আমার প্রিয় পোস্ট
- "চলচ্চিত্র সমাজ পরিবর্তন করতে পারে না, কখনো করেও নি" -- সত্যজিৎ রায়ের সাক্ষাৎকার - ফাহমিদুল হক
- যে বই গুলো পড়া দরকার (সবগুলোর লিস্ট) - সপ্নীল
- `ঈশ্বরের চোখ' থেকে : কবি রণজিৎ দাশের ১০টি কবিতা - সফেদ ফরাজী......
- ।।জন্মশতবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি।। কবি বুদ্ধদেব বসুর তপস্বী ও তরঙ্গিণী : পুরাণের নবরূপায়ণ - তপন বাগচী
- আমার রবীন্দ্র অভিজ্ঞতা - মৃদুল মাহবুব
- `আমারেও ডাকেনি কি কেউ এসে জ্যোৎস্নায়' - সফেদ ফরাজী......
- বৃত্তবন্দি নজরুল ও কিছু প্রশ্ন - সফেদ ফরাজী......
- কবি শহীদ কাদরীর ৫টি নির্বাচিত কবিতা - সফেদ ফরাজী......
- জনপ্রিয় কিছু ওয়েব সাইট এর ঠিকানা.......... - গিফার
বৃত্তবন্দি নজরুল ও কিছু প্রশ্ন
২৫ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৫:২১
১.
কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে কিছু লেখার আগে যে সত্য কথাটি বলে নেওয়া প্রয়োজন, তা হলো- ব্যক্তিগতভাবে আমি যে ধরনের কবিতা পড়ে আনন্দ পাই বা ঋদ্ধ হই, নজরুল সে ধারার মধ্যে পড়েন না। তাই বলে যে এই কবির প্রতিভাকে খাটো করে দেখতে হবে বা প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করতে হবে, তা কিন্তু নয়। কেননা বাঙালির কাছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম যে বিশাল ব্যাপ্তি নিয়ে বর্তমান আছেন, তা ম্লান হতে আরও অনেকদিন লাগবে বলেই মনে হয়। বাঙালি মধ্যবিত্ত, আরও স্পষ্ট করে বললে মধ্যবিত্ত মুসলমানের কাছে কাজী নজরুলের যে আসন, তা অনেক দৃঢ় ও বস্তৃত। এর কারণ অবশ্য অনেকটাই সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির ফল। সাম্প্রদায়িকতার বিচারেই একদা তাঁকে `জাতীয় কবি' হিসেবে স্বীকৃত দেওয়া হয় এবং এখনো তা বর্তমান।
তখনকার পাকিস্তানি কর্তৃত্বশীল ব্যক্তিরা একজন `জাতীয় কবি'র প্রয়োজন অনুভব করছিলেন। ফলশ্রুতিতে তারা ইকবালকে `জাতীয় কবি' করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তা সফল হয়নি। কারণ পূর্ব পাকিস্তানের মানুষরা ইকবালকে জাতীয় কবি বলে গ্রহণ করছিল না। কেননা তাদের মাতৃভাষা বাংলা এবং ভাষার প্রতি আছে সীমাহীন অহংকার। ফলে বাংলাভাষী মুসলমানদের খাঁটি মুসলমান ও খাঁটি পাকিস্তানি বানানোর জন্য খোঁজ পড়ল একজন মুসলমান বাঙালি কবির। তখন পাওয়া গেল কাজী নজরুল ইসলামকে। নজরুল মুসলমান, এবং তাঁর লেখায় ইসলাম ও মুসলমানকে নিয়ে অনেক গান ও কবিতা আছে; কিন্তু সে সঙ্গে তিনি পৌত্তলিক হিন্দুদের দেবদেবী নিয়েও প্রচুর কবিতা ও গান লিখেছেন, আরবি-ফারসি শব্দের পাশাপাশি যে তাঁর লেখায় ব্যবহার করেছেন প্রচুর সংস্কৃত শব্দ, দ্বিজাতিতত্ত্বকে স্বীকার করার বদলে হিন্দু ও মুসলমানকে যে তিনি একই বৃন্তের দুটি কুসুম রূপে দেখেছেন- এসব বিষয় তো খুবই বিব্রতকর। এরকম বিব্রতকর অবস্থা থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য পাকিস্তানবাদের রক্ষাকারীরা নজরুলের লেখা থেকে হিন্দুয়ানি উপাদান বাদ দিয়ে, সংস্কৃত শব্দ ছাঁটাই করে তাকে মুসলমানিকরণের যে প্রচেষ্টা নিয়েছিল তা হাস্যকর ঠেকে। এরপর পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ হলেও কিন্তু নজরুলকে ছাড়া হয়নি। তিনি হয়ে ওঠেন বাংলাদেশী জাতীয় কবি। অথচ নজরুল নিছকই বাংলা ও বাঙালির কবি হয়ে থাকতে চাননি। দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নজরুল ঘোষণা করেছিলেন, `আমি এই দেশে, এই সমাজে জন্মেছি বলেই শুধু এই দেশেরই, এই সমাজেরই নই। আমি সকল দেশের, সকল মানুষের। সুন্দরের ধ্যান, তার স্তবগানই আমার উপাসনা, আমার ধর্ম। যে কুলে, যে সমাজে, যে ধর্মে, যে দেশেই আমি জন্মগ্রহণ করি, সে আমার দৈব। আমি তাকে ছাড়িয়ে উঠতে পেরেছি বলেই কবি।'
জাতীয় কবি, মুসলমানের কবি বা হিন্দুর কবি, বিদ্রোহী কবি, নবজাগরণের কবি, সর্বহারার কবি, সাম্যবাদের কবি- এমন বহু উপাধিতে নজরুলকে বৃত্তবন্দি করার যে প্রবণতা তা যেমন হাস্যকর, তেমনি ভীতিপ্রদ। কেননা নজরুলকে রাষ্ট্রীয়ভাবেই হোক আর ব্যক্তি কিংবা সমষ্টিগতভাবেই হোক বৃত্তবন্দিকরণের পেছনে যে অভিপ্রায় লুকিয়ে থাকে, তাতে কায়েমী কোনো স্বার্থসিদ্ধির যোগ থেকে যায়। একজন প্রকৃত কবি এই বৃত্তবন্দির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বোধ করি মনে-প্রাণে আমৃত্যু চেষ্টা করে যান।
২.
নজরুল যে অসাধারণ সৃজন-প্রতিভার অধিকারী ছিলেন তা অনস্বীকার্য। তিনি তাৎণিক যে কোনো বিষয়ে কলম ধরতে পারতেন। বলা যায়, নজরুলের কবিতার জগতটি হলো তাৎণিক অনুভূত, অস্থিরতার জগৎ, কোলাহলের জগৎ। কবিতার যে নৈঃশব্দ্যের জগৎ নির্মাণে আধুনিক কবিরা কাজ করেন, নজরুল সেই পথে বেশিদূর যাননি। নজরুলের কাব্যজগতটি বেশিরভাগই দৃশ্যমান, অপ্রকাশের ভার বেশি বইতে যেন তিনি নারাজ। তাই তিনি কবিতায় প্রায়শ রাগী-বিপ্লবী বাক্যবর্ষণ করেছেন; আবার অন্তর বেদনায় ব্যথাতুর কিছু মিহি মসৃণ বাক্যও রচনা করেছেন। নজরুলের রচনার কিছু সমস্যা বুদ্ধদেব বসু চিহ্নিত করেছেন এভাবে- `অদম্য স্বতঃস্ফূর্ততা নজরুলের রচনার প্রধান গুণ- এবং প্রধান দোষ। যা কিছু তিনি লিখেছেন, লিখেছেন দ্রুতবেগে; ভাবতে, বুঝতে, সংশোধন করতে থামেননি, কোথায় থামতে হবে দিশে পাননি। ...এ ক্ষমতা চমকপ্রদ, কিন্তু নির্ভরযোগ্য নয়।' (কালের পুতুল)।
নজরুলের কবিতার চেয়ে তাঁর গানগুলোর আবেদন ও শক্তিমত্তা অনেক বেশিই বলে সবাই স্বীকার করেন। নজরুল প্রতিভার এক বিশিষ্ট প্রকাশ তাঁর গানেই। গানগুলোতে নজরুল যেন অনেক বেশি সংবেদনশীল, পরিমিতিবোধ সম্পন্ন। এ বিষয়ে বুদ্ধদেব বসুর অভিমত- `নজরুলের সমস্ত গানের মধ্যে যেগুলো ভালো সেগুলো সযত্নে বাছাই করে নিয়ে একটি বই বের করলে সেটাই হবে নজরুল প্রতিভার শ্রেষ্ঠ পরিচয়, সেখানে আমরা যাঁর দেখা পাবো তিনি সত্যিকার কবি, তাঁর মন সংবেদনশীল আবেগপূর্ণ, উদ্দীপনাপূর্ণ। `বিদ্রোহী কবি', `সাম্যবাদী কবি', কিংবা `সর্বহারার কবি' হিসেবে মহাকাল তাকে মনে রাখবে কিনা জানি না, কিন্তু কালের কণ্ঠে গানের মালা তিনি পরিয়েছেন, সে-মালা ছোট কিন্তু অক্ষয়।' (কালের পুতুল)।
কাজী নজরুল ইসলামের অধিকাংশ কবিতা সময়ের প্রয়োজনে রচিত। শাশ্বতকালের পথে কতদূর তা যেতে পারবে? ব্যক্তি মানুষের যে নীরব মনোজগৎ, যেখানে ব্যক্তিমন একা হতে চায়, সেইখানে নজরুলের কবিতা ঠিক কতটুকু পৌঁছতে পারে? জীবনানন্দ দাশ কিংবা তার পরবর্তী কবিদের সঙ্গে মহাকালের প্রেক্ষিতে নজরুলের কবিতা কতদূর টিকে থাকতে পারবে? আবার গণজাগরণ, গণআন্দোলন-গণসংগ্রাম বা ব্যক্তিজীবনের উদ্দাম-উদ্দীপনাময় পরিস্থিতির প্রয়োজনে নজরুলের কবিতার যে অগ্রণী ভূমিকার কথা আমরা শুনে শুনে এতদূর এসেছি, আর কতদিন তা আবেদন রাখতে পারবে? -এসব প্রশ্নও ভাবনার বিষয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৫:৩১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: এভাবে বলা যায়, একদিন সবকিছুই হারিয়ে যায়; আবার এভাবেও বলা যায়, মহাবিশ্বে কোথাও কিছু হারায় না। দুটোর পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি আছে। থাকবে। এটাই স্বাভাবিক।
ধন্যবাদ আরজু।
মুজিব মেহদী বলেছেন:
নজরুল সহজাত বিরল প্রতিভা নিয়ে জন্মেছিলেন। অসম্ভব প্রাণশক্তিসম্পন্ন এই কবি হাজারো সৃষ্টির প্রাচুর্যে ভরিয়ে তুলেছিলেন তাঁর সমসময়। জীবৎকালেই তিনি অর্জন করেছিলেন ব্যাপক জনপ্রিয়তা। রবীন্দ্রনাথের জনপ্রিয়তা দিকদিগন্তরে ছড়িয়ে পড়তে সময় লেগেছিল, নজরুলে তাও লাগে নি। যে বয়সে নজরুলকে লাখো গণমানুষ সংবর্ধিত করেছিল, সে বয়সে ওরকম সম্মান বাংলাভাষার লেখকদের মধ্যে এ যাবৎ আর কেউই অর্জন করেন নি। এর সবই পাঠক-শ্রোতার ভালোবাসা থেকে জাত। কালে কালে তাঁর প্রতি এই ভালোবাসা খানিকটা মলিন হয়ে গেছে বলে মনে হয়। মনে হয়, ওরকম জনপ্রিয়তা এখন আর দৃশ্যমান নয়। আমাদের কথায়-লেখায় নজরুল ও তাঁর লেখালেখি প্রসঙ্গ হিসেবে ঘন ঘন উঠে আসে না। আমরা যারা আধুনিক থেকে আধুনিকতর মানুষ হবার দিকে ধাবিত, নব্য কবিতারসিক, তাঁরা ওই স্বর দ্বারা আর তাড়িত হই না। হই না, কারণ ওখানে আমরা কোনো নৈঃশব্দ্য নেই খুঁজে পাই না। আমরা শব্দে শব্দিত হই না, নৈঃশব্দ্যে শব্দিত হই। তাই আমরা খুঁজি নৈঃশব্দ্যের খনি।
কিন্তু প্রায়ই আমরা মনে রাখি না, তার এই স্বর এখনো লাখো লাখো মানুষকে জাগায়, বাংলাভাষাভাষী সকল অঞ্চলেই। এই শব্দিত কবিতার ভক্তরা আবার নিঃশব্দ, তাদের খবর আমরা খুব কমই জানি। তাঁরা নতুন কবিতাকর্মী নন, নিখাদ পাঠক। এই বিবেচনায়ই আমি বলতে চাই, নজরুল এখনো অনেকানেক পঠিত হন না, সেটা বোধকরি সঠিক নয়। এবং অবশ্যই এই পঠনাগ্রহের নেপথ্যে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গিটা বড়ো বিষয় নয়, বড়ো বিষয় তাঁর লেখার সহজবোধ্যতা, সুরময়তা ও বিষয়ঘনিষ্ঠতা।
কবি অনেক রকমের হন, কবিতা অনেক রকমের হয়, পাঠকও অনেক রকমের হন। তাই কবি ও কবিতার পরিণতিও অনেক রকমের হতে বাধ্য।
সফেদ ফরাজীর লেখাটি অকপট, কাজেই ভালো। তার অনেক কথার সাথেই আমি একমত, যদিও সব কথার সাথে নই।
মন্তব্যের পাদটীকা : নজরুলের 'আকাশে হেলান দিয়ে পাহাড় ঘুমায় ওই'-- এই বাক্যের তুল্য বাক্য বাংলা গানে-কবিতায় খুব বেশি খুঁজে পাওয়া যায় না। এরকম অনেকানেক উদাহরণই নজরুলের গান ও কবিতা থেকে দেয়া সম্ভব, যেগুলোর ভরপুর সৌন্দর্য ও নৈঃশব্দ্য যেকোনো নিবিষ্ট পাঠককে স্পর্শ না করে পারে না।
লেখক বলেছেন: মুজিব ভাই, কেউ আমাকে যদি নজরুলের সমস্ত সৃষ্টিকর্ম একদিকে এবং তার গানগুলো অন্যদিকে রেখে আমাকে একটা বেছে নিতে বলে আমি অবশ্যই গানগুলোকেই বেছে নেব।
ধন্যবাদ মুজিব ভাই।
তারিক টুকু বলেছেন:
তিনি আধুনিক নন তারপরও যাকে বলে গ্রাসরূটের কবি, তিনি তো তাই-ই। আমার ধারনা, গ্রাসরূটের কবিরা সবসময় পৃথিবীতে বেঁচে থাকবেন।
লেখক বলেছেন: থাকুক। আমাদের তো সমস্যা নেই। ভালো লাগার ভিন্নতা না থাকলে পৃথিবী টিকবে?
মৃদুল মাহবুব বলেছেন:
একবছর আগেই বোধ হয় লেখাটি পড়েছিলাম। সহমত এবং দ্বিমত উভয়ই আছে। সব মিলিয়ে ভালো লেগেছে।
লেখক বলেছেন: ওকে।
ভালো লাগছে জেনে খুশি হইলাম।
রণদীপম বসু বলেছেন:
হুম, নজরুলের কবিতা আমাকেও খুব একটা টানে না। হয়তো সময়ের বহমানতার কারণেই। তবে নজরুলের গানগুলোর গভীরতা আর ব্যাপ্তি বিশাল। এখনো সমকালীনতার কাছে পুরনো হয়ে যায় নি। নজরুলের অনন্য প্রতিভার দীপ্ত প্রকাশ সম্ভবত সংগীতেই সবচেয়ে বেশি উদ্ভাসিত।পুরোটাই আমার ব্যক্তিগত অনুভব।
ভালো পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: নজরুলকে নিয়ে টানাটানি আরো অনেকদিন চলব বলেই অনুমান হয়।
ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আমারও আপনার ভালো লাগাটা ভালো লেগেছে।
প্রগতিশীল বলেছেন:
বুদ্ধদেব বসুর মুল্যায়নের সাথে আমি একমত নই।
তিনি সংশয় প্রকাশ করে বলেছেন, `বিদ্রোহী কবি', `সাম্যবাদী কবি', কিংবা `সর্বহারার কবি' হিসেবে মহাকাল তাকে মনে রাখবে কিনা জানি না---
'যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন রোল
আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না
অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ
তৃণভূমে রণে রণিবে না
বিদ্রোহী রণক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত'
নজরুলের এমন দীপ্ত উচ্চারণ নিপীড়িত মানুষের হৃদয়ে যুগের পর যুগ ধরে অনুরণিত হবে।
শোষণ থাকবে, বঞ্চনা থাকবে, শোষিত থাকবে, বঞ্চিত থাকবে এবং নজরুল থাকবে।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















প্লাস। সাহস করে একান্ত ব্যাক্তিগত অনুভুতি জানানোর জন্য ।
আপনি জানাচ্ছেন- ''কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে কিছু লেখার আগে যে সত্য কথাটি বলে নেওয়া প্রয়োজন, তা হলো- ব্যক্তিগতভাবে আমি যে ধরনের কবিতা পড়ে আনন্দ পাই বা ঋদ্ধ হই, নজরুল সে ধারার মধ্যে পড়েন না।''
----------------------------জানান দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। তাতে রচনার স্বাদ নিতে সুবিধে হল।
''বলা যায়, নজরুলের কবিতার জগতটি হলো তাৎণিক অনুভূত, অস্থিরতার জগৎ, কোলাহলের জগৎ।
এবং
''কাজী নজরুল ইসলামের অধিকাংশ কবিতা সময়ের প্রয়োজনে রচিত। শাশ্বতকালের পথে কতদূর তা যেতে পারবে?''
অভিযোগ এবং প্রশ্ন অনেক পুরনো। শনিবারের চিঠি'র চেয়ে কিছূ কম বয়সী অভিযোগ এবং প্রশ্ন।
প্রতিক্রিয়া ও জবাব দুয়ের মধ্যেই আছে। কাগজে কলমে এবং বাস্তবে।
শনিবারের চিঠি লেখকরা হারিয়ে গেছেন এবং নজরুল আছেন। নজরুল তার রচনায় সমসময়কে ধারন করেছেন এবং সময় তাকে ধারন করে চলেছে।
অবশ্য আপনার অনুভুতি---