somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বন্ধ করে দিন আম-জাম-কাঠাল-কলা স্কুল

২১ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


স্কুল বিজনেস বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকার যুবকদের একটি ভাল ব্যাবসাতে পরিণত হয়েছে। আমদের অনেকেই না বুঝে এই সকল স্কুল নামক ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের ফাঁদে পা দিয়ে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যত আমরা নিজেরাই নষ্ট করছি।

কিছু শিক্ষিত (ডিগ্রি বা মাষ্টার্স পাশ) বেকার যুবক একটি বাড়ি বা ফ্লোর ভাড়া নিয়ে সেখানে ৫/৬ টা ক্লাস কক্ষ তৈরি করে এবং প্রতিটি ক্লাসে ১০/১২ টা করে বেঞ্চ বসিয়ে দেয়। এবং ৫/৬ টা ক্লাসের জন্য ৫/৬ টা শিক্ষক/শিক্ষিকা ভাড়া করেন নাম মাত্র বেতনে। যারা রোটেশনাল বেসিসে বিরামহীন ভাবে শুধু পড়িয়ে যেতে থাকেন। এই সকল শিক্ষকদের জন্য কোনো টিচার্স রুম ও থাকে না। একটি রুমে একটি টেবিল আর কতগুলো চেয়ার ফেলে রাখা হয় যা অভিভাবকগনের ওয়েটিং রুম, টিচার্স রুম এবং হেড-মাস্টার্স অফিস হিসেবে ব্যাবহৃত হয়। এটাকে থ্রি-ইন ওয়ান রুমও বলা যেতে পারে, এতে ২ টা এক্সট্রা ক্লাস রুম পাওয়া যায়।

এবার বলি শিক্ষক/শিক্ষিকাদের কথা। এই সকল স্কুলের শিক্ষক/শিক্ষিকাদের সর্বোচ্চ বেতন স্কেল হলো প্রতি মাসে ৬০০ টাকা (প্রতি মাসে ৩০০ টাকা এবং ফ্রি শিক্ষক/শিক্ষিকাও আছেন অনেক)। এতো ক্ষুদ্র বেতনে কোন টাইপের শিক্ষক/শিক্ষিকারা ক্লাস নিতে আসেন সেটা আপনারা বুঝতেই পারছেন। ক্লাস ফাইভ অথবা সিক্স পাশ অথবা ম্যাক্সিমাম মেট্রিক ফেইল হলো এই সকল শিক্ষক/শিক্ষিকাদের কোয়ালিফিকেশান। এই সকল শিক্ষক/শিক্ষিকাদের কাছ থেকে আমরা কি ভালো শিক্ষা প্রত্যাশা করতে পারি? এরা শুধু বই রিডিং পড়ে আর পড়া দিতে পারে, পড়াটা বুঝিয়ে দেয়ার ক্ষমতাও এদের থাকে না। সুন্দর করে বুঝিয়ে দিতে পারলে পড়া মুখস্ত করানোর প্রয়োজন হয় না। আর ভালো ফলাফলের জন্য ভালো শিক্ষক/শিক্ষিকা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সকল শিক্ষক/শিক্ষিকাগন পড়া বুঝানোর চেয়ে চিল্লা-পাল্লা আর পিটিয়ে পড়া আদাই করাতে বেশি পারদর্শী। এই সকল শিক্ষকদের মতে পড়া মুখস্ত পারলেই পরিক্ষায় ভালো হবে এবং স্কুল নিয়ে কেউ মন্তব্য করবে না বা কটুক্তি করতে পারবে না; আর তাদের স্কুলের সুনাম বাড়বে। পড়া সম্পর্কে ছাত্র-ছাত্রীদের ধারণা বা দক্ষতা সম্পর্কে সামান্যতম ভ্রুক্ষেপ নেই এই সকল শিক্ষক/শিক্ষিকাদের। স্কুল দেখেই আমরা আমাদের সন্তানদের সেখানে পাঠিয়ে দেই, কিন্তু স্কুলের শিক্ষকদের মান নিয়ে আমরা একটুও ভাবি না।

আমরা কেনো প্রতারিত হই? এখন সে প্রসঙ্গে আসি। এই সকল স্কুলের বেতন স্কেল প্রতি মাসে ৪০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা। আমরা ভাবি এতো বেতন যখন, তখন স্কুলের মান নিশ্চই ভালো হবে। কিন্তু শিক্ষকদের কোয়ালিফিকেশানের বিষয়টি কর্তৃপক্ষ এড়িয়ে চলেন, আর আমরাও তেমন একটা কেয়ার করি না। আবার এই সকল স্কুল ব্যাঙের ছাতার মতো সংখ্যায় অনেক, তাই আপনার বাড়ির খুবি সন্নিকটেও কয়েকটা খুঁজে পাবেন। এসব স্কুলে পড়লে ছাত্র-ছাত্রিরা অভিভাবকের সাহায্য ছাড়া নিজেরাই যাতায়াত করতে পারে। তাই পরিবহন সংক্রান্ত ঝামেলা এবং দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। আমাদের চিন্তার বিষয় হলো, আমরা আমাদের সন্তানের ভবিষ্যত সুন্দর হওয়ার জন্য তাদের স্কুলে পাঠাচ্ছি, আর তার জন্য যদি আমরা আমাদের সামান্য শ্রম না দিতে চাই তাহলে বিষয়টি অত্যান্ত দুঃখজনক। আরো আছে আমাদের অজ্ঞতা এবং অবহেলা।

নাম মাত্র পুঁজিতে বিপুল আয়ের কারনে এই সকল স্কুল নামক ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাঙের ছাতার মতো বেড়ে যাচ্ছে। এই স্কুল গুলোর কুফল আমরা তাৎক্ষনিক ভাবে বুঝতে পারি না, তাই আমরা নিজেদের সন্তানদের এই সকল স্কুলে পাঠিয়ে অনেকটা স্লো-পয়জনের মতো আমাদের সন্তানদের জীবনকে অনিশ্চয়তার পথে পাঠাতে সাহায্য করে যাচ্ছি।

এই সকল ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আমাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া অত্যান্ত জরুরী। শুধু নিজেদের ছেলে-মেয়েদের পাঠানো বন্ধ করলে হবে না। অজ্ঞতার কারণে অনেকেই এই সকল ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের ফাঁদে পা দিচ্ছেন। তাই আমাদের উচিত এই সকল স্কুল সোজা বন্ধ করে দেয়া। পুলিশ অভিযান এর মাধ্যমে এই সকল রেজিস্ট্রেশানহীন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা, হেড-মাষ্টার আটক; স্কুল বন্ধ করে দেয়ার মতো গুরুত্বপ‌ুর্ণ পদক্ষেপ গ্রহন করা উচিত। যাতে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে প্রতারণার মাধ্যমে এরা ব্যাবসা করতে না পারে। শুধু সরকার বা পুলিশ নয়। আমাদেরও সচেতন হতে হবে। যারা এই বিষয়ে সচেন নন তাদের সচেতন করার দায়ীত্বও আমাদের। আমরা যদি এই প্রতারণাকে প্রতিহত না করি, তবে এটার ভুক্তভুগি আমরা ছাড়া আর কেউই হবে না।

আপনাদের কমেন্ট সদা স্বাগত

ধন্যবাদ

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:৩৪
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×