somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভ্যালেণ্টাইন, ও মোর ভ্যালেণ্টাইন

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০০৯। সময়-রাত ১২ টা বেজে ৫ মিনিট। ঠাস শব্দে খুলে গেল আমার রুমের দরজা। কলেজের এক বান্ধবীর লগে খোমাবইয়ে চ্যাট করতেসিলাম আর দুধের স্বাদ ঘোলে মিটাইতেছিলাম আর কী! মেজাজ গেল বিলা হইয়া। তাকাইয়া দেখি বন্ধু শাহীর আমার সামনে খাড়াইয়া আছে আর মিচকি মিচকি হাসি দিতাছে। শালারে ধইরা মাইর দিমু ঠিক সেই সময় চোখ পড়ল ওর হাতে থাকা আমার ভ্যালেন্টাইনের দিকে। যাউক, এইবারের মতন মাফ কইরা দিলাম।

শাহীরের প্রস্তাব "চল দোস্ত, ভ্যালেন্টাইন কাকুর ভালোবাসার দিনডা একলগে সেলিব্রেট করি।"

তড়িৎগতিতে হাত চইলা গেল টেবিলের ড্রয়ারে। হ্যা, ঠিকই জায়গামত আছে। অনেক সময়ই ঘোর প্রয়োজনে ফাঁকি দিলেও এই দিনের বিশেষত্বের কারণেই হয়ত এইবার আমার সাথে লুকোচুরি না খেইলা দেশলাইয়ের বাক্সটা আমার কঠিন হাতের তালুতে নিজেকে সমর্পণ করল।

এইবার প্রায় ২০ বসন্তেও মনে রঙ না লাগা দুই তরুণের জায়গা হল ডরমিটরির ব্যালকনিতে। হগ্গলেই দেখি ফুনেই ভালবাসার কথা জানাইতে ব্যাস্ত। আমরা দুইজনে খালি মুচকি মুচকি হাসি। কারণ আমাদের প্রেমিকা তো আমাদেরই সাথে।

একবারতো ভাবলাম খুশিতে তিন তলার ব্যালকনি থিকা লাফই দিমু কিনা!

এইবার আমগো ভ্যালেন্টাইনের লগে আদর সোহাগ করার পালা।

শাহীর জিগাইল, "এইখানেই?"

বাপের বদৌলতে পাওয়া এই কুশ্রী খোমাখানা এদিক ওদিক দুলাইয়া সম্মতি জ্ঞাপন করলাম।

তারপরের কাহিনী?

টানে টানে উপভোগ করলাম সবটুকু ভালোবাসা। শেষটান'রে নাকি সুখটান কয়?
আরে ব্যাটা আমিতো আজকের দিনে সব কয়টা টানেই ভালবাসা পাইছি।

বেশি সুখের জিনিস বেশিক্ষণ ঘটতে নাই। তাই মিনিট তিনিকের মধ্যেই ভালোবাসাবাসির ইতি। দীর্ঘ শেষটান দিয়া ওয়েস্ট পেপার বাক্সে ফেলে দিলাম আমার ভালবাসা। আশা ছিল পরের বারও ভ্যালেন্টাইন কাকুর স্মরণে একইভাবে উদযাপন করব দিনটি।

বিধাতা বোধহয় উপ্রে বইসা হাসতেছিলেন। মনে মনে কইতেছিলেন, "খাড়া ব্যাটা পরের বার তোর ভ্যলেণ্টাইন বাইর করতাসি।"

অতপর ১৪ ফেব্রুয়ারী ,২০১০। রাত ১২ টা ১৫ মিনিটে নিজেই একখান বেনসন এন্ড হেজেস ধরাইয়া লম্বা টান দিলাম। দুই দোস্তের একলগে বিড়িটানার সেই মজা এইবার নাই। কারণ- গতকাল রাইতে দোস্ত আমার রুমে আইসা কয়, "বাড়ি যাইতাসি। বৌয়ের লগে ভ্যালেণ্টাইন করুম।"

হাসিমুখে কইলাম, "তোর বৌ'রে আমার পক্ষ থিকা আদর দিস।"

মনের ভিত্রে একটা গোপন দীর্ঘশ্বাস, "কেউ কথা দিল না।


রিপোস্ট
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×