গত ১৮ তারিখ রাতে রুয়েট (রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) লে. সেলিম হলে ছাত্রদল ছাত্রলীগ কর্মীদের উপর হামলা করে ৪ জনকে গুরুতর জখম করে,অনেক কয়টি রুম ভাংচূর করে এবং আগুন দেয়। ছাত্রলীগ পরে আবার ছাত্রদল কর্মীদের রুম ভাংচূর করে এবং আগুন দেয়। পুলিশ সেই রাতেই উভয় দলের মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার হওয়া ছাত্রদের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় নেবে না বলে জানিয়েছে। আমাদের ফাইনাল পরীক্ষা চলছিল। ২৩ তারিখের পরীক্ষা পিছিয়ে ৬ জুলাই দেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগ আবার সেলিম হলের প্রভোস্ট মফিজ স্যারের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে অন্যথায় ২৪জুন হতে ছাত্র ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছে। এরপর সব হল মোটমুটি ফাঁকা, যদিও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ নয়
রুয়েটে কোন সৃজনশীল সংগঠন টিকে থাকেনা। এখানে স্থায়ী সংগঠন চারটি- তাবলিগ জামাত, ছাত্রদল, ছাত্রলীগ,শিবির।
প্রথম সংগঠনটি লালন করেন রুয়েটের সিনিয়র শিক্ষকরা। এখানে ছাত্র-ছাত্রীরা বিতর্ক অনুষ্ঠানের অনুমতি পায় না, ১লা বৈশাখে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান করতে পারেনা কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস নিয়ে ইজতেমায় যেতে পারে।
২য় আর ৩য় সংগঠনের ভেতর তেমন পার্থক্য নেই। এদের কর্মকান্ড বিভিন্ন সময় মারামারি, স্লোগানের মাধ্যমে শক্তি প্রদর্শনে সীমাবদ্ধ। যদিও জরুরী অবস্থার মধ্যে এদের কর্মকান্ড প্রায় স্থবির ছিল।
এবারে বলি ৪র্থ সংগঠনটির কথা। এদের স্থবিরতা বলে কিছু নেই। জরুরী অবস্থার মধ্যে এরা কর্মতৎপরতা চালিয়েছে মসজিদে(হলের এবং কেন্দ্রীয়), বিভিন্ন রুমে ক্যাম্পাসের ভেতরে এবং বাইরে, বাইতুল মালের নামে তহবিল সংগ্রহ করেছে, নামাজ পড়ার উপদেশ দেওয়ার নামে নিজেদের প্রচার এবং সদস্য সংগ্রহ করেছে, প্রথম বর্ষের ছাত্রের নিয়ে পিকনিকে গিয়েছে, বিভিন্ন সময় ক্রিকেট খেলার আয়োজন করছে, ভিন্ন নামে পত্রিকা ছেপেছে, স্বাধীনতা দিবসে পোষ্টারিং করেছে(!!!)(সংগঠন হিসেবে নাম দিয়েছে “ক্যারিয়ার কর্নার”) আর কোচিং সেন্টারের নামে তো ব্যাবসা চালাচ্ছেই (এরা কংক্রীট কোচিং নামে ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং পরিচালনা করে),এরা ক্লাসের ব্ল্যাক বোর্ডে হাদিস লিখে রাখে। এদের কোন কাজেই স্যারদের বাধা দিতে দেখা যায় না।
সৃজনশীল সংগঠন না থাকার কারনে ছাত্রদের মধ্যে বন্ধনও তেমন দৃঢ় নয়। তাই এ ধরনের ছোট-খাট সমস্যা যে কোন সময় সময় সৃষ্টি করতে পারে সেশন জট। কারন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন খুব নড়বড়ে ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে আছে।
পরবর্তী ভিসি হিসেবে ম্যাকানিক্যাল ডিপার্টমেন্টের মো: নূরুল ইসলাম স্যারের নাম শোন যাচ্ছে। তা যদি হয় তবে অনেকে যে রুয়েট কে ফান করে মাদ্রাসা বলে তা সত্য হবে আর চার বছরের Bsc ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ৩ ক্রেডিটের তাবলিগ কোর্স চালু হবে(!!!)( এখনই আন-অফিসিয়ালি চালু আছে। ম্যাকানিক্যাল ডিপার্টমেন্টের ফাইনাল ইয়ারের 1st,2nd,3rd বড় ভাই-রা থিসিস শেষ করে ৩ চিল্লা দিতে যায় )।
আশা করি পাঠকরা আমাকে বাচাল অভিযোগকারী ভাববেননা। আর যদি এই বলে আশ্বস্ত করতে চান , কেন আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করি না? তবে সেই কাহিনী আর একদিন লিখব এখানে ছাত্র শিক্ষক সম্পর্ক কেমন সে বিষয়ে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



