[আজকের ভালোবাসা দিবসের প্রায় অর্ধেক শেষ হয়ে গেল। নতুন নতুন হাজারো স্বপ্নের শুরু হয়েছে, কারো বা সব শেষ হয়ে গেছে। যাই হোক ভালোবাসা ভালোবাসা-ই-যার কোন বিকল্প নেই, হবেও না। যা বলতে যাচ্ছি তা আজকের দিনে অনেকের জীবনেই হয়ত ঘটেছে- খুব সাধারণ ঘটনা। ]
হিমেলকে আমি খুব পছন্দ করি। বলা যায়, ওকে ঘিরে আমার অসম্ভব রকম ভাল লাগা রয়েছে। সারাণ আমার চিন্তায়, ভাবনায় কেবল ও-ই চলে আসে। সেদিন কাসে বসে আছি। স্যার কাসে লেকচার দিচ্ছিলেন। প্রথম দিকে প্রতিটা কাসেই আমার বেশ মনোযোগ থাকে। কিন্তু পাঁচ-দশ মিনিট চলে যাবার পর আমার যে কী হয়! আমি যে কোথায় চলে যাই_তা নিজেও জানি না। তো সেদিন যথারীতি কাসে থেকেও যেন আসলে ছিলাম না। ব্যাপারটা স্যার খেয়াল করলেন। হঠাৎ তিনি চিৎকার করে বললেন, Hello Sadat! Stand up!
-স্যার! ইয়েস স্যার। আমি যেন বেশ থতমত খেয়ে গেলাম।
-বল তো সবচেয়ে হালকা গ্যাস কোনটা?
-হিমেল, স্যার!
-What?
পাশ থেকে সারোয়ার বলল, আরে গাধা, হিমেল না উত্তরটা হিলিয়াম হবে। আহারে! মেয়েটা তোর মাথাটা-ই নষ্ট করে দিয়েছে রে!
আসলেই আমার মাথাটা বোধহয় একটু খারাপই হয়ে গেছে। তা না হলে একটা মেয়েকে নিয়ে আমি এতটা ভাবব কেন? অথচ এই কিছুদিন আগেও আমি এমনটা ছিলাম না। প্রেম, ভালোবাসা_নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যথা ছিল না। আমার বন্ধুরা যারা প্রেম করে তাদের আমি বলতাম, Useless time consumer! কিন্তু হিমেলকে দেখার পর এ আমার কি হল! এখন আমি রাত জেগে ওকে নিয়ে ভাবি। মধ্যরাতে কল দিয়ে ওর ঘুম ভাঙাই। কিন্তু কথা বলতে পারি না। ও অনেকবার হ্যালো, হ্যালো_বলে। আমি চুপ করে থাকি। শেষে আমাকে 'স্টুপিড' বলে ফোন কেটে দেয়। আমার ঘুম আসে না। আমি জেগে থাকি। জানালা দিয়ে বাইরে দূর আকাশে দেখি, বাঁকা চাঁদ যেন বাঁকা হাসি দিয়ে বলছে_তোর দ্বারা কিচ্ছু হবে না!
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ভাবি_আর এভাবে কষ্ট পাওয়া নয়। যা বলতে হবে সরাসরি বলতে হবে। তারপর_ইয়েস অথবা নো। যা থাকে কপালে আজ! কিন্তু হিমেলের সামনে গেলেই আমি কেমন যেন হিম হয়ে যাই। গলা থেকে কোন স্বরই বের হতে চায় না। হার্টবিট প্রচন্ডরকম বেড়ে যায়। মনে হয় হৃদপিন্ডটা যেন বুকের পাজরের সাথে বার বার ধাক্কা খায়। আমি বেহায়ার মত ওর পিছু পিছু ঘুরি। ও যেখানে যায় আমি সেখানে গিয়ে হাজির হই। কিছু বলি না। আসলে বলতে পারি না। শুধুই চেয়ে থাকি। কোন মেয়েই কোন ছেলের এমন আচরণ ভাল চোখে দেখে না। ছেলেটাকে ফালতু ভাবে। ব্যক্তিত্বহীন মনে করে। হিমেলও ইদানিং আমাকে দেখলে যেন কেমন করে! বুঝতে পারছি সে আমাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমি যে নিরুপায়_ওকে না দেখে আমি যে থাকতেই পারি না!
আজ 14 ফেব্রুয়ারি। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। সবাই আজকে বেশ সেজেগুজে ভার্সিটিতে এসেছে। হিমেল একটা নীল রঙের শাড়ি পরে এসেছে। কপালে নীল রঙের ছোট্ট একটা টিপ পরেছে। চুলগুলো ছেড়ে দিয়েছে কোমড় পর্যন্ত। অসাধারণ লাগছে ওকে। কেন ও এত সুন্দর...কেন! আজকে ওর সাথে কথা বলতেই হবে। আমি আর পারছি না। ভেতরে ভেতরে শেষ হয়ে যাচ্ছি। কিন্তু ও যদি আমাকে রিফিউজ করে_তাহলে তো আমি পুরোটাই শেষ হয়ে যাব! আমি কি করব? কি করব আমি?
হিমেলের সামনে যেয়ে ওর চোখে চোখ পড়তেই আমি যেন 'নাই' হয়ে গেলাম। কোন মেয়ের চোখে যে এত সম্মোহনী মতা থাকতে পারে_তা আগে আমার জানা ছিল না। আমি কিছু বলতে পারছিলাম না। বোকার মত ওর দিকে চেয়ে রইলাম।
-ভাইয়া, আপনি কিছু বলবেন? বলল হিমেল।
-আ্য...হঁ্যা...হ্যাপি...হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন!
হিমেল আমাকে কিছু বলল না। শুধু একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে চলে গেল। আমি দাঁড়িয়ে রইলাম। একটু দূরে গিয়ে সে ঘাড় ঘুড়িয়ে আমাকে আরেকবার দেখল। তারপর চলে গেল।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


