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সফল। প্রখ্যাত সাহিত্যিক আহমদ ছফা’র ভাষায় বলা যায়, ‘এই অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর তিনটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তার একটি পাকিস্তান আন্দোলন, অন্যটি ভাষা আন্দোলন এবং পরেরটি বাংলাদশের মুক্তিসংগ্রাম’। মুলকথা বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগরনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ও অনন্য ভুমিকা পালন করেছে। তারপরেও বলা যায়, জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় প্রায় শত বছরের পুরনো এই বিশ্ববিদ্যালয়টি তেমন উল্লেখযোগ্য সফলতা দেখাতে না পারলেও শুধু উপরোক্ত ভুমিকার কারনেই ছাপ্পান্ন হাজার বরগ মাইলের এই দেশটির নেতৃত্ত্বের ভুমিকায় থাকবে অনাধিকাল পর্যন্ত। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে আমি এমনটাই অনুভব ও প্রত্যাশা করি।
এবার আসি বিশ্ববিদ্যালয় আইন নিয়ে। আমার অভিজ্ঞতা থেকেই দেখেছি, দেশের এবং কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্রান্তিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জরি করা ’৭৩ এর অধ্যাদেশ তথা আইন নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্তায়, সভা, সেমিনারে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এই আইনের যৌক্তিকতা নিয়ে। আমিতো এখনো মনে করি, আইন আসল সমস্যা নয়। সমস্যা হলো বরাবরের মতোই আইনের অপব্যবহার নিয়ে। ১৯৭৩ সালে যে চেতনা নিয়ে আইনটি করা হয়েছিল কালের পরিক্রমায় বোধকরি সেই চেতনাতেই গলদ তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে বলা যায়, বাংলাদেশের সংবিধানে জনগনকে সঠিকভাবে শাসন করার জন্য নানাবিধ বিধান থাকলেও বারবার আইন ভঙ্গ স্বয়ং রাস্ট্রযন্ত্রই করছে। বেশ ক’বার খোদ সংবিধানই স্থগিত করা হয়েছিল। তাহলে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়কে বা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরকে আইনের কারনে দোষারুপ করার যৌক্তিকতা কোথায়? বরং চেতনা ঝালাই দেওয়ার লক্ষেই আমাদের জোরালো ভুমিকা থাকা বাঞ্চনীয়। আর ১৯৭৩ এর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ যারা তৈরি করেছিলেন নিঃসন্দেহে বলা যায়, তারা সেসময়ে ভাবতেও পারেননি যে, পরবর্তীকালে এই বিধানের অপব্যবহার খোদ শিক্ষকগন প্রশ্নবিদ্ধভাবে করবেন এবং এটা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে! এখানে শ্রুত কথা হিসেবে উল্লেখ করা যায়, সেসময়ের আইন মন্ত্রী ড কামাল হোসেন যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ তৈরি করে বঙ্গবন্ধুকে দেখান, বঙ্গবন্ধু নাকি বলেছিলেন, কামাল এতটা স্বাধীনতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যথাযথভাবে মানবে তো? কামাল সাহেব উত্তরে বলেছিলেন, যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীন বাংলাদেশ জন্মে অনন্য ভুমিকা রেখেছে সেই বিশ্ববিদ্যালয় নিশ্চয়ই বাংলাদেশ গঠনেও অনন্য ভুমিকা রাখবে। ১৯৭২ সালে প্রনীত বাংলাদেশের সংবিধানটির বঙ্গানুবাদ করেছিলেন আমাদের সর্বজন শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক ড আনিসুজ্জামান স্যার। বোধকরি সেজন্যই আনিসুজ্জামান স্যারের এবং ড আহমদ স্যারের সরাসরি প্রভাবেই ১৯৭৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ প্রনীত হয়েছিল। এই বাস্তবতা থেকে খুব সহজেই চেতনাগত বিষয়টি উপলব্ধি করা যায়। তারপরেও বলতে দ্বিধা নেই, খোদ বাংলাদেশের সংবিধান কিছুকাল আগে পর্যন্ত পঞ্চদশবার সংশোধন করা হয়েছে, বিতর্ক বরাবরই ছিল। কাজেই প্রয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইনটিও সংশোধন করা যেতেই পারে।
আমরা বিভিন্ন সময়ে দেখেছি, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থার সুবিধানুযায়ী প্রায়ই কিছু আইনের কড়াকড়ি আরোপ করে থাকেন। তেমনি সান্ধ্য আইন নামে একটি আইন রয়েছে। সারাবছর এটির খোজ কেউ না করলেও বিভিন্ন আন্দোলনের বিশেষ বিশেষ সময়ে এটির বাস্তব প্রয়োগ দেখা যায়। এরকম অপ্রয়োজনীয় যেসব বিধান রয়েছে সেগুলোর রহিতকরন অবশ্যই সময়ের প্রয়োজন। সারাবছর প্রতিদিন/রাত ছুটিরদিনসহ পাঠাগার/ল্যাবরেটরীসমুহ খোলা রাখার বিষয়টিও নতুনকরে ভেবে দেখা দরকার।
১৯৪৭ এর আগে পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবেই তার কার্যক্রম চালিয়েছে। সময়ের পরিবর্তনে এখন আর আবাসিক নেই অথবা আবাসিক থাকার প্রয়োজনীয়তা হারিয়েছে। দেশের জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এখানেও ছাত্রসংখ্যা বেড়েছে। এখন দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও অনেক বেড়েছে। কাজেই কোনোবিভাগেই এখন ছাত্রসংখ্যা বাড়ানো সমিচীন হবেনা। উপরন্তু যেটা যেভাবে রয়েছে সেটাকেই আরো উন্নত ও বিশ্বমানের হিসেবে গড়ে তোলা এবং ছাত্রসুবিধা নিশ্চিত করাই উত্তম হবে।
অবশেষে কয়েকটি পরামর্শ রেখে বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯১ বছর পুর্তিতে মঙ্গল কামনা করে শেষ করবো।
বিশ্বের সবখানেই সময়ের সাথে সাথে মানুষের চাহিদা বাড়ে এবং সেইমতো শাসন ব্যবস্থায় প্রয়োজনে পরিবর্তন, সংশোধন, সংযোজন, বিয়োজন ইত্যাদি করা হয়। মুলকথা গনতান্ত্রিক বিশ্বে শাসক ও শাসিত উভয়েই বরাবরই পরিবর্তনশীল বিধায় এককথায় সকলেই ক্রমান্বয়ে শাসিত। সেজন্য সকলের প্রয়োজনেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও নিজস্ব উপলব্ধি থেকে কিছু বিষয়ের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করছি। ইংরেজরা যতকিছুই বলে থাকুক, বাস্তবতা হলো একটি বিশ্ববিদ্যালয় কোনোভাবেই জাতির মধ্যে বিভেদ তৈরিতে ভুমিকা রাখতে পারেনা বা সেরকম কিছুর সুযোগ থাকাও উচিত নয়। প্রতিষ্ঠালগ্নে এই বিশ্ববিদ্যালয়কেও ইংরেজরা সুচতুরভাবে শুধু মুসলমানদের জন্য উপহার ইত্যাদি বলে একধরনের সাম্প্রদায়িকতাই ছড়িয়েছে। আবার হিন্দু বুদ্ধিজীবিগন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরোধীতা করেছে এহেন বিষয়গুলোও ইংরেজদের প্রচারিত কথাকে সমর্থন করে হিন্দু-মুসলমান উভয়কে উভয়ের প্রতি অবিশ্বাসী করে তুলেছিল। যদিও পরবর্তী বাস্তবতা এগুলোর অনেক কিছুকেই অস্বীকার করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭ সালে সাম্প্রদায়িক পাকিস্তান সৃষ্টি। সেসময়েই বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে বাঙালি জাতীয়তাবাদের উত্থান। যারফলশ্রুতিতে ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের জন্ম। যার পুরোভাগে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। অথচ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশেও জগন্নাথ হলে মুসলমান ছাত্রদের অনুপস্থিতি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে আমরা মুসলমান-হিন্দু বা অন্যান্য ধর্মের মানুষ এবং তারপরে আমরা বাঙালি। অথচ আমরা প্রধানত বাঙালি এবং পরে ধর্মগত পরিচয়। এটা অনস্বীকার্য যে, বর্তমানের জগন্নাথ হল অনেক স্মৃতির মিনার তৈরি করেছে, রয়েছে অনেক আবেগের স্ফুরন। কিন্তু তারপরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইনের ধারায়ই এটির ব্যবহারগত পরিবর্তন আনা যায়। এতেকরে বাংলাদেশে ধর্মগতভাবে সংখ্যাগুরু এবং সংখ্যালঘু নামক সংকটের অনেকটাই দুরীভুত হবে বলে আশারাখি।বিভিন্ন আবাসিক হলগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র কিছুকাল আগে হাইকোর্টের রায়ের কারনে ফজলুল হক হল এবং সলিমুল্লাহ হল দুটিই ‘মুসলিম’ শব্দটি বহন করছে। যদিও অন্যান্য হলে ‘মুসলিম’ শব্দটি না থাকলেও মুসলমান ছাত্ররাই সিট বরাদ্ধ পেয়ে আসছে বরাবর। এই দুটি হলে কেনো ‘মুসলিম’ শব্দটি থাকতে হবে এবং এই দুই হল বাদেও অন্যান্য হলগুলোতে কেনো শুধু মুসলমান ছাত্ররাই বরাদ্ধ পাবে স্বাধীন এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ সৃষ্টির তীর্থভুমি খোদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটবে এটা অযৌক্তিক। জুরাজুরির বিষয় নয় বরং মোটিভেশনের মাধ্যমেই সকল হলে সকল ধর্মের ছাত্রদের সিট বরাদ্ধ করার ব্যবহারিক দিকটি চালু হওয়া উচিত। এখানে প্রনিধানযোগ্য উদাহরন হলো, খোদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের হলসমুহ এবং চারুকলার ছাত্রদের জন্য নির্ধারিত স্যার এ এফ রহমান হলের এক্সটেনশন বলে পরিচিত শাহ নেওয়াজ ভবনেও সকল ধর্মের সবাই একত্রে বাস করছে। এমনকি আইবিএ হোস্টেলেও এইভাবেই নিয়ম প্রচলিত রয়েছে। বাংলাদেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানতো আছেই। মেনে নিলাম বর্তমানের জগন্নাথ হলের সঙ্গে হিন্দু এবং অন্যান্য ধর্মের ছাত্রদের একটি নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, কিন্তু যদি কোন মুসলমান ছাত্র জগন্নাথ হলে বা অন্যান্য ধর্মের কোন ছাত্র অন্যকোন হলে বরাদ্ধ চায় সেটি যেন নিশ্চিত করা হয় এবং এই প্রক্রিয়ায় ছাত্রদের উৎসাহিত করা উচিত বলেই আমি মনে করি। উদাহরনস্বরুপ উল্লেখ করা যায়, গত শতকের আশির দশকের প্রারম্ভে এন্ড্রু অলোক কুমার দেওয়ারী নামক গনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের খ্রিস্টান ধর্মের একজন ছাত্র জগন্নাথ হলে থাকতে অপারগতা প্রকাশ করে মুহসিন হলের বারান্দায় রাত্রি যাপনের মাধ্যমে প্রতিবাদী হয়ে উঠলে সেসময়ের মুহসিন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু হেনা মোস্তফা কামাল স্যার তাকে মুহসিন হলেই আবাসিক ছাত্র হিসেবে সিট বরাদ্ধ করেছিলেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক(এখন পরলোকগত) এই সাবেক ছাত্র মনে করতেন, প্রথমত তিনি মানুষ এবং দ্বিতীয়ত ধর্মের পরিচয়। এই মানসিকতা এখন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে কী অনুসরন করতে পারিনা ব্যবহারিকভাবে?
ছাত্রীদের ক্ষেত্রে কিছুকাল ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে মানসিক বৈষম্যহীনতার কারনে আত্মহত্যাসহ নানারকম নতুন নতুন সমস্যা। এই সমস্যাগুলোর কিছুটা লাগবের জন্যে এই হলগুলোতে সহকারী আবাসিক শিক্ষিকার কয়েকটি পদ রয়েছে যেগুলোতে কোন শিক্ষিকাকে নিয়োগ দেওয়া হয়না বরং পুর্ণকালীন হিসেবে প্রয়োজনীয় যোগ্যতাসম্পন্নদের স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে আমি মনে করি, একজন মনোবিজ্ঞানী বা মনোচিকিৎসক এবং একজন এমবিবিএস পাশ চিকিৎসককে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দিলে বিশ্ববিদ্যালয় উপকৃত হবে। কেননা, ইদানিং ছাত্রীদেরকে কাউন্সেলিং এর প্রয়োজনীয়তা তীব্র অনুভুত হয়েছে এবং এই মনোচিকিৎসক প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করতে পারবে। সম্প্রতি টিএসসিতে একতি কাউন্সেলং সেন্টার চালু করাও হয়েছে। পাশাপাশি ছোট ছোট কিন্তু জরুরী প্রয়োজনে চিকিৎসক কাছে থাকাও বাঞ্চনীয়। তাই এই দুই পদে দুজন অভিজ্ঞকে পদায়ন করলে প্রচলিত আইনের বলেই বিশ্ববিদ্যালয় অনেক সংকট থেকে মুক্তি পাবে উপরন্তু নতুন পদের দরকার পড়বে না। ক্রমান্বয়ে এই ধরনের প্রক্রিয়া সকল বিশ্ববিদ্যালয়েরই সকল হলে চালু করতে পারে। কেননা, মানুষের প্রয়োজনেই আইন।
আশাকরি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উপরোক্ত এই বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে ভেবে দেখবেন।
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যেতে যেতে

লিখেছেন সামিয়া, ২৫ শে মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৭




তুমি বারবার ফিরে আসো, আবার বারবার চলে যাও, একদিন আমিও চলে যাব কিন্তু আমি আর ফিরে আসবো না।

আমি প্রতিবারই নিজেকে বুঝাই, এবার আর কিছু অনুভব করবো না। কিন্তু তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ২০২৬ সালে এসেও দেশে জেলখানা রাখার আদৌ কোন প্রয়োজন আছে?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২৫ শে মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৯

দেশে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার প্রায় ৪ মাস হতে চলছে, এর আগে দীর্ঘ ১৭ বছরের আওয়ামী ফ্যাসিবাদি শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক খ্যতিসম্পন্ন্য নোবেল বীজয়ী ড: ইউনুস শতভাগ জনসমর্থন নিয়ে সরকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪-এর যোদ্ধাদের কি হবে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৯

২০২৪ সালের আন্দোলনকে অনেকেই সাধারণ মানুষের ন্যায্য দাবি ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখেছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এমন অভিযোগও উঠছে যে, কিছু স্বার্থান্বেষী ও ক্ষমতালোভী গোষ্ঠী নিজেদের জেদ, প্রভাব ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

রেমিটেন্স যোদ্ধাদের ৭.৫% ট্যাক্স কেটে নিবার সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে ।?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৬ শে মে, ২০২৬ রাত ৩:১২

রেমিটেন্স যোদ্ধাদের ৭.৫% ট্যাক্স কেটে নিবার সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে !?



এই তথ্যটি সঠিক হলে আগামী দিনে সরকার রেমিটেন্স হারাবে ।
যেখানে প্রনোদনা দিয়ে রেমিটেন্স আনা হতো, সেখানে এই অদ্ভূদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেরিন ড্রাইভের রক্তাক্ত পিচ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৬ শে মে, ২০২৬ সকাল ১০:২৩



সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। গল্পের সমস্ত চরিত্র, নাম, স্থান এবং ঘটনা লেখকের কল্পনাপ্রসূত। বাস্তব কোনো জীবিত বা মৃত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×