somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসুন আবার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠি। ৭ জানুয়ারী আমরা ""ফেলানী হত্যা দিবস‍‍‌‌‌‌'' এবং ''Border Killing Prevention Day'' পালন করি।

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৫:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত বছর ৭ জানুয়ারী ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ নির্মম ভাবে সীমান্তের কাঁটাতার পার হওয়ার সময় ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করে। মেয়েটির প্রাণ বায়ু বের হয়ে যাওয়ার আগে সে পানি পানি করে চিৎকার করেছে কিন্তু তাকে কেউই পানি দিতে এগিয়ে আসেনি। শেষ পর্যন্ত এক বুক পিপাসা নিয়ে তার আত্মা দেহ ত্যাগ করে।

বিএসএফ এর সীমান্ত হত্যা এটিই প্রথম ছিলো না। এর আগেও নিয়মিত ভাবে তারা গুলি করে বাংলাদেশীদের হত্যা করতো। কিন্তু ফেলানীর এই হত্যা পূর্বের সব হত্যাকাণ্ডের বর্বরতাকে হার মানিয়ে যায়।
ফেলানীর এই হত্যা আমাদের বুঝিয়ে দিয়ে যায় আমরা কতটুকু স্বাধীন। আমাদের স্বাধীনতার অর্থ কতটা নিরর্থক। আমরা প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত বাহিনীর হাতে কতটা অসহায়।

সেই বর্বরতার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠে সারা দেশ। প্রতিবাদ উঠে সাধারন মানুষের পক্ষ থেকে। প্রতিবাদে রাজপথে নেমে আসে সাধারন ছাত্র-শিক্ষক, আম জনতা। ফলে ভারত এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করতে বাধ্য হয়।

এই প্রতিবাদে আমাদের যা লাভ হয়েছে তা হল এখন বিএসএফ গুলি করে বাংলাদেশীদের হত্যা বন্ধ করেছে।

কিন্তু যা খারাপ হয়েছে তা হল সেই বিএসএফ এখন পাথর ছুরে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে বাংলাদেশীদের বর্বর ভাবে হত্যা করছে। এই হত্যাকাণ্ডগুলোকে তারা বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে "আত্মরক্ষার জন্য হত্যা' বলে। যা কিনা রীতি মত মানবতার প্রতি চরম কৌতুক করার নামান্তর।
সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফ এর এই বর্বর ও অসভ্য হত্যাকাণ্ড নিয়মিত ভাবেই চলছে। বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি'র কোন প্রতিবাদই তাদেরকে এই বর্বর পথ থেকে সরিয়ে আনতে পারছে না।
এর উপর রয়েছে বিএসএফ এর সীমান্ত সন্ত্রাস। বাংলাদেশি কৃষকদের ধরে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার করা। বাংলাদেশের সীমান্তের ভিতর থেকে ফসল কেটে নিয়ে যাওয়া, মাছ ধরে নিয়ে যাওয়া। বাংলাদেশের সীমান্তের ভিতরে কাটাতারের বেড়া দেওয়ার মত হীন কাজগুলো তারা নিয়মিত ভাবে করে যাচ্ছে যেগুলো বার বার প্রমাণ করতে আমাদের স্বাধীনতা কতটা অরক্ষিত। আমরা কতটা অসহায়। আমাদের সরকার কতটা নতজানু।

এই ভাবে কি চলতে দেওয়া যায়? না এই ভাবে চলতে দেওয়া উচিত?

আসুন আবার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠি। ৭ জানুয়ারী আমরা ""ফেলানী হত্যা দিবস‍‍‌‌‌‌'' এবং ''Border Killing Prevention Day'' পালন করি। প্রতিবাদ করি আমাদের ভাই-বোনদের হত্যার। সীমান্তে আমাদের স্বাধীনতাকে অপমান করার। আমাদের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ধৃষ্টতা দেখানোর।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×