আমার প্রিয় পোস্ট

হেঁটে হেঁটে যতদূর চোখ যায়

নাটক ( পড়বেন? )

১৩ ই আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৪

শেয়ারঃ
0 1 0

ভালোবাসা দিবসের নাটক

“হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন”


রচনা: সাদাত শাহরিয়ার

চরিত্রসমূহ:

ক. রাজিব ঃ ভার্সিটির ছাত্র। অনার্স থার্ড ইয়ারে পড়ে। দেখতে কালো। চশমা পরে। বেশ কথা জানে।
খ. আশেক ঃ ভার্সিটির ছাত্র। অনার্স থার্ড ইয়ারে পড়ে। স্বাস্থ্য ভাল। বেশ মোটাই বলা যায়।
গ. সারোয়ার ঃ ভার্সিটির ছাত্র। অনার্স থার্ড ইয়ারে পড়ে।
ঘ. আশেকের ছাত্রের বড়বোন ঃ অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে পড়া এক মেয়ে।
ঙ. মিন্টু ভাই ঃ ৩০/ ৩২ বছর বয়সী যুবক। রাজিবের ভার্সিটির বড়ভাই।
চ. এক কিশোর ঃ ১২/১৩ বছর বয়সী এক কিশোর। লুসির ছোটভাই।
ছ. লুমি ঃ রাজিবের ছাত্রী। ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে। বেশ চঞ্চল প্রকৃতির।

দৃশ্য-১

( ইদানিং বিকেলবেলা রাজিব বেশ একা হয়ে পড়ে। আশেক, সারোয়ার কাউকেই এখন আর পাওয়া যায় না। সবাই ভীষণ ব্যস্ত। এই কিছুদিন আগেও ওরা তিনজন একসাথে ঘুরত। বিকেলটা ভার্সিটির মেয়েদের দেখে, চা খেয়ে ভালোই কাটত। হঠাৎ করেই সারোয়ার একটা টিউশনি পেয়ে গেল। আশেকও একসময় ওর পথ ধরল। প্রতি বিকেলে তাই এখন ওদের আর দেখা পাওয়া যায় না। রাজিবের কিছুই হয়নি। সে না করে প্রেম, না করে টিউশনি। পেপার পড়ে, মোবাইল টিপে কতটাই বা সময় কাটে! তাই আগে যে বিকেলকে তার মনে হত ’এই এলো, এই গেল’ টাইপের, এখন মনে হয়, কেউ বোধহয় অযথাই এ সময়টাকে চুইংগামের মত টেনে বড় করে ফেলেছে। হঠাৎ বিকেলবেলা রাজিবের রুমে এসে হাজির আশেক।)
আশেকঃ কিরে কি করস? চল ঘুইরা আসি।
রাজিবঃ তুই এ সময়! আজ তোর টিউশনি নাই?
আশেকঃ না। ছাত্রের শরীর খারাপ। জ্বর হইছে। তাই ওরও ছুটি, আমারও ছুটি। তা তোর রুমমেট কই?
রাজিবঃ কে? ও রাসেল। ব্যাটায় হুজুর টাইপের পোলা। কই আর যাইব! নামাজ পড়তে গেছে হয়ত।
আশেকঃ ও। চল মোগলাই খাইয়া আসি।
রাজিবঃ ক্যান তুই খাওয়াবি নাকি? নাকি আইজও আমেরিকান ওয়ে-যার যার তার তার?
আশেকঃ আরে না! ঐসব আমেরিকা-টামেরিকার কোন বেল আছে? আমিই খাওয়ামু।
রাজিবঃ কী মামু! আজ খুব গরম মনে হয়! টিউশনির টাকা পাইস নাকি?
আশেকঃ এত বগর বগর করস ক্যান? চল না। ( আশেকের চোখ-মুখে হাসির ঝিলিক।)
রাজিবঃ বুঝছি। তাইলে মোগলাইয়ে হবে না। চল সুপ খাইয়া আসি।
আশেকঃ ধ্যাত শালা। তোর কোথাও যাওয়া লাগবে না।( বিরক্ত আশেক।)
( খাইছে! সুপ-মোগলাই মনে হয় সবই গেল।) রাজিব তাড়াতাড়ি বলল, ’ঠিক আছে দোস্ত। তুই যা বলবি তা-ই হবে। আসলে নাই মামার চাইতে কানা মামাই ভাল, তাই না-রে?’
আশেকঃ কি?...ও হ্যাঁ...ঠিক। ( আশেকের চেহারায় তৃপ্তিকর প্রত্যাশিত এক অনুভূতি।)

দৃশ্য-২

( একটুপর দুজনে রিকশায় উঠল। গন্তব্য কোন ভাল হোটেল। ব্যস্ত শহরে যে যার মত ছুটছে আর ছুটছে। রিকশার পিছনে রিকশা। গাড়ির পিছন গাড়ি। পুরুষের পিছন নারী। নারীর পিছন পুরুষ। শুধুই ছোটাছুটি।)
রাজিবঃ দোস্ত দ্যাখ মেয়েটা হেভি না?
( বিপরীত দিক থেকে রিকশায় একটা মেয়ে আসছে।)
আশেকঃ হ খারাপ না, চলে। ( দূর থেকে মেয়েটাকে ভাল করে না দেখেই আশেক এ মন্তব্য করল। কিন্তু মেয়েটা কাছে আসতেই ও যেন লাফিয়ে উঠল। ) দোস্ত টোন করিস না। এইটা আমার ছাত্রের বড় বোন।
রাজিবঃ ও তাই নাকি? তা মামা এর সাথে কিছু হয় টয় নাকি?
আশেকঃ দুর শালা। ওর সাথে আমার কথাই হয় নাই।
রাজিবঃ কোন ক্লাসে পড়ে?
আশেকঃ ক্লাস মানে? আমাগো চাইতে দুই বছরের ছোট। অনার্স ফার্স্ট ইয়ার। (একটু থেমে আশেক আবার বলল,) একবার ওই মেয়েরে নিয়া একটা মজার ঘটনা ঘটছিল।
রাজিবঃ কি ঘটছিল? ক না শালা!
আশেকঃ একদিন আমি ছাত্ররে পড়াইতেছিলাম। ছাত্ররে আমি ওদের ড্রইংরুমে পড়াই। ওই মেয়েটা আশেপাশে ঘুরঘুর করতে ছিল। টেরাইয়া টেরাইয়া দেখতে ছিলাম। হঠাৎ শুনি ও বলল, স্লামালাইকুম। আমি তাড়াতাড়ি উত্তর দিলাম, ওয়ালাইকুম আসসালাম। এরপর ভাল করে তাকাইয়া দেখি ওই মেয়ে আমারে সালাম দেই নাই। মোবাইলে অন্য একজনরে দিছে। কী যে লজ্জা লাগল। ছাত্রের দিকে তাকাইয়া দেখলাম বিচ্ছুটায় হাসতাছে।
রাজিবঃ হা হা হা। দোস্ত টিউশনিতে তো বেশ মজা। তবে আমার মনে হয় ছাত্রর চাইতে ছাত্রী পড়াইয়া আরাম বেশি।
আশেকঃ হ আরাম তো হইবোই...যদি লাইগা যায়...রাজকন্যা প্লাস রাজত্ব!
( হঠাৎ কে যেন বলে উঠল, ’ওই রাজিব্বা কল ধর! ওই রাজিব্বা কল ধর!’ রাজিব তাড়াতাড়ি পকেট থেকে মোবাইল বের করল। আশেক অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, ’এইটা আবার কেমন রিংটোন?’)
রাজিবঃ এক্সক্লুসিভ টোন! নিজেই কন্ঠ দিছি। তারপর সেটে রেকর্ড করছি। বলা যায় এটা রিংটোন জগতে এক সৃষ্টিশীল প্রয়াস! দাঁড়া কলটা ধইরা নিই। ( রাজিব কল রিসিভ করে। ) হ্যাঁ ভাই বলেন... আচ্ছা ঠিক আছে...আমি এখনই আসতাছি। ( লাইন কেটে দিয়ে রাজিব বলল,) দোস্ত, মিন্টু ভাই কল দিসে। এখনই যাইতে হইব। চল।’

দৃশ্য-৩

( ড্রইংরুম। শীতকাল বলে ফ্যান ঘুরছিল না। রুমের একপাশের সোফায় বসে আছে রাজিব-আশেক, অন্যপাশে মিন্টু ভাই।)
মিন্টুঃ শোন রাজিব, এটা আমার বোনের বাড়ি। এখানেই তোমাকে পড়াতে হবে। তোমার স্টুডেন্ট ইন্টার-ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে। একটু চঞ্চল প্রকৃতির। তোমাকে ধৈর্য সহকারে, যতœ করে পড়াতে হবে। পারবে তো?
রাজিবঃ জ্বি ভাইয়া, পারব।
মিন্টুঃ আচ্ছা তোমরা বসো। আমি একটু আসছি। ( মিন্টু ভাই বাসার ভিতরে গেলেন।
আশেকঃ দোস্ত স্টুডেন্টটা কি পোলা না মাইয়া?
রাজিবঃ জানি না তো! পোলাই হবে হয়ত। মেয়ে স্টুডেন্ট কি আর আমার ভাগ্যে আছে? ( রাজিব যেন একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।)
( ভিতর থেকে এক কিশোরকে উঁকিঝুঁকি মারতে দেখা গেল।)
আশেকঃ এটাই মনে হয় তোর স্টুডেন্ট।
রাজিবঃ হবে হয়ত।
(একটু পর সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটল। মিন্টু ভাই একটা মেয়েকে নিয়ে এসে বললেন।
মিন্টুঃ রাজিব, এ হচ্ছে তোমার স্টুডেন্ট।
রাজিবঃ ও আচ্ছা। তোমার নাম কি?
মেয়েটাঃ লুমি।

দৃশ্য-৪

( কয়েকদিনের মধ্যেই রাজিবের ছাত্রী পড়ানোর সাধ মিটে গেল। ছাত্রী তার কোন কথাই শুনতে চায় না। রাজিব যদি বলে, ডানে যাও। সে যেতে চায় বাঁয়ে। যদি বলে, এটা লেখো। সে বলে, না স্যার পড়ি। রাজিব দু’একবার লুমির পরীক্ষাও নিতে চেয়েছে। কিন্তু পারেনি। পারবে কি করে? যে পড়তেই চায় না, তার কাছে পরীক্ষা দেয়াটা তো ফোর্থ সাবজেক্টের মত গুরুত্বহীন! একদিন রাজিব লুমিকে পড়াচ্ছে।)
রাজিবঃ আচ্ছা লুমি, তোমার কোন সাবজেক্ট পড়তে সবচেয়ে বেশি ভাল লাগে?
লুমিঃ স্যার, আমার কিছুই পড়তে ভাল লাগে না।
রাজিবঃ কেন?
লুমিঃ জানি না, স্যার।
রাজিবঃ আচ্ছা তুমি কি আমার পড়ানো বোঝ না?
লুমিঃ বুঝি স্যার।
রাজিবঃ তাহলে পড় না কেন?
লুমিঃ বললাম না স্যার, ভাল লাগে না, তাই।
রাজিবঃ তাহলে কি করা যায় বল তো?
লুমিঃ জানি না, স্যার।
রাজিবঃ আচ্ছা তুমি সারাদিন কি কর?
লুমিঃ কি করি মানে?
রাজিবঃ মানে পড়াশুনা কর না। তো সময় কাটাও কি করে?
লুমিঃ কিছুই করি না স্যার।
রাজিবঃ ভারি সমস্যায় পড়লাম তো! আচ্ছা আমার কি করতে হবে বলো? তোমার সাথে কি করলে তুমি পড়বে? তুমি যা বলবে আমি তাই করব।
লুমিঃ না, না স্যার। আমার সাথে আপনার কিছুই করতে হবে না।

দৃশ্য-৫

( ঘড়িতে এখন রাত বারটা বাজে। বেশ শীত পড়েছে। তবে তেমন কুয়াশা পড়েনি। এসময় সারাক্ষণই লেপের মধ্যে ঢুকে থাকতে ইচ্ছে করে। রাজিব লেপের মধ্যে শুয়ে পড়ছিল।ওর রুমমেট রাসেল ইতোমধ্যে ঘুমিয়ে পড়েছে। হঠাৎ শোনা গেল, ’ওই রাজিব্বা কল ধর। ওই রাজিব্বা কল ধর।’)
রাজিবঃ হ্যালো স্লামালাইকুম। হ্যালো। ( কোন সাড়াশব্দ নেই। রাজিব আবার বলল ) হ্যালো, হ্যালো। ধ্যাত। (বিরক্ত হয়ে রাজিব লাইন কেটে দিতে যাচ্ছিল। কিন্তু পারল না। হঠাৎ মোবাইল কথা বলে উঠল। তাও আবার মেয়ে কন্ঠ!)
মেয়েকন্ঠঃ হ্যালো। কি বিরক্ত হচ্ছেন নাকি? আসলে চুপ করে থেকে আপনার ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছিলাম।
রাজিবঃ তাই নাকি! কিন্তু আমার পরীক্ষা নেয়ার আপনি কে?
মেয়েকন্ঠঃ আমি কে সেটা জানা কি খুব জরুরি?
রাজিবঃ হ্যাঁ জরুরি। অপরিচিত কারো সাথে আমি কথা বলি না।
মেয়েকন্ঠঃ আচ্ছা এখন আমরা অপরিচিত, একটু পরেই পরিচিত হব। তাছাড়া কথা না বললে কি পরিচিত হওয়া যায়?
রাজিবঃ হ্যাঁ, তা ঠিক যায় না। আচ্ছা বলেন তো আপনি কে? আমাকে কেন কল করেছেন? আমার নাম্বারই বা কোত্থকে পেলেন?
মেয়েকন্ঠঃ আস্তে বাবা, আস্তে। এতগুলো প্রশ্ন! একবারে তো উত্তর দেয়া যায় না। ধীরে ধীরে দেই। কন্ঠ শুনে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন আমি একটা মেয়ে। আমার নাম...। ( নাম বলার আগেই লাইনটা কেটে গেল। তাড়াতাড়ি রাজিব মেয়েটাকে কলব্যাক করল। কিন্তু কোন লাভ হল না। সে যতবারই কল দিল, ততবারই উত্তর মিলল, ’আপনার কাক্সিক্ষত নম্বরে এখন সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। অনুগ্রহপূর্বক একটু পর আবার চেষ্টা করুন।’)

দৃশ্য-৬

( লুমির আজকে পরীক্ষা দেয়ার কথা। যদিও রাজিব ধরেই রেখেছে যে সে পরীক্ষা দেবে না। তবে সে যদি ভুলক্রমে পরীক্ষা দিয়েই ফেলে তাহলে তা হবে ’সূর্য পশ্চিমদিকে উদিত হয়’ এমন টাইপের ঘটনা!)
( লুমি সামনে এসে বসল।)
রাজিবঃ আজকে তো পরীক্ষা, তাই না? নিশ্চয়ই সব পড়া হয়ে গেছে?
লুমিঃ না স্যার কিছুই হয়নি। ( মুখ অন্ধকার করে লুমি জবাব দিল )
রাজিবঃ কেন? কি হয়েছে? শরীর খারাপ ছিল নাকি?
লুমিঃ না স্যার। শরীর খারাপের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা ছিল। তাই অনিবার্যকারণবশত আজ পরীক্ষা হবে না।
রাজিবঃ কি সব উল্টাপাল্টা বলছ?
লুমিঃ স্যার আজকে তো হরতাল ছিল।
রাজিবঃ তাতে কি?
লুমিঃ স্যার হরতালে তো সাধারণত সবই বন্ধ থাকে, তাই আমার পড়াশুনাও বন্ধ ছিল।
( রাজিব কি বলবে বুঝতে পারছিল না। এখন তার মাথায় ছোটবেলায় শেখা একটা কথা যেন ভন্ ভন্ করে ঘুরতে লাগল, ’মাইরের নাম লক্ষীকান্ত, ভূত পালায় যায় ডরে।’ লুমিকে তো আর মারা যাবে না। হালকা শাস্তি দেয়া যেতে পারে।)
রাজিবঃ এই মেয়ে দাঁড়াও, দাঁড়াও বলছি। ( রাজিবের হঠাৎ কঠোর কন্ঠে লুমি যেন একটু ভয়ই পেল। সে তাড়াতাড়ি দাঁড়িয়ে গেল।) কান ধরো।
লুমিঃ জ্বি স্যার?
রাজিবঃ কান ধরতে বলেছি। ধরো। ধরো বলছি।’ লুমি বাধ্য হয়ে কান ধরল। ’এবার দাঁড়িয়ে থাকো।’

দৃশ্য-৭

( রাতে রাজিব একটু তাড়িতাড়ি শুয়ে পড়ল। কাল সকাল আটটায় ক্লাস। তাই আগে আগে উঠতে হবে। কিন্তু তার ঘুম আসছিল না। একবার ডানে কাত হয়ে, আবার বামে ফিরে তার সময় কাটতে লাগল। হঠাৎ মোবাইল বেজে উঠল। এ তো সেই মেয়েটার নম্বর যে গতরাতে নাম বলেনি।)
রাজিবঃ হ্যালো, ভাল আছেন?
মেয়েকন্ঠঃ হ্যাঁ ভাল আছি। আপনি কেমন আছেন?
রাজিবঃ খুব একটা ভাল নেই। আসলে আজ মনটা বেশ খারাপ।
মেয়েকন্ঠঃ মন খারাপের কারণ কি? প্রেমঘটিত নাকি?
রাজিবঃ আরে নাহ। ওসব কিছু না। স্টুডেন্টকে বকা দিয়েছি তো তাই। আসলে একটু বেশিই বকেছি। এতটা করা ঠিক হয়নি।
মেয়েকন্ঠঃ বাহ স্টুডেন্টের জন্য তো আপনার দারুণ টান! নিশ্চয়ই আপনার স্টুডেন্ট সুন্দরী এক মেয়ে?
রাজিবঃ হ্যাঁ মেয়ে। তবে সুন্দর কিনা বলতে পারব না। কখনো ওভাবে খেয়াল করে দেখা হয়নি।
মেয়েকন্ঠঃ আচ্ছা এরপর দেখে এসে বলবেন।
রাজিবঃ তা না হয় বললাম। এখন আপনার নামটা বলুন।
মেয়েকন্ঠঃ ও তাই তো আমার নামই বলা হয়নি। আমার নাম...। ( আবার লাইন কেটে গেল। রাজিব আবার কলব্যাক করল। আবার শোনা গেল, ’আপনার কাক্সিক্ষত নম্বরে এখন সংযোগ দেয়া সম্ভব হ্েচ্ছ না...।’)

দৃশ্য-৮

মেয়েটি এখন প্রায়ই রাজিবকে কল করে। ধীরে ধীরে ওদের মধ্যে একধরনের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। সম্বোধন ’আপনি’ থেকে ’তুমি’তে েেনমে আসে। আস্তে আস্তে ওদের কথা বলার সময়সীমাও বাড়তে থাকে...পাঁচ মিনিট...দশ মিনিট...আধ ঘন্টা...এক ঘন্টা...। এখন মাঝে মাঝে রাজিবও কল করে। কথা হয়। তবে পুরনো সমস্যাটা এখনো রয়ে গেছে। মেয়েটি তার নাম বলে না। নাম জিজ্ঞেস করলেই লাইন কেটে দেয়। তারপর সেট বন্ধ করে রাখে।

দৃশ্য-৯

( একদিন রাত্রবেলা। রাজিব গান শুনছিল-অর্নবের ’হোক কলরব’ অ্যালবামের গান-ভালোবাসা তারপরও দিতে পারে কত বর্ষার সুবাস, বহুদিন আগে তারাদের আলো শূণ্য আধার আকাশ... )
মেয়েকন্ঠঃ হ্যালো, রাজিব কি করছ?
রাজিবঃ কিছু না। গান শুনছিলাম।’
মেয়েকন্ঠঃ কি গান?
রাজিবঃ ভালোবাসার গান। অর্নবের-ভালোবাসা তারপরও দিতে পারে কত বর্ষার সুবাস, বহুদিন আগে তারাদের আলো শূণ্য আধার আকাশ...।
মেয়েকন্ঠঃ হঠাৎ ভালোবাসার গান? কারো প্রেমে পড়েছ নাকি?’
রাজিবঃ আমি তো প্রেমে পড়েই আছি।
মেয়েকন্ঠঃ কার?
রাজিবঃ কার আবার! তোমার।
মেয়েকন্ঠঃ আমার!
রাজিবঃ হ্যাঁ তোমার।
মেয়েকন্ঠঃ প্রমাণ দাও।
রাজিবঃ এই যে নাম জিজ্ঞেস করলেই তুমি লাইন কেটে দাও। তারপরও আমি ঘন্টার ঘন্টা রাগ না করে তোমার সাথে ধৈর্য সহকারে কথা বলে যাচ্ছি। এটা কি প্রেম না?
মেয়েকন্ঠঃ কি জানি! আচ্ছা বল তো ভালোবাসা কি?
রাজিবঃ আসলে ভালোবাসা একেকজনের দৃষ্টিতে একেকরকম। এই যেমন ধর আমার এক ফ্রেন্ড সারোয়ার। ওর ভালোবাসা হচ্ছে প্রতি মাসের এক তারিখ।
মেয়েকন্ঠঃ কেন?
রাজিবঃ কারণ এ দিন ও টিউশনির টাকা পায়। হা হা হা।
মেয়েকন্ঠঃ তুমি তো মজা করছ। আমি কিন্তু সিরিয়াসলি জিজ্ঞেস করেছি।
রাজিবঃ সিরিয়াসলি?
মেয়েকন্ঠঃ হ্যাঁ, সিরিয়াসলি।
রাজিবঃ (কিছুক্ষণ চুপ থেকে) তাহলে আজ না, ১৪ ফেব্র“য়ারি বলব।
মেয়েকন্ঠঃ সামনাসামনি বলতে পারবে?
রাজিবঃ হ্যাঁ পারব। অফকোর্স পারব। বল কোথায়, কখন বলব। প্লিজ, প্লিজ বল, এই বল না প্লিজ।
মেয়েকন্ঠঃ পিজাহাটে। বিকেল চারটা।
রাজিবঃ ঠিক আছে। কিন্তু আমি তোমাকে চিনব কি করে? আজ তোমার নামটা বল না প্লিজ।
মেয়েকন্ঠঃ ও হ্যাঁ তাই তো। আমার নাম...। ( লাইনটা যথারীতি কেটে গেল। কিন্তু রাজিবের মনের লাইন কাটল না।)

দৃশ্য-১০

(স্থান পিজাহাট। আজ এখানে এসে যে লুমির সাথে দেখা হবে তা রাজিব ভাবতেও পারেনি। রাজিবকে দেখেই লুমি এগিয়ে এল।
লুমিঃ স্লামালাইকুম স্যার। স্যার আপনি এখানে?
রাজিবঃ হ্যাঁ মানে এখানে আমার এক ফ্রেন্ড আসবে তো, তাই?
লুমিঃ ও আচ্ছা।
রাজিবঃ কিন্তু তুমি?
লুমিঃ স্যার আমারও এক ফ্রেন্ড আসবে। আসি স্যার।
রাজিবঃ ঠিক আছে। ( লুমি আজ শাড়ি পড়েছে। বেশ সুন্দর লাগছে। অনেক পূর্ণ মনে হচ্ছে। বাসায় ওকে এত বড় লাগে না। আসলে সবই শাড়ির অবদান। কিন্তু ও আসছে না কেন? রাজিব কয়েকবার মোবাইলে চেষ্টা করল। কিন্তু ওর সেট বন্ধ। কি করা যায়? নাম জানা নেই, চেহারাও অচেনা। কিভাবে যে ওকে ভালোবাসার সংজ্ঞা শোনাব? রাজিব ঘড়ি দেখে। প্রায় পাঁচটা বাজে। ধ্যাত ভাল লাগছে না। চলে যাব নাকি? ভাবতে ভাবতে রাজিব রাস্তায় এসে দাঁড়ায়। গাড়ি আসে, গাড়ি যায়। মানুষ আসে, বাড়ি যায়। শুধু সে আসে না। শেষ একটা চেষ্টা করি। এটায় ফেল হলে চলে যাব। রাজিব মোবাইল হাতে নেয়। হ্যাঁ এবার রিং হচ্ছে। ) হ্যালো, হ্যালো।
মেয়েকন্ঠঃ হ্যাঁ হ্যালো বলো।
রাজিবঃ তুমি কোথায়?
মেয়েকন্ঠঃ এই তো কাছেই।
রাজিবঃ আচ্ছা এখানে এত ভীড়ে তোমাকে চিনব কি করে?
মেয়েকন্ঠঃ দেখলেই চিনতে পারবে।
রাজিবঃ যার নামই জানি না, তাকে দেখে চিনব কিভাবে?
মেয়েকন্ঠঃ ও নাম! আচ্ছা শোন। আমার নাম লুমি।
রাজিবঃ লু-লুমি! ( রাজিবের মনে হল কে যেন তার পিছনে এসে দাঁড়িয়েছে। ঘাড় ঘুরিয়ে সে দেখল লুমি, হাতে মোবাইল সেট।) তুমি! (রাজিবের চোখ-মুখে যেন পৃথিবীর সমস্ত বিস্ময় এসে ভীড় করে।)
লুমিঃ হ্যাঁ আমি। হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন!
রাজিবঃ ওহ...হ্যাঁ... হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন!’

-সমাপ্ত-

 

প্রকাশ করা হয়েছে: আমার দিনকাল  বিভাগে । বিষয়বস্তুর স্বত্ত্বাধীকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ৮:০১
নাঈম বলেছেন: অনেক বড় পোষ্ট

ধারাবাহিক আকারে দেন
২. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ৮:৪২
অপরাজিতা ০০৭ বলেছেন: ফেভারিটে রাখলাম পরে পড়র।
৩. ১৫ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:২৭
মার্চেন্ট অফ ড্রিম বলেছেন: প্রিয় পোষ্টে যোগ হল।

অসংখ্য ধন্যবাদ।
৪. ১৫ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১১:০৭
আনিসুজ্জামান উজ্জল বলেছেন: কি গু ভাই, ইঞ্জিনিয়ারিং বাদ দিয়ে কি নাট্যকার হয়ে গেলা?
৫. ১৫ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১১:১০
সাদাত শাহরিয়ার বলেছেন: কি আর করব...নেই কাজ েতা খই ভাজ
৬. ০৬ ই মে, ২০১১ রাত ৯:৪৫
নীরব 009 বলেছেন: ভাল লাগল।খুব কমন একটা ঘটনা তবুও অনেক যত্ন নিয়ে লিখেছেন।পরবর্তিতে এভাবেই খুব সুন্দর একটা নাটক লিখে ফেলবেন আশা রাখি।

+++++++++++++++++++++++++

 

মোট সময় লেগেছে ১.০২৮৯ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
লেখালিখির চেষ্টা করি...কিছু হয় কিনা জানি না...তবু লিখি...কেউ পড়ে কিনা জানি না...তবওু লিখি...যদি কেউ পড়ে....এই স্বপ্নে..... @লেখক। এই ব্লগের কোন...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ