somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজ দু'জনার দুটি পথ দু'টি দিকে গেছে বেঁকে....(১১)

১৯ শে মার্চ, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আগের পর্ব (১০)

বড় ভাইয়ারা একটা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বের করতো, মাত্র দুই পাতার দামও ছিল দুই টাকা, কেউ চাইলে না কিনে দোকানে বই ঘাটার ছলে পড়ে রেখে আসতে পারে, পত্রিকাটা ভাইয়ারা বের করতেন একটা দায়িত্ববোধ থেকে, ওগুলো পড়ে যদি দুই একজন পাঠক বাড়ে কিংবা দুই একজন ভাল লেখক বের হয়ে যায় বলাতো যায়না, আমি ভাইয়াদের সেই সাহিত্য পত্রিকাটা বের করে পড়ছিলাম, চারপাশে হৈ হুল্লোড় চেচামেচির শব্দ, তবুও একাকিত্ব কাটানোর জন্য এটাই উত্তম পন্থা বলে মনে হলো।

মাসিক সাহিত্য পত্রিকাটায় প্রথম পৃষ্ঠায় নাজির ভাইয়ার একটা প্রবন্ধ থাকতো, যেটা প্রথম কতটুকু পড়ে আবার ব্যাক করতে হতো, কেমন যেন কঠিন কঠিন বিষয়,ইসলামরে একেবারে ভেতরকার কথাবার্তার সাথে ইউরোপের চলমান জীবনদর্শণ ইত্যাদির তুলনামুলক লিখালিখি ইত্যাদি, তারপর ভাইয়ার এবং আরে দুই একজনের কিছু কবিতা তারপর শেষে থাকতো পলাশ ভাইয়ার একটা ছোট গল্প, আমি ভাইয়াদের কবিতাগুলোও খুব একটা বুঝতামনা কিন্তু ভাল লাগতো পলাশ ভাইয়ার গল্পগুলো, দৈনন্দিন জীবন যাপনের ছোটখাট বিষয়গুলো নিয়ে খুব সহজ এবং সুন্দর করে গুছিয়ে লিখতেন, পড়লে মনে হত চেষ্টা করলে বোধয় আমিও লিখতে পারব, চেষ্টা করিনি তা না, কিন্তু লিখতে গিয়ে বুঝলাম কত কঠিন!

আমার পাশে বসা সেলিম এবং আরো দুই একজন সহপাঠি গল্প করছিল, একটু খেয়াল করলাম বিষয় ছিল গল্প উপন্যাস, রুমি জিজ্ঞেস করছিল সেলিমকে, আচ্ছা ওটা পড়েছিলে চোখের বালি, নৌকাডুবি ইত্যাদি, সেলিম আসলে এসব গল্প উপন্যাস খুব একটা পড়েছে বলে মনে হলনা, কিন্তু সে এমন একটা ভান করছে যে সবগুলিইতো পড়েছে তবে কাহিনী মনে আসছে আবার ছুটে যাচ্ছে এমন একটা ভান করে রুমির কাছে নিজেকে জাহির করার একটা প্রবণতা লক্ষ করলাম।

রুমি যখন জিজ্ঞেস করল লোটা কম্বল পড়েছো? তখন সেলিম একেবারে চুপসে গেল, সে লোটাকম্বল নামটাই শুনেনি, আমিই জববা দিলাম হুম, সজ্ঞিব চট্টোপাধ্যায় এর, পড়েছি, খুব ভাল লেগেছে যদিও দ্বিতীয় খন্ডটা পড়া হয়নি এখনো, সেইদিন বেচারা সেলিম আর জমাতে পারলনা আমি আর রুমি দুজনে বলছি সেলিম শুনতে শুনতে বিরক্ত হয়ে উঠে চলে গেল, ক্লাশ ছুটি হয়ে গেছে, একে একে সবাই চলে যাচ্ছে, ফাঁকা হতে হতে আমরা দুই একজন রয়ে গেলাম আর আমি সেদিন রুমিকে কিছু উপন্যাস এর লিষ্ট দিয়ে দিলাম যেগুলো পড়ে আমার কাছে খুব ভাল লেগেছিল, হুমায়ূন আহমদ এর প্রথম গল্প যেটা ছাপিয়ে জানান দিয়েছিল বাংলা সাহিত্যে একজন নক্ষত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে সেই নন্দিত নরকে গল্পটা, অনুবাদ মক্কার পথে, নট উইদআওট মাই ডটার এসব বইগুলো অবশ্য আমিই পরে রুমিকে ধার দিয়ে পড়িয়েছিলাম।

তারপর আমি আবার অনিয়মিত ক্লাশ করতে লাগলাম, মাঝের মধ্যে যেতাম, আর জয়নালকে বলে রেখেছিলাম স্যার যদি ক্লাশ না করে রোল নাম্বার লিখে জমা দিতে বলে আমার নাম্বারটা যেন লিখে দেয়, এদিকে রুমি ও খুব একটা ক্লাশ করতনা, তবে জয়নাল থেকে জানতে পারলাম মাঝের মধ্যে আসলে তাকে জিজ্ঞেস করতো আমার কথা, আমি আসছি কিনা, ক্লাশ করিনা কেন এসব।

আসলে আমার পকেটে কলেজ যাবার যে ভাড়া তাও থাকতনা, আর যখন গিয়ে দেখতাম ক্লাশ হয়না তখন খুব খারাপ লাগত, মনে হতো বাস ভাড়াটায় জলে গেল, একদিন কলেজ যাব কি যাব'না ভাবতে ভাবতে চলেই গেলাম, পড়নে ছিল পাজ্ঞাবী, রুমি দেখে বলল কি ব্যাপার পাজ্ঞাবী পড়ে কি কলেজে আসে কেউ! নিশ্চয় কোন ব্যাপার আছে...

রুমি কি কোন ব্যাপার চাইছে আমার কাছে! খুব উৎসুক হয়ে বলল "নিশ্চয় কোন ব্যাপার আছে!"

আমিও হতাশ করতে চাইলামনা, "হুম আজ আমার জন্মদিন তাই মনে হলো আজ পাঞ্জাবীই পড়ি, যেখানে যায়না কেন।"

আশ্চর্য আমাকে আগে বলনি কেন!

কেন বললে কি হতো?

ওইস করতাম। চলো আজ আর ক্লাশ করবনা, তোমাকে নিয়ে ঘুরবো.........

চলবে...........

পরের পর্ব (১২)
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে এপ্রিল, ২০১৪ রাত ২:০২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কমলাপুর টু নারায়ণগঞ্জ - ৩ : (ছবি ব্লগ)

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:০৭




সময়টা ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসের ৬ তারিখ।
উত্তর বাড্ডা থেকে রওনা হয়ে সকাল ১১টার দিকে পৌছাই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন। উদ্দেশ্য রেললাইন ধরে হেঁটে হেঁটে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত যাবো

হাঁটা শুরু হবে কমলাপুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং মোরাল পুলিশিং বন্ধ করতে হবে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬



১.
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক ছেলে পুলিশের সাথে তর্কের জেরে পুলিশ তাকে পিটাইছে দেখলাম।

ছেলেটা যে আর্গুমেন্ট পুলিশের সাথে করছিলো তা খুবই ভ্যালিড। পুলিশই অন্যায়ভাবে তাকে নৈতিকতা শেখাইতে চাচ্ছিলো। অথচ পুলিশের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

এমপি সাহেবের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম!

লিখেছেন অপু তানভীর, ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩১


অনেক দিন আগে হুমায়ূন আহমেদের একটা নাটক দেখেছিলাম। সেখানে কোন এক গ্রামে একজন এমপি সাহেব যাবেন। এই জন্য সেখানে হুলস্থুল কান্ডকারখানা শুরু হয়ে যায়। নাটকে কতকিছুই না ঘটে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গাঁজা বৃতান্ত

লিখেছেন মুনতাসির, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৪

গাজা নিয়ে আমাদের মধ্যে বিশেষ অনুভূতির নাম হলো—এরা গাজাখোর। ব্যাপারটা এমন যেন বিশেষ কোনো শ্রেণি। না, আমি গাজা নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছি না। কিন্তু গাজা নিয়ে আমাদের দেশে যেভাবে আলোচনা, জেল-জরিমানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিয়া ও খালেদাকে নিয়ে বিষোদগার করা চুপ্পু হঠাৎ কেন তারেকের প্রশংসায় গদগদ, তারেকে মুগ্ধ!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯


২৩ ফেব্রুয়ারি দৈনিক কালের কণ্ঠে “চমকানো তথ্য দিলেন রাষ্ট্রপতি” পরে ২৪ ফেব্র্রুয়ারি “রাষ্ট্রপতির আরো বিস্ফোরক তথ্য” শিরোনামে সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। এখানেও তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জিয়া পরিবারের ভূয়সী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×