==============================================
ঘটনাটা কালকের, কিন্তু কালকে ছিলাম একটা ঘোরের মধ্যে। লিখি লিখ করে আর লেখা হল না। অফিসে কাজ না থাকায় ভাবলাম লিখে ফেলি।
প্রতিদিনের মতো নাবিস্কো থেকে যথারিতী বাস ধরলাম। ডান সাইডে জানালার কাছে একটা সিটও পেয়ে গেলাম। একেবারে সোনায় সোহাগা আরকি। কার মুখ দেখে যে ঘুম ভাঙ্গছে?
মনের আনন্দে অফিসে যাচ্ছি। মগবাজার রেলক্রসিং এসে সেই বিখ্যাত জ্যামে পড়ে গেলাম। গাড়ীর সবার হৈচৈ দেখে বুঝলাম কোন বিপদে আশংকা। হ্যা বিপদ তো অবশ্যই, আমাদের গাড়ীটা ছিল একদম রেল লাইনের উপরে।
চারিদিকে হৈ হুল্লুড় ট্রেন আসছে।
কিছুই বুঝতে পারলাম না। কোন সিগন্যাল নাই। হুটহাট এইভাবে ট্রেন আসে নাকি? যাক আমাদের দেশের সিগন্যাল ব্যবস্থপনা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে জীবন বাঁচানোর কথা চিন্তা করলাম। দৌড়াইয়া নামতে চেষ্টা করলাম পারলাম না। চারিদিকে শুধু গাড়ী আর গাড়ী। দরজা জানালা ঘেসে আছে গাড়ী। যে দিক থেকে ট্রেন আসছে সেই অবশ্য খোলা আছে। ইচ্ছা করছিল জানালার কাঁচ ভেঙ্গে নেমে পড়ি।
মাথায় কোন কাজ করছিলনা। কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। শুধু জানালা দিয়ে ট্রেন টাকে একবার দেখলাম। কত দুরে হবে? এই ৮০০ গজ। চোখের সামনে সমস্ত জীবনের ফ্ল্যাশব্যাক দেখতে পেলাম। সেই স্কুল জীবন, কলেজ জীবন, বন্ধু । ২ জনের চেহারা চোখের সামনে বেশী ভাসতে থাকলো বাবা, মা। খুব চিৎকার দিয়ে বাবা মাকে ডাকতে ইচ্ছা করল, পারলমনা। শরীরের সমস্ত ক্রিয়া বন্ধ হতে চলছে।
একসময় নিজেকে আবিষ্কার করলাম। অফিসের চেয়ারে। হাতে একটা পানির বোতল। স্থানীয় লোকজের সহায়তার এ যাত্রায় রক্ষা পাই। ট্রেন আসতে আসতে লাইনের গাড়ীগুলো কে সরানো হয়েছিল। একমদম গাড়ীর পিছনে দিয়ে চলে গেল যন্ত্র দানবটি।
ছবিতে তো আমার শরীরে অবস্থাটা দেখতাছেন। একটা গুতা দিলে আর একটা দেওয়ার জায়গা নাই। আর ট্রেনের গুতা খাইলে আমার কি অবস্থা হইতো একবার অনুমান করেন তো।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০১৬ বিকাল ৪:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

