somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আলাদিনের দৌড়... : B:-/

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ১০:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দীর্ঘদিন রাজপ্রাসাদে শুয়ে বসে থেকে থেকে আলাদিন যথেষ্ট মোটা হয়ে গেছে। তাই তার বউ তাকে এখন আর আগের মতো ভালবাসছে না। বউর মন জয় করার জন্য আলাদিন চিন্তা করল তাকে শুকাতে হবে, স্লিম হতে হবে। কিন্তু কিভাবে? ঘষা দিয়ে আশ্চর্য প্রদীপের দৈত্য বের করে আলাদিন বলল, ওহে দৈত্য বল তো কি করা যায়?
- কি হয়েছে মালিক আমার?
- এই মেদভুঁড়ি, কি করি?
- মালিক আমার, প্রতিদিন সকাল বিকেল দৌড়ান। সব ঠিক হয়ে যাবে।
- না, না। এখানের সবই তো আমার চেনা। চেনা জায়গায় দৌড়াতে আমার ভাল লাগে না।
কিছুক্ষণ চুপ করে রইল দৈত্য। মস্তিস্কের অলিগলি সার্চ করতে লাগল- নতুন উপায়ের সন্ধানে। শেষে দৈত্যের মুখে হাসি দেখা গেল। সে বলল, মালিক আলাদিন, চলুন একটা দেশ ভ্রমন করে আসি।
- কোন দেশ?
- বঙ্গদেশ। সে দেশের পথে ঘাটে শুধুই রঙ্গ। ও দেশে মালিক আপনাকে এতটাই দৌড়ের ওপর থাকা লাগবে যে মুহূর্তেই ফ্যাট হাওয়া হয়ে যাবে।
- বাহ্ ভালই তো। নতুন দেশও দেখব। স্লিমও হব। এক ঢিলে দুই পাখি। আচ্ছা ও দেশের মানুষ বুঝি খুব রসিক?
- জ্বি। অত্যাধিক রসিক।
যেমন ভাবনা তেমনি কাজ। আলাদিন ও দৈত্য চলল বঙ্গদেশ ভ্রমণের পথে। অবশ্য দৈত্য মানুষের রূপ নিয়ে নিল, পাছে লোকে যদি চিনে ফেলে।
ঘুরতে ঘুরতে আলাদিন ও দৈত্য এক জায়গায় এলো। তখন বেলা বারোটা। মাথার ওপর সূর্য গনগন করছে। গরমে ঘেমে নেয়ে উঠল আলাদিন। চলতে চলতে হঠাৎ দেখল এক রাস্তায় লোকজনের অনেক ভিড়। রাস্তাটার দু’ধারে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা দাঁড়িয়ে। কি ব্যাপার!
দৈত্যকে জিজ্ঞেস করল আলাদিন। দৈত্য বলল, মালিক বঙ্গদেশের মহারাজ আজ এ পথ দিয়ে যাবেন তো। এরা সবাই ওকে, স্যরি, ওনাকে স্বাগত জানাবে।
- কিন্তু বাচ্চাদের স্কুল নাই। ওদের লেখাপড়া শেখানো বাদ দিয়ে এসব কি হচ্ছে? মালিক এখানেও ওদের পরোক্ষভাবে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। -যেমন?
-যেমন ধরুন এই যে ওরা রোদে পুড়ে খাক হচ্ছে। এতে ওরা কষ্টসহিষ্ণুতা শিখছে। তারপর কিভাবে কাউকে তেল দিতে হবে বা তেল নিতে হবে তার প্রাথমিক ধারণা লাভ করছে। কিভাবে মানুষকে কষ্ট দেয়া যায় তাও শিখছে।
-থাক, থাক। আর শিখে কাজ নেই।
এরপর আলাদিন ওখানকার ষণ্ডামার্কা এক লোককে বলল, ভাই এ বাচ্চাদের এভাবে কষ্ট দেয়ার মানে কি? লোকটা চোখ লাল করে তাকাল। শিশুদের অধিকার নিয়ে তো আপনারা কত কি বলেন। অথচ ওদের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবেন না কেন? আলাদিন আরও কি যেন বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু সুযোগ পেল না। ষণ্ডা লোকটা গুণ্ডাদের মতো হাঁক দিল, হারামজাদা হালার পুত, তরে খাইছি। ওই তোরা এ ব্যাডারে ধর। বিরোধী দলের লোক। ওরে মার।
শুরু হয়ে গেল আলাদিনের দৌড়। সঙ্গী তার মানুষরূপী দৈত্য। দৈত্য বলল, মালিক আপনার ফ্যাট কমা শুরু হয়েছে। দৌড়াতে দৌড়াতে আলাদিন আর তার দৈত্য ছোটখাটো এক জনসভাস্থলে হাজির হলো। এক বক্তা হম্বি-তম্বি করে কার যেন চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করছে। আলাদিন বলল, দৈত্য উনি কি বলে?
উনি বলেন, পাকি আমলে ওনারা নাকি ভাল ছিল। এক লেখক পাকিদের বিরুদ্ধে লিখছে বলে তার শাস্তি চান।
দৈত্যের কথা শেষ হতেই জনসভাস্থলের এক শ্রোতাকে আলাদিন বলল, ছিঃ ছিঃ ভাই, যে পাকিস্তান আপনাদের কত কষ্ট দিল তাদের সাফাই গাইছেন।
নাউজুবিল্লাহ! পেয়ারা পাকিদের বিরুদ্ধে কথা। শালা মুরতাদ। মার শালারে। আরেক দফা দৌড় শুরু হল আলাদিনের। এবার শহীদ মিনারের সামনে এল আলাদিন ও দৈত্য। সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছিল। দর্শকদের মাঝে কয়েকজন তরুণের কথোপকথন শুনতে পেল আলাদিন। একজন বলল, রাবিশ অনুষ্ঠান। মঞ্চে বাংলা গান পরিবেশনের সময় আরেকজন বলল, বেঙ্গলি সং আই ডোন্ট লাইক।
শিট্ বাংলা।
আলাদিন আর চুপ করে থাকতে পারল না। বলল, এইটা কি বললেন ভাই। বাংলা আপনাদের ভাল লাগে না। যে ভাষার জন্য মানুষ প্রাণ দিল তারে আপনারা বলেন ‘শিট বাংলা’। ছিঃ ছিঃ ছিঃ।
- ও ড্যাম। শিট্ ডাল ম্যান। গো ফ্রম হিয়ার।
- ঝাড়িটাও ইংলিশে মারলেন। এটা অন্তত বাংলায় কন। আচ্ছা ভাই ভিক্ষাবৃত্তি কি ভাল? দেশীয় সংস্কৃতিকে দূরে ঠেলে বিদেশীকে ধার নেয়া.... ব্যাপারটা কেমন না? আপনারা ইংলিশ পারেন ভাল কথা। বাংলাকেও শ্রদ্ধা করতে শেখেন।
- ও ইউ ব্লাডি। আই উইল কিল ইউ। আলাদিনের আবার ভুঁড়ি কমা শুরু হল। দৌড়ে দৌড়ে হাঁপিয়ে সে বলল, দৈত্য, এত দৌড়ালে তো আমার ফ্যাটের লগে জানটাও যাবে। চল দেশে ফিরে যাই।
এবার আলাদিন তার দেশের দিকে দৌড় দিল।
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×