somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের ছাদে আমরা ক'জনা.............

০২ রা ডিসেম্বর, ২০১৩ সকাল ১১:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সকলের শরীর দিয়ে ঘাম গড়িয়ে নামছে,জোঁকের কামড়ে রক্ত ঝড়ছে অনেকের পা থেকে। শরীর ভেঙ্গে যেতে চাইছে, কিন্তু মুখগুলোর দিকে তাকালে দেখবেন প্রত্যেকেরই মুখে অমলিন হাসি আর অবয়বে তৃপ্তির ছাপ স্পষ্ট। আর এই তৃপ্তির ও যথেষ্ট কারণ আছে আমাদের ১২ জনের টিমের কেউই আগে বাংলাদেশের ছাদে উঠিনি।

মানে আমি বলতে চাচ্ছি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চুড়া সাকা হাফং বা ত্লাংময়ের কথা। ওখানে পৌছে আমাদের আনন্দের যেন আর সীমা রইলো না।

আমি ভালো লেখক নই, মূলত ছবি দিয়েই পোষ্ট শেষ করতে আমি ভালোবাসি। কিন্তু এতো কঠিন পথ পাড়ি দেওয়ার সময় ছবি তোলার সুযোগ থাকে খুবই কম। যাদের পাহাড় ট্র‌্যাক করার অভিজ্ঞতা আছে তারা ভালোই জানেন, একপাশটা আকাশ ছোয়া পাহাড়ের দেয়াল আর অন্য পাশটা হাজার ফুট নেমে যাওয়া মৃত্যুখাদ, সেই সাথে পাহাড় পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে উঠা ঝুরঝুরে কিংবা পিচ্ছিল মাটিতে যেখানে পা রেখে চলাই দায় সেখানে ক্যামেরা হাতে নেওয়ার সুযোগ কোথায় ? তবু যেটুকু ছবি তুলেছি তা দিয়েই আজকের পোষ্ট সাজানোর চেষ্টা করবো।


(২) আগে কাইক্ষাং ঝিরি থেকে রুমা বাজার পর্যন্ত সাঙ্গু নদীর উজানে ট্রলারে যাইতে হতো, কিছুদিন আগে নতুন ব্রীজ উদ্বোধন হওয়াতে রুমা বাজারে হইতে তিন কিলোমিটার দুর পর্যন্ত চান্দের গাড়িতেই যাওয়া যায়। ছবিতে দেখা যাচ্ছে পাহাড়িরা জুমের জমি তৈরী করছে।


(৩) পাহাড়িদের ছাগলগুলো যেভাবে সাঙ্গু পারি দেয় :)


(৪) আগের দিন বগালেকে রাত যাপন করে ২য় দিন খুব ভোরে শুরু হলো আমাদের সাকা হাফং যাত্রা, পথের পাশে ফুটে থাকা শিশির ভেলা লাল ফুলগুলো যেন আমাদেরকে শুভ কামনা জানাচ্ছিল।


(৫) এমন বিশাল মাকড়শাগুলো পাহাড় ছাড়া অন্য কোথাও আমি দেখিনি।


(৬) পথের ক্লান্তি দূর করার জন্য ঝিরি থেকে বাঁসের গ্লাস দিয়ে পানি খাওয়ার সময় আপনি সত্যিই রোমাঞ্চিত হবেন।


(৭/৮) যাওয়ার পথেই পড়ে কেওকারাডাং চুড়া, ওখানে ওঠে কিছু ক্লিকবাজী না করলে কি হয় ? তবে এবারের কেওকারাডাং চুড়া ছিলো অন্য রকম সাজে, কারণ কয়েকদিন আগে মাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওখানে গিয়েছিলেন।




(৯) কেওকারাডাং পার হয়ে পনের মিনিট আগালেই পরে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ গ্রাম পাসিং পাড়া, পাসিং পাড়া পার হয়ে আমরা আমরা জাদিপাই পাড়ার পাশ কেটে এগিয়ে চললাম বাকলাই পাড়ার দিকে।


(১০) ক্লান্ত পথিক এমন রূপ দেখে থমকে দাড়াবে, এ আর অস্বাভাবিক কি ?


(১১) কোন কোন সময় খুবই পানি সংকট দেখা দেয়, তখন কার্নিস বেয়ে এমন ফোটা ফোটা পানিও হয়ে উঠে ট্র্যাকারদের জন্য আশির্বাদ স্বরুপ।


(১২) সাকা হাফং এর পথে আমাদেরকে স্বাগতম জনাচ্ছিল পাহাড়ি ফুল আর নীল আকাশ।


(১৩/১৪) একসময় আমরা পৌছে যাই সাকাহাফং এর পায়ের কাছের গ্রাম নেফিউ পাড়াতে, এটা একটা মুরং পাড়া। পাড়াটা দেখতে নোংরা হলেও আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে।




(১৫) মুরং পাড়ার শিশুরা।


(১৬) টপলেছ এক মুরং মহিলা কাঁচা বাঁশের ভেতর কিছু একটা রান্না করছে।


(১৭) মুরং পাড়ায় একটি রাত কাটিয়েছিলাম এই ঘরে, এই ঘরের দরজায় সব সময় দাড়িয়ে থাকতো একটা ভয়াল দর্শন গয়াল, কিন্তু খুবই নিরিহ।


(১৮) সাধের লাউ, লাউয়ের খোসা দিয়ে তৈরী পাহাড়িদের পানি রাখার পাত্র, একটু পান করে দেখলাম, এটার পানিতে অন্য রকম একটা স্বাদ আছে।


(১৯) খাবার খাওয়া রত মুরং পরিবার।


(২০) আমাদের জিপিএস রিডিং বলছে এই চুড়ার উচ্চতা ১০৫৩ মিটার বা ৩৪৫৪ ফিট । পরদিনই খুব ভোরেই আমরা নেফিউ পারা থেকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চুড়ায় চলে আসি।


(২১) মায়ানমারের আকাশে মেঘের নদী। সাকা হাফং এর পরই মায়ানমার শুরু, যদিও ওখানে কোন সিমান্ত রেখা আমরা দেখতে পাইনি বা দেখিনি বাংলাদেশ বা মায়ানমারের কোন সিমান্ত বাহিনী।


(২২) বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্থানে পৌছার পরও বুঝি আমাদের মন ভরেনি, তাই তো সকল বন্ধুরা মিলে আকাশ ছোয়ার প্রচেষ্টা.........

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৫৫
২৩টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মেড ইন বাংলাদেশ ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:২২


দেশপ্রেমের সংজ্ঞাটা আমাদের দেশে ঋতুভেদে বদলায়। তবে ২০২৪-এর জুলাই পরবর্তী সময়ে আমরা এক নতুন ধরনের সিজনাল দেশপ্রেম দেখলাম। একে বলা যেতে পারে "রিটার্ন টিকিট দেশপ্রেম"। যারা দেশে বিদেশে আরাম-আয়েশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের কৃষি আধুনিকায়ন রোডম্যাপ: একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিপত্র রূপরেখা : পর্ব -১ ও ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১১


প্রস্তাবিত রূপরেখা: কৃষিকে জীবিকানির্ভর খাত থেকে প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহনশীল
ও বৈশ্বিক বাজারমুখী বাণিজ্যিক শিল্পে রূপান্তরের জাতীয় কৌশল প্রস্তাবনা ।

বাংলার মাঠে প্রথম আলোয়
যে ছবি আসে ভেসে
কাঁধে লাঙল, ঘামে ভেজা মুখ
কৃষক দাঁড়ায় হেসে।

সবুজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুদের পর্যবেক্ষণ, শিশুদের ভালোবাসা

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৩


Two for joy!

আমার চার বছরের নাতনি আলিশবা আমাকে ব্রীদিং এক্সারসাইজ করতে দেখলে সে নিজেও শুরু করে। যতটা পারে, ততটা মনোযোগের সাথে অনুকরণ করতে চেষ্টা করে। আমি ওকে দেখলে কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি ধার্মিক না মানুষ?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮

ধার্মিক হওয়া কোনো কাজের কথা নয়।
ধার্মিক হওয়া সহজ। বিজ্ঞানী হওয়া সহজ কথা নয়। পিএইচডি করা সহজ কথা নয়। সেই তুলনায় কোরআন মূখস্ত করা সহজ। জন্মগত ভাবে আমি বাপ মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমাকে ভালোবাসি I love you

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৩:০২

তোমাকে ভালোবাসি বাতাসের মতো,
যেমন শিশুর কাছে বালি একটা খেলনা,
অথবা ঝড়ের মতো, যাকে কেউ বোঝে না।

I love you like the wind,
Playing like a child in the sands,
Or a storm that no... ...বাকিটুকু পড়ুন

×