somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিধ্বস্ত একটি দিনের ছবি (ছবি ব্লগও বলা যেতে পারে ) /:) /:)

১৮ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার চাচা শ্বশুড় দীর্ঘ দিনের প্রবাস জীবন শেষ করে অবসর যাপনের জন্য বাংলাদেশে চলে এসেছেন। উনি খুব ছোট বয়সে আমেরিকার চলে গিয়েছিলেন। চাচার বাংলাদেশের যে কোন উৎসব নিয়েই খুব আগ্রহ। এতদিন পহেলা বৈশাখের বাংলাদেশের বর্ষ বরণ শুধু ছবিতেই দেখেছেন। এবারে একেবারে মোক্ষম সময়ে দেশে এসে পরেছেন, এই বয়সেও তার খুব উৎসাহ। নিজেই ঠিক করছেন কোন কখন কোন বাসায় খাবেন, কখন কোথায় ঘুরতে যাবেণ......
আমাদের উপর দ্বায়িত্ব পড়েছে মধ্যন্হ ভোজ এবং রমনা ভ্রমণের।
তিনি দুপুরে খাবেন এই খবর পাঠালেন বেলা ১১টার দিকে, শুনে কিছুক্ষন ভ্যাবলার মতো বসে থাকলাম।
তারপর দীর্ঘ সময় রান্নাঘরে হাড়িপাতিলের সাথে হাতাহাতি করে যে পদার্থ গুলো উৎপন্ন করেছিলাম তার কিছু নিদর্শন...........






ইলিশ মাছের দোপেয়াজা, উচ্ছে চিংড়ি ভাজি, পোস্ত দিয়ে পাচঁ মিশালি সব্জি, কেচকি মাছের বড়া, দই দিয়ে মুরগি ভুনা, আম ডাল আর কয়েক রকম ভর্তা।




শেষ দুপুরে শ্বশুর শ্বাশুড়ি আসলেন, সাথে সোহাবাবুর পাচঁ ছয় জন চাচাতো ফুপাতো ভাই বোন। সোহামনির কাজিনরা ভয়াবহ রকমের দুষ্ট। তারা যে এক ঘন্টা ছিল, তার মধ্যে চড়ুই পাখি ধরতে যেয়ে আমার বারন্দায় নতুন ফোটা ফুল সহ অর্কিডের টব আর একটা বেলী ফুলের টব ভাংগলো। এরপর সোহার একটা ভাল্লুক পিছনের বারান্দা দিয়ে নীচে ফেল দিল ( এটা আর পাওয়া যায়নি) এবং নতুন টুথ পেষ্টের টিউব টিপে টিপে খালি করে আমার বেড কভারটা দফারফা করলো X(X( X( X(
তাদের ধ্বংসযঙ্গ আমি কাষ্ঠ হাসি মাখা চেয়ে চেয়ে দেখলাম, কিছু বলতে পারলাম না..........:((
যাইহোক খাওয়াদাওয়া শেষ হবার পর চাচা চাচী উসখুস করছিলেন কতক্ষনে তারা ঘুরতে বের হবেন দলবল নিয়ে। ধুলো, গরম, রোদ কোন কিছুই বলে তাদের নিরস্ত করতে পারছিলাম না। ওদিকে আমাদেরও ইচ্ছা নেই বাইরে বের হবার। তাই ছলে বলে কৌশলে আমার মেঝ ননাসের ছেলের উপর চাপিয়ে দিলাম ভ্রমনের ভার।
সাবই চলে যাবার পরে আমার বিদ্ধস্ত বারান্দার ভাঙ্গা টব আর ছেড়া ফুলের সামনে বসে আছি ভগ্ন হৃদয়ে, আর সোহা আমার কোলে উঠে গ্রীল বেয়ে বেয়ে উপরে ওঠার চেষ্টা করছে। হটাৎ বাবু আমার গলা জড়িয়ে বুকে মুখ লুকিয়ে বলে" আম্মু মা, আমান দামা নাই, পেন্ত নাই"
আবাক হয়ে গেলাম ওর কথা শুনে, কি ব্যাপার?
ওর দৃষ্টি অনুসরণ করে নীচের দিকে তাকিয়ে পরে বুঝলাম এত মন কষ্টের কারণ। ও বারান্দা থেকে দেখতে পেয়েছে লাল সাদা জামা পরে সাবই ঘুরছে, তাই দেখে একটু হিংসা হয়েছে আরকি!!!!!
তাই তারাতারি তাকেও সাজিয়ে দিতে হলো লাল সাদা সাজে.............






সাজু গুজু হয়ে যাবার পর শুড়ু করলো নতুন বায়না, মা বাইতে, মা বেনু ( বাইরে বেড়াতে যাবে)।

এই অনুরোধ তো আর উপেক্ষা করা যায় না, তাই বের হতেই হলো......:| :|
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০১২ রাত ১:২২
৭৪টি মন্তব্য ৭৪টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×