
পাখি সবার মত আমারও খুব ভালো লাগে। খুব ইচ্ছে ছিল একটা কথা বলা পাখি থাকবে আমার। আর সব না হওয়া ইচ্ছের মত এই ইচ্ছেটা হয়নি।
কারও বাসায় কথা বলা পাখি আছে শুনলেই আমি সেই বাসায় যেতে খুব আগ্রহী থাকতাম
আমি পেপারে একবার পড়েছিলাম, নিরিবিলি শান্ত কোন জায়গায় পাখির খাবার প্রতি দিন একই সময় নিয়মিত রেখে দিলে পাখিরা সেখানে সব সময় আসে সেই খাবার খেতে। অনেক সময় অনেক পাখি পরিচিত হয়ে যায়। এতই চেনা হয় যে তাকে হাত থেকেই খাবার খাওয়ান যায়!
তবে লেখা ছিল যে পাখি যে খাবার খায় তার জন্য সেই খাবার টাই রাখতে হবে। তার মানে আমি যেই পাখি টাকে পোষ মানাতে চাই আমাকে সেই পাখির খাবার দিতে হবে নিয়মিত
আমার পড়ে খুব ভাল লাগল কাজটা আর খুব সহজ মনে হয়েছিল। ঠিক করলাম আমিও করব। পাখির খাবার রাখব। আমাদের এদিকে চড়ুই আর কাক বেশী দেখা যায়। তাই ঠিক করলাম চড়ুই হবে আমার পাখি। চড়ুই খায় ধান আম্মু বলল। কিন্তু ধান যোগান করতে পারলাম না। শেষে চাল দিয়েই শুরু করব ঠিক করলাম।
প্লাস্টিকের বোতলের অর্ধেক কেটে একটা বাটির মত বানালাম। তাতে গরম শিক দিয়ে ফুটা করে দড়ি দিয়ে বাধলাম। তার পর আমার পড়ার টেবিলের পাশের জানালার শিকের সাথে বেধে দিলাম। জানালার বাইরে ঝুলবে। আর অনেক উপরে তাই কেউ ফেলে দেয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু পাখি সহজেই খেতে পারবে।
বেশ কিছুদিন খুব খেয়াল রাখলাম কিন্তু দেখি কোন পাখির প এর ও খোজ নাই!
এর কিছু দিন পর খুব বৃষ্টি হল। বৃষ্টিতে চাল ভিজে চুপ চুপে হয়ে গেছে দেখে নামিয়ে নিলাম। আর আমার এক্সপেরিমেন্ট টা ফেইল করল সেই কথা ভেবে দীর্ঘ নিশ্বাস নিলাম
বেশ কিছুদিন পর হঠাৎ খেয়াল করলাম জানালার পাশে
কিন্তু তখন খাবার না পেয়ে কিচির মিচির করছিল
এর পর চাল দিয়েছিলাম কিন্তু আর আসেনি। মনে হয় রাগ করেছে! আমার ইচ্ছে আছে আবার করব এমন।
আমাদের বাসায় কাজ করেন খালা আমাদের একবার বললেন, শালিক পাখি নাকি কথা বলতে পারে। শুনেই আমরা লাফ দেই
পাখিটার আবার পা ভাঙ্গা ছিল। তাই বেধে রাখা হয়নি। পাখিটা টুক টুক করে হেটে বেড়াত সারা ঘরে। আর আমার পড়ার টেবিলের নিচে বসে থাকত। আমাকে তাই খুব সাবধানে পড়তে হত।যদি পা লেগে যায় পাখির গায়ে!। ভুলেও যদি আমার পা কাছে পেত টুক করে ঠোকর মারত। আর আমি চমকে পারলে পরেই যাই! ২/৩ মাস পর পাখি টা মুখ দিয়ে অদ্ভুত কট কট শব্দ করত। কিছু বলতে চাইত যেন। কিন্তু বারান্দা থেকে কাক কামড়ে নিচে ফেলে পাখি টাকে মেরে ফেলেছে। আমার মাঝে মাঝেই মনে হয় পাখি টা বুঝি আমার টেবিলের নিচে বসে আছে। একটু পরই ঠোকর দিবে!

এর পর একবার স্কুলের কাছে খুব মুরগির বাচ্চা বিক্রি করার ধুম পরে গেল। সবাই মুরগির তুল তুলে বাচ্চা গুলো কিনে নিত। তার সাথে খাবার। দেখে এত কিউট লাগে। আর মেয়ে গুলো তো দেখেই কুপোকাত! না কিনে যাবে কই! ধুমছে কিনেছে সবাই। কিন্তু জানি না সেই বাচ্চা গুলোর কি হয়েছে এখন। কিন্তু আমি রাখতে পারিনি আমার বাচ্চা গুলো কে। কাক নিয়ে গেছে আমার মুরগির বাচ্চা গুলো কে।
এর পর পাখি পালার ভুত আমার মাথা থেকে গেছে ভালো মতই।

বাসার কাছে অনেক গাছ থাকার কারনে কাকের বাসা অনেক দেখা যায়। বারান্দার কাছে আম গাছেও নিয়মিত এক কাক পরিবার বাসা বানায় আর থাকে ডিম ফুটে বাচ্চা হওয়া পর্যন্ত।
কিন্তু আমাদের অবস্থা খারাপ করে ফেলে। সারাদিন কা কা কা করে সবার কান ঝালা পালা করে দেয় (আমি ছাড়া সবার, আমার কান ঝালা পালা হয় না আর সেই কথা বাসায় বলার কারনে আজ আমাকে বকুনি খেতে হইছে
আমাদের প্রতিবেশী এই কাকের অনেক দাবি আমাদের মেনে নিতে হইছে।
যেমনঃ
বারান্দায় বাসার বাসিন্দারা যেতে পারবে না!
গাছের ধারে কাছে থাকতে পারবে না!
কাকের দিকে তাকাতে পারবে না
আর যদি অমান্য করা হয় শুরু হয় কাকের প্রতিবাদ!
আম্মু বারান্দার দরজা খুলে রুমের মাঝে বসে থাকলেও কাক পরিবারের বিরাট সমস্যা দেখা দেয়! বাধ্য হয়ে আম্মু রুম থেকেই চলে আসে।
কা কা করে করে আর গাছের ডাল পালা ভেঙ্গে ভেঙ্গে তার প্রতিবাদ করতে থাকে!
কাকের এই প্রতিবাদ আমি আম্মুর কাছে শুনে বিশ্বাস করতে পারি নাই প্রথমে। পরে আমি নিজের চোখে দেখলাম! দেখে পুরা টাস্কিত।!

****
এলোমেলো কিছু কথা লিখে ফেললাম।
লেখাটা আমি শুরু করেছিলাম বড় বিলাই আপুর দালান কোঠায় পাখির বাসা পোস্টে কমেন্ট দিয়ে।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৮:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



