আম্মু-আব্বু প্রায়ই বলে বাসার বড় ছেলেরা নাকি গাধা হয়

আমি মনে হয় আসলেই একটা হাদারাম, গাধারাম, ইয়ে টিয়ে সব। আমি তো বাসার বড় ছেলে, সে জন্যই বলে কি না জানি না। আর এটাকে কাকতালীয় বলতে পারেন কারন, আমার আমার আব্বুর দাদু ছিলেন তার বাবার বড় ছেলে

, আমার দাদুও ছিলেন তার বাবার বড় ছেলে,

আর আমার আব্বুও তার বাবার বড় ছেলে

আর আমিও তো......
আজ আমার মনটা ভয়ংকর খারাপ। আসলে বড় ছেলে হলে কি যে বেগতিক অবস্থায় পড়তে হয়, তা একমাত্র আমরা যারা বাড়ির বড় ছেলে তারাই হারে হারে টের পাই (সবার ক্ষেত্রে প্রযোয্য নয়)। একটু ভুল করেছ তো সব শেষ হয়ে যাবে তোমার।
যাই হোক আমার সর্বশেষ ঘাধা (গাধা স্কয়ার= ঘাধা) হবার কথাটিই না হয় বলি, অন্যগুলো পরে একদিন বলা যাবে।
ঘাধা তো হয়েছিই, সাথে মাথায় ও হাত পড়েছে। আপনার মোটামুটি সবাই জানেন যে, সারা দেশের মধ্যে উত্তরবঙে এবার আলুর খবই ভাল ফলন হয়েছিল। ২-৩ টাকা কেজিও নাকি বিক্রি হয়েছে। এতদিন শুনেছিলাম যে, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে নাকি প্রচুর আলু বিদেশে রপ্তানি হয়। তাই আমার একটা ইচ্ছে হল যে আমিও ট্রাই করি না কেন? নিজে সরাসরি দিতে না পারি, কোন মাধ্যমে দেওয়া যায় কি না। নতুন কোন ব্যবসা চালু করা আরকি। একমাস আগে বগুড়ারই এক বড় ভাই এর মাধ্যমে উত্তরার এক বায়ার পেলাম। তার নাকি প্রচুর আলু লাগবে, প্রায় ১০০০ টন

। শ্রীলংকাতে পাঠাবে। এর দুদিন পরই সবকিছু প্রায় ঠিকঠাক হয়ে গেল। স্যাম্পল পাঠালাম ২ কেজিখানেক।

স্যাম্পল দেখেই তো পাগল! বলে এত ভাল আলু!

প্রাথমিকভাবে তারা আমার কাছে ৫২ টন আলু চাইল। আর আমি প্রায় ১০০ টন মজুদ করলাম। ওরা অবশ্য ১ম এ এলছি এর কথা বলেছিল। কিন্তু আমি রাজি হইনি। কারন ১ম ব্যবসায় রিক্স নিতে চাইনি। কথা হল ৫০% টাকা এ্যাডভান্স আর বাকি ৫০% টাকা ট্রাকে মাল লোড হয়ে ছেড়ে যাবার আগেই পরিশোধ করবে। একদিন পর ৫০% টাকা এবং ২০০০ মেশ ব্যাগ ( যে ব্যাগে করে আলু পাঠানো হবে) নিয়ে উনি নিজেই আসলেন সব দেখার জন্য। সব কিছু ঠিক আছে দেখে ডিল ফাইনাল করলেন। আমি তো মহা খুশি। তিন দিনের মাঝেই গত ১৪-০৪-২০১১ ইং তারিখে ২ ট্রাক মাল রেডি করে চট্টগ্রাম পোর্ট এর উদ্দেশ্যে ছেরে দিলাম। বাকি ১ ট্রাক ২ দিন পর দিলাম। অবশ্য এর আগে সব দেনা পাওনা তারা পরিশোধ করেছিল।


এরপর তারা বলল যে, আগামি ২২-০৪-২০১১ ই এ নতুন দামে আলু কিনবে। কিন্তু ওরা এখন বলছে যে, কয়েকদিন পর নিবে, আর কোল্ডস্টরের আলু চাচ্ছে।

কিন্তু আমি তো আলু বাহিরে রাখছি। আর আমার কাছে শুধুমাত্র এই একজন ই বায়ার আছে। তাই কি করব ভেবে পাচ্ছি না।



আরএসব শোনার পর থেকেই বাসায় শুরূ হয়ে গেছে আমারে পচানো।


যদিও মন খারাপ করে নাই। কিন্তু আমার আম্মুজান আর আব্বুজান তো আমার বুদ্ধি-শুদ্ধির ১৪গুস্টি উদ্ধার করে ছারতেছে।
ভাগ্যিস বিয়া করি নাই।

তাহলে কি যে হত, একমাত্র আল্লাহই জানেন।



যাই হোক, এখন তো আলুর সিজন প্রাই শেষ। তবুও চেস্টা করে জাচ্ছি নতুন কোন বায়ার ধরার জন্য। অবশ্য সামনের বার ইনশাআল্লাহ কোন সমস্যা হবে না।
আর আপনাদের কারো জানা মতে যদি এমন কোন ব্যক্তি থেকে থাকেন, যারা আলু এক্সপোর্ট করেন, তাহলে প্লিজ আমাকে জানাবেন মেইল করে।
[email protected]+8801717 451 579