somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কতজন জানে বাংলাদেশের এই অর্জনের কথা? কে কে গর্ব বোধ করেছেন?

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১২:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এস্ট্রনমিকেল এসোসিয়েশন হতে আজ এই মেইলটা পেলাম। খুব্বি খুশী হয়েছি দেখে , সাথে সাথে মনে এক ধরণের ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।



৪র্থ আন্তর্জাতিক অ্যাস্ট্রোনমি-অ্যাস্ট্রোফিজিক্স অলিম্পিয়াডে
বাংলাদেশের অর্জন


বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল এসোসিয়েশনের বিগত ২৩ বছর সময় থেকে বাংলাদেশে জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চার বিকাশে ধারাবাহিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ইতিমধ্যেই মহাকাশ বিজ্ঞান বিষয়ক ত্রৈমাসিক প্রকাশনা ‘মহাকাশ বার্তা’ জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ে আগ্রহী সহ সুধী জনদের মাঝেও যথেষ্ট সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া নিয়মিত আকাশ পর্যবেক্ষণ, জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক কর্মশালা, সেমিনার, স্পেসফেস্ট, বছরের প্রথম সূর্যোদয় লগ্নের আয়োজন - সূর্য উৎসব সহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

বিগত দিনগুলোর কাজের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে গত ২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রো-অলিম্পিয়াড আয়োজন করে আসছে। স্কুল-কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ১৪ থেকে ১৯ বছর বয়সী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্যে এই আয়োজন।

গত এপ্রিল এর ২ তারিখে একযোগে বাংলাদেশের সাতটি বিভাগীয় শহরে প্রাথমিক বাছাই পর্বটি আয়োজন করা হয়। জাতীয় বাছাই পর্বটি বিডি নিউজ টুয়েন্টি ফোর ডট কম এর আর্থিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথমিক পর্বে অংশগ্রহণকারী ২০০০ প্রতিযোগীর মাঝ থেকে ১৫০ জনকে চূড়ান্ত পর্বের জন্যে বাছাই করা হয়। এই বাছাইকৃত ১৫০ জনকে নিয়ে এপ্রিল ৯, ২০১০ এ ঢাকাতে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা থেকে মোট ৩০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিত ৩০ জনের জন্যে একমাসের তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ ক্লাস এর আয়োজন করা হয়। ক্লাস গুলো পরিচালনা করেন ভারতীয় জ্যোতিঃপদার্থবিদ ড. অনিকেত সূলে, প্লাজমা পদার্থ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. শাহরিয়ার। প্রশিক্ষণ শেষে জুলাই এর ১৬ তারিখে এই ৩০ জনের জনে সর্বশেষ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। এখান থেকে মেধাক্রমানুসারে ১৫ জন প্রতিযোগীকে আন্তর্জাতিক অ্যাস্ট্রোনমি অলিম্পিয়াড আসরের জন্যে নির্বাচিত করা হয়।

৪র্থ আন্তর্জাতিক অ্যাস্ট্রোনমি-অ্যাস্ট্রোফিজিক্স অলিম্পিয়াডের এবারের আয়োজনটি চীনের বেইজিং শহরে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের ২জন দলনেতা রোনাল্ড ক্রজ ও মশহুরুল আমিন ও ৫জন প্রতিযোগি প্রীতম মজুমদার, শাহরিয়ার রহিম সিদ্দীকি, নিবির জাওয়াদ, তানভির আহমেদ এবং লামিম আহাদ সহ ২২টি দেশের ১০৫ জন এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।



বিগত ৫টি আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে অংশগ্রহণ করে আসছে। এবারই প্রথম বাংলাদেশের ৩জন প্রতিযোগি সম্মানসূচক ডিপ্লোমা পেয়েছে। ১০০-৯০ নাম্বর প্রাপ্তদের জন্যে স্বর্ণ পদক, ৮৯-৮০ হচ্ছে রৌপ্য পদক, ৭৯-৭০ হচ্ছে বোঞ্জ এবং ৬৯-৬০ হচ্ছে সম্মানসূচক ডিপ্লোমা। প্রীতম মজুমদার, শাহরিয়ার রহিম সিদ্দীকি এবং নিবির জাওয়াদ বাংলাদেশের পক্ষে সম্মানসূচক ডিপ্লোমা অর্জন করে।

বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল এসোসিয়েশনের সভাপতি সুজন কুমার দেব বলেন - ‘শেষ মূহুর্তে অংশিক স্পন্সর পাওয়াতে এবারের আয়োজনটি গুছিয়ে করা সম্ভব হয়নি। আশা করছি আগামী ৬ষ্ঠ বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রো-অলিম্পিয়াডে অনেক আগ থেকেই স্পন্সর পাওয়া সম্ভব হবে। এতে করে অনেক বেশী সময় নিয়ে প্রতিযোগিদেরকে আন্তর্জাতিক আয়োজনের জন্যে তৈরী করা সম্ভব হবে। আশা আগামী ২০১১ সালের আয়োজনে বাংলাদেশের প্রতিযোগীরা অবশ্যই পদক নিয়ে আসবে।’






সংবাদটি আমাদের জন্য নিঃসন্ধে গৌরবজনক এবং আনন্দের। তবে দুঃখ এই যে খবরটি আলোড়ন তুললো না, যারা বাংলাদেশের হয়ে এই গৌরব অর্জন করলো তাদের কি আমাদের থেকে সামান্য সম্মানটুকুও প্রাপ্য ছিলো না?


আজকে প্রভাকে নিয়ে, ইডেন কলেজের রঙ্গশালা নিয়ে যতোটা পোস্ট এসেছে, কয়টা পোস্ট এসেছে আমাদের এই অর্জনকে নিয়ে?
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১২:১৯
১৯টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×