বুয়েটের সোনালি দিনগুলো শেষ করে প্রথম সারির এক মোবাইল কম্পানির চাকরির যাঁতাকলে পড়ে মন আরো নিরস হয়ে যায়। ব্লগের লেখা নিয়মিত পড়াও হয় না। এইভাবে কেটে যায় দিন। সুখে থাকলে ভুতে কিলায়। হঠাৎ নিজের ক্যারিয়ারটাকে একটু নাড়াচাড়া দিতে ইচ্ছা হলো। কুপের এই বাঙালীর একটু দুনিয়া দেখতে স্বাদ হলো। রঙিন চামড়ার বাঙালির তো আর সাদাদের দেশে কোন দাম নাই তাই আমার জায়গা হলো কালো চামড়ার নাইজেরিয়াতে।
অনেক আগে একবার ব্লগে লেখার ইচ্ছা থেকে নাম নিয়েছিলাম "সাদা-কালো-রঙিন"। আজ যখন প্রথমবারের মত লিখতে বসে লেখার বিষয় নিয়ে ভাবছি তখন মনে হলো আমার লগইন টাইটেলটাই তো একটা বিষয়
"সাদা-কালো-রঙিন" এই তিন কম্বিনেশন কতকিছুই mean করে......আমার কাছে :
সাদা : পবিত্রতার প্রতীক
কালো : অপবিত্রতার প্রতীক
রঙিন : পবিত্রতার + অপবিত্রতার প্রতীক
দুবাই ইমিগ্রেশনে এসে অন্য ধারনা হলো। ইমিগ্রেশন অফিসার এর ব্যবহার দেখে মনে হলো সাদা চামড়া বিত্তের প্রতীক, কালো অচ্ছুৎ , আর আমাদের এই রঙিন চামড়া ( কারো একটু শ্যামলা, কারো একটু সাদা তাই আমি নাম দিয়েছি রঙিন চামড়া) চাকর, শ্রমিকের প্রতীক।
নাইজেরিয়াতে এসে দেখলাম অন্যদিক। এখানে আমার এই রোদে পোড়া রঙিন চামড়াও সাদা হিসাবে সম্মান পায়। এতে হয়তো আমার খুশি হওয়ার কথাই ছিল। কিন্তু এখানে সাদাদের ( এমনকি রঙিনও ) ওপরই কালোদের আক্রোশ বেশি। গাড়ীতে যখন আসছিলাম, রেডিওতে এক আলোচনা অনুষ্ঠান চলছিল, "is black people cursed ? "ড্রাইভার যখন আমাকে আড়চোখে দেখছিলো আর ভাবছিল "এই সাদারা আমার দেশটা চুষে খেল...." তখন আমার মনে হচ্ছিল লজ্জায় মাটির সাথে মিশে যাই।
সাদা-কালো-রঙিন এই ভেদাভেদ আর কতদিন চলবে ? মানুষ কি একবার ও ভাবে না সবার রক্তই লাল ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

