১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০০৯। সময়-রাত ১২ টা বেজে ৫ মিনিট। ঠাস শব্দে খুলে গেল আমার রুমের দরজা। কলেজের এক বান্ধবীর লগে খোমাবইয়ে চ্যাট করতেসিলাম আর দুধের স্বাদ ঘোলে মিটাইতেছিলাম আর কী! মেজাজ গেল বিলা হইয়া। তাকাইয়া দেখি বন্ধু শাহীর আমার সামনে খাড়াইয়া আছে আর মিচকি মিচকি হাসি দিতাছে। শালারে ধইরা মাইর দিমু ঠিক সেই সময় চোখ পড়ল ওর হাতে থাকা আমার ভ্যালেন্টাইনের দিকে। যাউক, এইবারের মতন মাফ কইরা দিলাম।
শাহীরের প্রস্তাব "চল দোস্ত, ভ্যালেন্টাইন কাকুর ভালোবাসার দিনডা একলগে সেলিব্রেট করি।"
তড়িৎগতিতে হাত চইলা গেল টেবিলের ড্রয়ারে। হ্যা, ঠিকই জায়গামত আছে। অনেক সময়ই ঘোর প্রয়োজনে ফাঁকি দিলেও এই দিনের বিশেষত্বের কারণেই হয়ত এইবার আমার সাথে লুকোচুরি না খেইলা দেশলাইয়ের বাক্সটা আমার কঠিন হাতের তালুতে নিজেকে সমর্পণ করল।
এইবার প্রায় ২০ বসন্তেও মনে রঙ না লাগা দুই তরুণের জায়গা হল ডরমিটরির ব্যালকনিতে। হগ্গলেই দেখি ফুনেই ভালবাসার কথা জানাইতে ব্যাস্ত। আমরা দুইজনে খালি মুচকি মুচকি হাসি। কারণ আমাদের প্রেমিকা তো আমাদেরই সাথে।
একবারতো ভাবলাম খুশিতে তিন তলার ব্যালকনি থিকা লাফই দিমু কিনা!
এইবার আমগো ভ্যালেন্টাইনের লগে আদর সোহাগ করার পালা।
শাহীর জিগাইল, "এইখানেই?"
বাপের বদৌলতে পাওয়া এই কুশ্রী খোমাখানা এদিক ওদিক দুলাইয়া সম্মতি জ্ঞাপন করলাম।
তারপরের কাহিনী?
টানে টানে উপভোগ করলাম সবটুকু ভালোবাসা। শেষটান'রে নাকি সুখটান কয়?
আরে ব্যাটা আমিতো আজকের দিনে সব কয়টা টানেই ভালবাসা পাইছি।
বেশি সুখের জিনিস বেশিক্ষণ ঘটতে নাই। তাই মিনিট তিনিকের মধ্যেই ভালোবাসাবাসির ইতি। দীর্ঘ শেষটান দিয়া ওয়েস্ট পেপার বাক্সে ফেলে দিলাম আমার ভালবাসা। আশা ছিল পরের বারও ভ্যালেন্টাইন কাকুর স্মরণে একইভাবে উদযাপন করব দিনটি।
বিধাতা বোধহয় উপ্রে বইসা হাসতেছিলেন। মনে মনে কইতেছিলেন, "খাড়া ব্যাটা পরের বার তোর ভ্যলেণ্টাইন বাইর করতাসি।"
অতপর ১৪ ফেব্রুয়ারী ,২০১০। রাত ১২ টা ১৫ মিনিটে নিজেই একখান বেনসন এন্ড হেজেস ধরাইয়া লম্বা টান দিলাম। দুই দোস্তের একলগে বিড়িটানার সেই মজা এইবার নাই। কারণ- গতকাল রাইতে দোস্ত আমার রুমে আইসা কয়, "বাড়ি যাইতাসি। বৌয়ের লগে ভ্যালেণ্টাইন করুম।"
হাসিমুখে কইলাম, "তোর বৌ'রে আমার পক্ষ থিকা আদর দিস।"
মনের ভিত্রে একটা গোপন দীর্ঘশ্বাস, "কেউ কথা দিল না।
রিপোস্ট

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



