somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তন্ত্রশক্তি বিধান (ফ্যান্টাসি গল্পের চেষ্টা)-৪

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১ম ২য় ৩য়

// ৪র্থ পর্ব //

শুক্রবার সকালটা আমার জীবনের বিগত দশ বসন্ত ধরে একই রকমভাবে কাটছে। আটটা পর্যন্ত বিছানায় পড়ে থাকার পর মায়ের ঝাড়িতে ঘুম ভাঙ্গা। বাথরুম করা। নাস্তা করা। বাসার ময়লা ফালানো। বাজার করা... আজকেও একইভাবে আমার জীবনের আর একটি শুক্রবার শুরু হল।
আমাদের বাসায় কোন কাজের লোক নেই। তাই বাসার প্রতিদিনের ময়লা আমাকেই ফেলতে হয়। এ কাজটা করতে আমার এক সময় ভাল লাগত না। কেমন যেন অপমানজনক কর্ম বলে মনে হত। কিন্তু এখন আর খারাপ লাগে না। ভালই লাগে। নিজের কাজ নিজে করার মাঝে আনন্দ অনেক।
আমাদের বাসা কলেজ রোডের শেষ প্রান্তের একটু আগে। এখান থেকে বগুড়া রোডে হেঁটে যেতে পাঁচ মিনিটও লাগে না। কলেজ রোড ও বগুড়া রোড যেখানে মিশেছে ঠিক সেই মোড়টাতে একটা দোতলা বাড়ি আছে। বাড়িটার পেছনে একটু খোলা জায়গা রয়েছে। আর সেখানেই ডাস্টবিনটা রাখা। আর ওটাই আমার এখনকার গন্তব্য।
একহাতে বাজারের ব্যাগ আর অন্যহাতে ময়লার ব্যাগ নিয়ে আমি আমার গন্তব্যের দিকে এগুতে লাগলাম। যতই ডাস্টবিনটার কাছাকাছি হতে লাগলাম আমার হার্টবিটও ততই বাড়তে লাগল। প্রতিদিনই আমার একই অবস্থা হয়। দূর আর ভাল লাগে না! এভাবে আর কতদিন! আমার সাহস কবে হবে! অহ গড! সাহস দাও!
যাক ময়লা ফেলা সার্থক হল! সে আজকেও দোতলার জানালায় দাঁড়িয়ে আছে। সকালের সূর্যের নরম আলোয় ওর কানের দুল ঝকমক করছে। লম্বা চুলের এক গোছা কপাল ছুঁয়ে ওর নাকের উপর পড়ছে আর বাতাস তা আবার ঠেলে দিচ্ছে। ওর কাজল দেয়া চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে যেন আমার নেশা ধরে গেল। হঠাৎ এক হতচ্ছাড়া মাছি আমার অবচেতন মনে হা করা মুখের মাঝে ঢুকে পড়ে দিল ভাবটা শেষ করে! দুর ছাই! একটু পরে অবাক হয়ে দেখলাম আমি কাশছি আর সে হাসছে। এত সুন্দর হাসি! হাসির মাঝে ওর ওষ্ঠ আর অধরের কাঁপুনি আমার হৃদয়েও কাঁপুনি ধরিয়ে দিল! উহ! আমি শেষ! এমন হাসি দেখার জন্য আমি আজীবন ময়লা ফেলতে রাজি আছি। দরকার হলে আমি একটা কেন আরও এক হাজারটা মাছি খেতেও রাজি আছি।
বাজার করতে আমার কখনোই খুব বেশি সময় লাগে না। কারণ আমি বাজারে গিয়ে প্রথমে যে দোকানে ঢুকি, চেষ্টা করি সেখান থেকেই সব কিছু কিনে ফেলার। বাজারে খুব বেশি দরাদরি বা ঘোরাঘুরি কোনটাই আমার ভাল লাগে না। অবশ্য এ জন্য যে দুই টাকার জিনিস আমি প্রায়ই চার টাকায় কিনে ফেলি এমনটা যে হয় না তা কিন্তু নয়। তাই আমি প্রতি শুক্রবার মায়ের ঝারিও খাই। কিন্তু তবুও কাঁচা বাজারে দোকান থেকে দোকানে আমার ঘুরতে ইচ্ছে করে না। তবে আজকে একটু ঝামেলায় পড়ে গেলাম। সারা বাজার বাধ্য হয়ে ঘুরেও কোথাও ডাব পেলাম না। অথচ মা বলেছেন আজ তার এটা লাগবেই। কি যে করি! শেষে এক দোকানদার বলল, কাক্কু তুমি মড়ক খোলার পোলের দিকে যাইয়া দেখতে পার।
নতুন বাজার থেকে মড়ক খোলার পোল মাত্র পাঁচ মিনিটের রাস্তা। কাঁচা বাজার থেকে বের হতেই হঠাৎ নাকে কেমন যেন একটা তীব্র ঝাঁজাল গন্ধ এসে লাগল। সাথে সাথে মাথাটা যেন একটা চক্কর দিয়ে উঠল। আজব ব্যাপার! এটা কিসের গন্ধ? কিন্তু গন্ধটা কেমন যেন চেনা চেনা লাগল। হুম বুঝতে পেরেছি। নতুন বাজারের মাঝে একটা অতি পুরনো মন্দির আছে। আর আমি এখন ঠিক ওটার একদম সামনেই দাঁড়িয়ে আছি। তাহলে গন্ধটা এখান থেকেই আসছে। আমি নিশ্চিত এটা ধুপের গন্ধ। প্রায় সব মন্দিরেই নানান পূজা আচার্যের সময় ধুপ পোড়ান হয়। কিন্তু ধুপের গন্ধ তো এত ঝাঁজাল হয় না। আরে ওই লোকটা আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছে কেন? বিরাট জটাধারী এই লোককে এর আগে তো এখানে দেখি নাই। বাপরে কেমন যেন শীতল চাহনি! আমি ওখানে আর দাঁড়ালাম না।
ডাব খুঁজতে গিয়ে আমাকে একদম মড়ক খোলার পোল পাড় হয়ে শ্মশানঘাটের কাছাকাছি চলে যেতে হল।এবার ডাবওয়ালার সাথে দরদাম না করে আর পারা গেল না। বলে কি না প্রতি পিস ডাব চল্লিশ টাকা! শেষে অনেক কষ্টে পঞ্চাশ টাকায় একজোড়া ডাব কিনে বাড়ির পথ ধরলাম। হেঁটে হেঁটে মড়ক খোলার পোলের কাছাকাছি আসতেই মনে হল কে যেন বলছে, এই ছ্যামড়া ডাব দিয়া যা। খাড়া কইলাম হালার পো। খাড়া।
ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকাতেই চোখ যেন আমার কপালে উঠল। ওরে বাপরে! এ তো রফিক পাগলা! সেই ছোটবেলা থেকেই একে নতুন বাজার এলাকায় একটা নেংটি পরে ঘোরাঘুরি করতে দেখে আসছি। কিন্তু কখনো কথা বলতে শুনি নাই। আজই প্রথম তার কণ্ঠ শুনলাম। এ দেখছি আমার দিকেই তেড়ে আসছে। আজকে ব্যাটায় নেংটিও পরে নাই। এক নগ্ন পাগল তার উত্থিত শিশ্ন নিয়ে আমার দিকে ধেয়ে আসছে! আমি আর এক সেকেন্ডও সময় নষ্ট করলাম না। এক দৌড়ে পোল পার হয়ে নতুন বাজারের কাছাকাছি চলে এলাম। আস্তে আস্তে পাগলের চিৎকার যেন পিছনে হারিয়ে গেল। বুঝলাম আমি নিরাপদ দূরত্বে এসে গেছি। কিন্তু একটা বিষয় আমাকে খুব অবাক করল রফিক পাগলা আমার পিছন পিছন আসল ঠিকই কিন্তু মড়ক খোলার পোল পার হয়ে এপার এল না। এর কারণ কি?
[চলবে]
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×