আমরা তখন ৮ম শ্রেণীর ছাত্র। সব ক্লাশেই কোন না কোন ইচড়ে পাকার আবির্ভাব ঘটে। আমাদের ক্লাশেও এর ব্যতিক্রম নয়। আমাদের সাথে যে ইচড়ে পাকা ছিল তার নাম "সজল"। আমরা তাকে "ম্যাগগাইভার" বলে ডাকতাম। একটা কাহীনি বলি তাহলেই বুঝবেন................
"ম্যাগগাইভার" একটা মেয়েকে খুব পছন্দ করত। কিন্তু সে যতই ইচড়ে পাকা হোক, মেয়েটা সামনে আসলে তার পেটে বোম মারলেও কোন কথা বের হতনা। মেয়েটা যখন প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তায় আসত, আমাদের "ম্যাগগাইভার" তাকে কিছু বলার জন্য ঐ রাস্তায় সাইকেল নিয়ে ঘুরা ঘুরি করত। কিন্তু যখনই মেয়েটা নির্দিষ্ট একটা দূরত্বে চলে আসত ঠিক তখনই তার সাইকেলের চেইন পড়ে যেত। এটা তার ছিল একটা টেকনিক। চেইন তোলার ভান করে মেয়েটার সাথে কথা বলার ব্যর্থ চেষ্টা করত প্রতিনিয়ত।
এহেন আরও কিছু কর্ম সম্পাদন এবং এক্সক্লুসিভ কিছু জ্ঞানের কারনে আমরা তাকে "ম্যাগগাইভার" বলে ডাকতাম। এবার আসল কথায় আসি.....
ক্লাস সেভেন থেকেই "ম্যাগগাইভার" পরীক্ষার হলে নকল করায় একেবারে স্বিদ্ধহস্ত।"ম্যাগগাইভার" এর এরকম জ্ঞানের কথা আমাদের স্কুলের এক ম্যাডাম কিছুটা জানতেন। পরীক্ষার সময় আর কাউকে চেক করুক আর নায় করুক "ম্যাগগাইভার" কে চেক করবেন এটা শিওর এবং প্রত্যেকটা পরীক্ষায় ম্যাডাম এসে তার প্যন্টের পকেট চেক করতেন সবার আগে। তাতে সন্দেহ হোক বা না হোক।
"ম্যাগগাইভার" এবার কিছুটা বিব্রত বোধ করতে শুরু করল সেই সাথে রাগ। আর আমরাও ক্ষ্যপাতাম ওকে সেইরকম।
ক্লাস এইটের ফাইনাল চলছে। ইংরেজী ২য় পত্র পরীক্ষা। ম্যডাম আসলেন "ম্যাগগাইভার" এর কাছে।
: সজল!!!
: কৈ ম্যাডাম
: আমি একটা কাগজ দেখতে পাচ্ছি।
: ও এটা!!!!! এটা আমার প্রবেশ পত্র।
: দেখি, উঠে দাড়াও।
এই বলে যথারীতি আবারো প্যন্টের পকেটে হাত। এবার পকেটে হাত দিয়েই ম্যডামের এ্যটিচিউড পুরা চেন্জ!!!!
ব্যপার টা বুঝলামনা।
পরীক্ষা শেষ করে বের হয়েই ওকে জিজ্ঞেস করলাম, ঘটনা কি রে?
উত্তরে সে বলল...........
সজল : বাসা থেকে বের হওয়ার সময় পকেটের সেলাই গুলো কেটে এনেছি, পুরা ফাকা। আর আজকে আন্ডারওয়্যার টা পরিনি।
আমি : তার মানে ম্যডামের হাত.........................

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





