জাদুঘর থেকে সবসময়ই আমি ১০০ হাত দুরে থাকি বা থাকার চেষ্টা করি। সবসময় পারি তা না, চারুকলার সামনে আড্ডা দিতে যেতে হ্য় জাতীয় জাদুঘর এর ১০ হাত কাছে দিয়ে। গতবছর কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনে মিউনিখ শহরে যাওয়ার সুজোগ হয়েছিল। ইউরোপের প্রায় প্রতিটি শহরেই অসংখ্য ছোট বড় জাদুঘর রয়েছে। জার্মানির মিউনিখ বা মুনচেন শহরও তার ব্যাতিক্রম না। শেষ দিনে সবার হাতে কিছু সময় ছিল, কারো প্লেন বিকালে, কারো বা ট্রেন রাতে, সবাই মিলে বেরিয়ে পরলাম শহর দেখতে। একজন প্রস্তাব রাখলো জাদুঘর দেখার, মনে মনে বিরূপ হলেও রাজি হলাম যেহেতু টেকনিকাল জাদুঘর। মনের মাঝে ধারনা ছিল দুর থেকে ভাংগা চুরা কিছু যন্ত্রপাতি দেখবো, কিন্তু পরে দেখলাম আমার পুরা ধারনাটাই ভুল ছিল। ট্রেন, প্লেন, হেলিকপ্টার, জাহাজ, নৌকা, ষ্পেস ক্যাপসুল, জেট ইন্জিন, কৃত্তিম উপগ্রহ, টেলিফোন, টেলিগ্রাফ, টেলিস্কোপ, রেডিও, টিভি, হোম থিয়েটার, লাইট, মটোর, ডায়নামো, লজিক গেট, কম্পিউটার কি নাই সেখানে। আমাদের জাদুঘর এর মতো সবকিছু কাচের বাক্সে বন্দি না, খোলামেলা ভাবে রাখা, ইচ্ছা মতো নাড়াচাড়া করা যায়। প্লেন এর ইন্জিন টানা হেচরা করতে কি যে মজা, পুরানো জাহাজে উঠা যায়, ডায়নামো ঘুরিয়ে লাইট জালানো যায়, টেলিফোন করা যায়। জ্যামিতিক কিছু পাজল আছে, অনেক মজার। বিভিন্ন দেশ থেকে আশা সবাই অমরা বাচ্চা হয়ে গেলাম, মেতে উঠলাম খেলাধুলায়। নিচে কিছু ছবি ঐ জাদুঘর এর:
নতুন কিছু না, আমার দেশের রাস্তায় থাকে এমন যুদ্ধ বিমান

:

হেলিকপ্টার, ইন্জিন দেখা যায়:

জাহাজের প্রপেলার:

ট্রেন এর ইন্জিন:

বায়ু কল:

জেট ইন্জিন:

স্পেস ক্যাপসুল/মডিউল:

স্পেস ক্যাপসুলের ভেতরে, কিছু সুইচ টিপাটিপি করছি আমি:

ক্যাপটেন জ্যাক স্প্যরো....

প্রাচীন অ্যামেচার রেডিও:

ইউনিভ্যাক ১ কম্পিউটার (১৯৫৬)। ওজন ১৯টন, মূল্য ১ মিলিওন ডলার ১৯৫৭ সালে:

আইবিএম সিস্টেম ৩৬০ কম্পিউটার:

এই কিবোর্ড এ বাংলা লেখা অনেক সহজ হতো নিষ্চয়:


জাদুঘর এর দারোয়ান: