somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছাত্রী পড়াতে গিয়ে কিছু অন্যরকম অভিজ্ঞতা

০৫ ই জানুয়ারি, ২০১১ দুপুর ১২:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হলে উঠার পর প্রথম দিকে সিনিয়র ভাইয়েরা বলতেন আরে মিয়া ছাত্রী পড়াইতে না পারলে তোমার জীবন ষোলোআনাই বৃথা ৷ পরবর্তীতে সিনিয়র ভাইদের অনেক কাহিনীই শুনলাম,কারো ছাত্রীর সাথে আবার কারোবা ছাত্রীর বোনের সাথে রিলেশনে যাওয়া,কারো আবার ছাত্রীর কাছে ছ্যাঁকা খেয়ে পুরো তার ছিরা অবস্থা এমন হাবিজাবি অনেক কিছুই:-* ৷ আমার অবশ্য সেরকম কোনো কিছু না ঘটে থাকলেও অন্যরকম কিছু অভিজ্ঞতার সুযোগ ঘটেছিলো ৷

আমার প্রথম ছাত্রী ছিল ভিকির ইন্টার ফাস্ট ইয়ারের ৷ প্রথম যেদিন গেলাম ছাত্রী দেখে ভড়কে গেলাম,মাশাল্লাহ বাংলা ছবির নায়িকারাও ফেল মারবে:) ! যাইহোক প্রথমদিন যখন পড়াচ্ছিলাম তখন পুরোটা সময়ই ছাত্রীর মা একটু দূরে বসে প্যাপার পড়ে কাটিয়ে দিলেন ৷ এর আগে পড়াতে গিয়ে কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি বলেই ব্যাপারটা কেমন যেন লাগলো, তারপরেও ধরে নিয়েছিলাম যে হয়ত প্রথমদিন বলেই মনে হয় কেমন পড়াই সেটা দেখার জন্যই সারাক্ষণ এমন করে মাথার উপর বসেছিলেন ৷ কিন্তু আমার ধারণা ভুল ছিল,এমন করে দেখি প্রতিদিনই হয় ছাত্রীর মা না হয় তার বড় ভাই পাহারা দিতে লাগলেন ৷ ব্যাপারটা খুবই ইরিটেটিং ছিল আমার মেজাজ গেল চরম খারাপ হয়ে,এতই যদি ভয় তাহলে প্রাইভেট টিউটরইবা রাখার দরকার কি আর যেইনা মেয়ে এর সাথে আবার অন্যকিছুর চিন্তা করবে কেউ কোন দুক্ষে ! মাস শেষে হওয়ার আগেই জানিয়ে দিলাম আমি আর নেক্সট মাস থেকে পড়াব না,এভাবেই আমার প্রথম ছাত্রীর অধ্যায়ের সমাপ্তি নিজেই ঘটাই ৷

এরপরের ছাত্রী ছিল ও লেভেলের,মেয়েটা ছিল একদম বাচ্চা মেয়ে টাইপের ৷ প্রথমদিন পড়াতে গেলে দেখি ছাত্রী সালাম দেয়,ব্যাপক ভদ্র মেয়ে মনে মনে বলি কেন যে মানুষজন ইংলিশ মিডিয়ামের পোলাপানদের নিয়ে এতকিছু বলে ৷ কিন্তু একটু পরই আমি বিব্রতকর অবস্থায় ! প্রকট ঘামের ঘন্ধ নাকে আসল,প্রথম দিনই এভাবে প্রেস্টিজের বারোটা বেজে যাচ্ছে দেখে লজ্জায় পড়ে গেলাম ৷ কিন্তু কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে এর উত্স আমি কেননা আমি সবসময়ই এসব ব্যাপারে যথেষ্ঠ কেয়ারফুল ৷ ঐদিনের পড়ানো থেকে ফিরেই ব্যাপারটা চেক করলাম কিন্তু আমার ধারণা ঠিকই আমি এর উত্স ছিলাম না ৷ এই প্রথম বারের মত আমার অভিজ্ঞতা হলো যে কিছু কিছু ছেলেদের মত কিছু কিছু মেয়েদেরও প্রচন্ড ঘামের দুর্গন্ধ হয় ৷ আমার এই ছাত্রী মাঝে মাঝে যখন সরাসরি স্কুল থেকে এসে পড়তে বসত,ঐদিন ব্যাপারটা মোটামুটি টর্চারের পর্যায়ে চলে যেত !/:)

এবারের ছাত্রী আইডিয়ালের,যেদিন পরিচিত হতে গেলাম দেখি ছাত্রী শুধু মিটিমিটি হাসে ৷ যাইহোক প্রথমদিন পড়াতে গিয়ে ছাত্রীর জন্য ওয়েইট করছি,বেশ কিছুক্ষণ পর ছাত্রী আসল কিন্তু ছাত্রীকে দেখে আমি থতমত:-* ৷ এত সেজেগুজে আসছে যে এ ঠিক পড়তে আসছে না কোনো ফাংশনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বুঝতে কষ্ট হলো ! সবই ঠিক ছিল কিন্তু ছাত্রী যখন মুখ খুলল তখন বাধলো বিপত্তি,মুখে এমন দুর্ঘন্ধ নিয়ে এত সাজুগুজু করে কি লাভ হলো বুঝলাম না ৷ কিন্তু যেহেতু তখন কিছুই করার ছিলনা তাই সিদ্ধান্ত নিলাম ছাত্রীকে পারতপক্ষে কোনো কথা বলতে দিব না,যা বলার লেখার আমিই করব ৷ কিন্তু ছাত্রী ছিল পাজি,কিছুক্ষণ পরই আমার জন্মদিন হেনতেন নিয়ে শুরু করলো আলগা প্যাচাল ! কিছুদিনের ভিতরেই বুঝতে পারলাম ছাত্রী আমার প্রতি উইক হয়ে পরছে,তাই ব্যাপারটা অন্যদিকে মোড় নেয়ার আগেই তাকে বলে দিলাম যে আমি অন্য আরেকজনের সাথে ইন্গেইজড ৷ সেদিন সে কষ্ট পেলেও পরবর্তিতে তার সাথে আমার ভালো ফ্রেন্ডলি সম্পর্ক গড়ে উঠে ৷

একদিন আমার আইডিয়ালের ছাত্রীকে পড়াচ্ছি এমন সময় আন্টি এসে বললেন যে তোমার সাথে এক আপা কথা বললেন ৷ ছাত্রীর কাছ থেকে জানতে পারলাম ছাত্রীর এক ফ্রেন্ডের মা,তবে এ আইডিয়ালের না এ ভিকির ৷ ইনাকে দেখেই বুঝলাম খুবই কনজারভেটিভ ফ্যামিলির লোক ৷ উনি বললেন আপনার কথা আপনার ছাত্রী আর আপার কাছে শুনেছি,আমি বললাম দেখেন আন্টি আপনি আমাকে তুমি করেই বলেন আপনি বলার দরকার নেই ৷ পড়ানোর ক্ষেত্রে আমি যে জিনিসটাকে প্রাধান্য দিতাম তা হলো লোকেসন,দূরে হলে সেক্ষত্রে আমি নেই ৷ তো এই আন্টি যখন লোকেসনের কথা বললেন তখন আমি উত্তর দিলাম এত দূরে গিয়া আমার পক্ষে পড়ানো সম্ভব না ৷ উনি বললেন আপাতত অল্প করে শুরু করতে পরে ফ্রি হলে না হয় আরো বেশি করে গেলাম,আমি বললাম আসলেই আমি অপারগ তবে আপনি চাইলে আমি অন্য কাউকে খুঁজে দিতে পারি ৷ বুঝলাম এটা উনার পছন্দ হলো না তাই বললাম আরেকটা কাজ করতে পারেন আপনার মেয়েকে এখানে পাঠিয়ে দিতে পারেন আমি দুজনকে একসাথেই না হয় পড়াব,উনি বললেন সেটাও সম্ভব না কারণ তাহলে উনাকে সপ্তাহে অন্তত তিনদিন সন্ধার পর এখানে ছাত্রীর সাথে এসে তারপর পড়া শেষ হবার পর তাকে নিয়ে ফিরতে হবে ৷ আমি বললাম আমি আসলেই সরি তবে যদি আপনি মত পরিবর্তন করেন আমাকে জানাবেন আমি আমার পরিচিত কাউকে খুঁজে দেয়ার চ্যাষ্টা করব ৷ তার কিছুদিন পর ছাত্রীর জন্য ওয়েইট করছি এমন সময় দেখি ছাত্রী আরেকটা মেয়েকে বিদায় দিতে যাচ্ছে,অন্য মেয়েটা দেখালম অসম্ভব সুন্দরী ৷ কিছুক্ষণ পর ছাত্রীর কাছ থেকে জানতে পারলাম এই হচ্ছে তার ফ্রেন্ড যাকে পড়ানোর কথা ছিল,শুনে আমি শুধু আফসোস খেলাম !:((

তবে সব থেকে বেশি মজা হত রাতে যখন ফিরে হলের ডাইনিংয়ে খেতে বসতাম তখন,কে কে ছাত্রী পড়ায় মোটামুটি সবাই জানতাম ৷ দেখা যেত কেউ একজন পড়ানো থেকে ফিরে খেতে বসেছে তখন বাকি পোলাপান শুরু করে দিত কি মামা এত মান্জা মাইরা কই থাইকা আসলা;),এই যে এটা দিয়ে শুরু হলো তারপর চলতেই থাকত আর অল্পকিছুক্ষণের ভিতরেই বিটলা জুনিয়র আর সিনিয়র ভাইয়েরাও যোগ দিত ৷ সেটা ছিল অন্য রকমের এক মজা,এগুলো এখন অনেক মিস করি !/:)
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৪:৫৩
৬৯টি মন্তব্য ৬৮টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×