somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তন্ত্রশক্তি বিধান (ফ্যান্টাসি গল্পের চেষ্টা)-৩

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১ম এবং ২য় পর্ব এখানে তন্ত্রশক্তি বিধান (ফ্যান্টাসি গল্পের চেষ্টা)-১ ও ২

// ৩য় পর্ব //

ঘণ্টা দুয়েক পর। রাকিবদের বাসা।
‘ কী আজব ব্যাপার! গত দুদিন ধরে আমি একটা শকুন দেখতে পাই যা অন্য কেউ দেখতে পায় না।‘ চিন্তিত রাকিব। ‘এমন কেন হচ্ছে?’
‘দোস্ত আমার মনে হয় তুই রিসেন্টলি এমন এক হরর মুভি দেখছস বা বই পড়ছস যেখানে শকুন রিলেটেড কোন ঘটনা ছিল যা তোর মনে গভীর দাগ কেটেছে।‘ বললাম আমি। ‘তাই মাঝে মধ্যে অবচেতন মনে শকুন দেখতে পাস।‘
‘আরে না! যত দূর মনে পড়ে গত এক বছরে আমি কোন হরর মুভি দেখি নাই। আর শকুন বিষয়ক বইও তো পড়ি নাই। তাহলে এমন হচ্ছে কেন? এটা কি হ্যালুসিনেশন? নাকি ইলুশন? দাড়া এক কাজ করি। ইন্টারনেটে Vulcher. সার্চ দিয়ে দেখি শকুনের সাথে হ্যালুসিনেশনের কোন সম্পর্ক আছে কী না!’
শকুনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে আমরা Vulcher লিখে গুগলে সার্চ দিলাম। মুহূর্তের মধ্যে কয়েকশ লিংক এসে হাজির। এত লিংক ঘাটাঘাটি করতে করতে তো রাত ভোর হোয়ে যাবে! আমরা উইকিপিডিয়ার লিংকে ক্লিক করলাম। অনেকক্ষণ ঘাটাঘাটি করে যা পেলাম তার সারসংক্ষেপ হল, পৃথিবীতে আদিযুগের যে কয়েকটি প্রাণী এখনো টিকে আছে তাদের মধ্যে শকুন অন্যতম। তবে এরাও বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকার অনেক মানুষ শকুনকে অশুভ আত্মার প্রতীক মনে করত। সেখানকার ব্লাক ম্যাজিশিয়ানরা শকুনকে তাদের কালো জাদুর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করত। কিন্তু আইরিশরা মনে করত শকুন হচ্ছে ঈশ্বরের সাথে সরাসরি আত্মার সংযোগের রাস্তা। তাদের ধারণা ছিল, শকুনের মগজ পোড়ালে যে কালো ধোঁয়া হয় তার মাধ্যমে অতি দ্রুত মর্তের প্রার্থনা ঈশ্বরের কাছে পৌঁছে যায়......।
‘ধুর! হ্যালুসিনেশানের সাথে শকুনের কোন রিলেশানই নাই।‘ এতক্ষণ এসব পড়ে রাকিব খুব বিরক্ত হল।
‘কিন্তু দোস্ত দ্যাখ ব্লাক ম্যাজিকের সাথে শকুনের একটা সম্পর্ক আছে।‘
‘মানে কি? তুই কি বলতে চাচ্ছিস যে আমার উপর কেউ কালো জাদুর প্রভাব ফেলতে চাচ্ছে?‘
‘হ্যাঁ, হতেও তো পারে।‘
‘দুর পাগল! এখানে ব্লাক ম্যাজিশিয়ান কোত্থেকে আসবে? আর যদি এসেও থাকে তাহলে চারদিকে এত মানুষ থাকতে আমাকে কেন বেছে নেবে? আমি তো তেমন কোন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নই।‘
কথার পিঠে নানান কথা হল। কিন্তু আমরা কোন সমাধান বের করতে পারলাম না।

কয়েকদিন পর।
দুপুরবেলা মেডিকেল কলেজ থেকে বের হয়েই রাকিব অবাক হয়ে আবিষ্কার করল আজকের আবহাওয়াটা যেন একটু অন্যধরনের। আকাশে পেজা পেজা মেঘ। মাঝে মধ্যে মেঘের আড়ালে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে সূর্য। সূর্যের আলোতে আজকের তীব্রতাও যেন একটু কম। যাক প্রতিদিনের মত আজকে আর ঘেমে নেয়ে উঠতে হবে না!
মেডিকেল কলেজের মেইন গেট থেকে রাকিব একটা রিকশা নিল। রিকশাওয়ালাকে বলল, ‘সোবহান কমপ্লেক্সে চল।‘ সোবহান কমপ্লেক্স হল বরিশালের প্রাণকেন্দ্র সদর রোডের একটা শপিং সেন্টার। রাকিব ঠিক করেছে আজ সে ওখান থেকে একজোড়া জুতো কিনবে।
এপেক্সের ডিজাইনগুলোর একি হাল! কোনটাই তো ভাল লাগছে না। কালার পছন্দ হলে আকার ভালো লাগে না। পছন্দসই আকৃতি পেলে কাঙ্খিত রঙ পাই না। কী যন্ত্রণা রে বাবা! জুতো কিনতে এসে রাকিবের মাথা কিঞ্চিত গরম হয়ে গেল!
‘দুর! আজকে জুতোই কিনব না।‘
দোকান থেকে রাকিব বের হয়ে গেল। হঠাৎ কে যেন ওকে পেছন থেকে ডাকল, ‘এক্সকিউজ মি! এই যে ভাইয়া শুনুন!’
কণ্ঠটা মেয়ে মানুষের হওয়ায় অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ঘুরে তাকাল রাকিব। আর তাকিয়েই যেন ফ্রিজ হয়ে গেল। এ আমি কাকে দেখছি! নিজের চোখই তো বিশ্বাস হচ্ছে না! যাকে নিয়ে আমার এত ভাবনা, যার সাথে কথা বলার আমার এত আগ্রহ! এ তো সেই মেয়ে! বিকেলবেলার রিকশায় চড়া মেয়েটা!
‘আমি রূপা।‘ বলল মেয়েটা। ‘ভাল আছেন?’
প্রচণ্ড রকম অপ্রস্তুত হয়ে যাওয়া রাকিব বলল, ‘ও হ্যাঁ ভাল। আপনি?’
‘ভাল। আপনি বোধহয় আমাকে চিনতে পারেননি।‘
‘না, না চিনেছি।‘
‘আমি কিন্তু আপনাকে চিনি। আপনি রাকিব। মেডিকেলের স্টুডেন্ট।‘
‘তাই নাকি! কিভাবে জানলেন?’
‘এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বলব? চলুন কোথাও বসি।‘
সোবহান কমপ্লেক্সে ‘রোজ গার্ডেন’ নামক একটা রেস্টুরেন্ট আছে। রাকিব আর রূপা সেদিকে পা বাড়াল। কিন্তু সে সময় মার্কেটের উপরের আকাশে লাল চোখ খুলে ক্রুদ্ধ এক শকুন যে ডানা মেলে চক্কর কাটছিল তা কেউ খেয়াল করল না!
[চলবে]
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×