somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হাওয়া (আঃ) এর অপরাধ?

১৭ ই জুলাই, ২০১০ বিকাল ৫:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তিনটি ধর্ম একটি সত্যের উপর একমত তা হল আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পুরুষ ও নারীকে সৃষ্টি করেছেন আর তিনিই সমস্ত পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা। ধর্মগুলোর মধ্যে যতসব বৈপরিত্য হয়েছে সবই প্রথম মানুষ আদম ও হাওয়া (আঃ) এর সৃষ্টির পর। ইহুদী ও খৃষ্টানদের বিশ্বাস হচ্ছে আল্লাহ তায়ালা আদম ও হাওয়া (আঃ) কে নিষিদ্ধ গাছের ফল খেতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু, সাপ হাওয়া (আঃ) কে নিষিদ্ধ গাছের ফল খাওয়ায় প্ররোচনা দিয়েছে আর হাওয়া (আঃ) আদম (আঃ) কে তা খেতে প্ররোচনা দিয়েছেন।(নাউজুবিল্লাহ) আল্লাহ তায়ালা যখন আদম (আঃ) কে অপরাধের জন্য দোষারোপ করেছেন তখন আদম (আঃ) তার সব দোষ হাওয়া (আঃ) কে দিয়ে বলেছেন: "অতঃপর আদম (আঃ) বললেনঃ ওই মহিলা আমাকে দিয়েছে তাই আমি তা খেয়েছি।" (জেনেসিসঃ৩/১২)

স্রষ্টা মহিলাদের সম্বন্ধে বললেন: "আমি তোমাদেরকে অনেক কষ্টের সন্মুখীন করব। সন্তান প্রসবের সময় ব্যথা পাবে; আর তোমার সমস্ত মনোনিবেশ হবে তোমার স্বামীর দিকে। যে তোমার উপর কর্তৃত্ব করবে। আর তিনি আদম (আঃ) কে বললেনঃ তুমি তোমার স্ত্রীর কথা শুনে আমার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিষিদ্ধ গাছের ফল খেয়েছ যার সম্বন্ধে আমি বলেছি পৃথিবীর এ অভিশপ্ত গাছ থেকে ভক্ষন করো না। এর কারণে দুঃখ-কষ্ট তোমার জীবনের দিনগুলিকে খেয়ে ফেলবে। (জেনেসিসঃ৩/১৬-১৭)

অপর দিকে সৃষ্টির শুরুর ঘটনাবলী নিয়ে কুরআন শরীফের বিভিন্ন স্থানে আলোচিত হয়েছে। যেমন আল্লাহ বলেন:

وَيَا آدَمُ اسْكُنْ أَنْتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ فَكُلَا مِنْ حَيْثُ شِئْتُمَا وَلَا تَقْرَبَا هَذِهِ الشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ الظَّالِمِينَ (19) فَوَسْوَسَ لَهُمَا الشَّيْطَانُ لِيُبْدِيَ لَهُمَا مَا وُورِيَ عَنْهُمَا مِنْ سَوْآتِهِمَا وَقَالَ مَا نَهَاكُمَا رَبُّكُمَا عَنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ إِلَّا أَنْ تَكُونَا مَلَكَيْنِ أَوْ تَكُونَا مِنَ الْخَالِدِينَ (20) وَقَاسَمَهُمَا إِنِّي لَكُمَا لَمِنَ النَّاصِحِينَ (21) فَدَلَّاهُمَا بِغُرُورٍ فَلَمَّا ذَاقَا الشَّجَرَةَ بَدَتْ لَهُمَا سَوْآتُهُمَا وَطَفِقَا يَخْصِفَانِ عَلَيْهِمَا مِنْ وَرَقِ الْجَنَّةِ وَنَادَاهُمَا رَبُّهُمَا أَلَمْ أَنْهَكُمَا عَنْ تِلْكُمَا الشَّجَرَةِ وَأَقُلْ لَكُمَا إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمَا عَدُوٌّ مُبِينٌ (22) قَالَا رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ (23)

অর্থাৎ, হে আদম! তুমি এবং তোমার স্ত্রী জান্নাতে প্রবেশ কর। অতঃপর সেখান থেকে যা ইচ্ছা খাও, তবে ঐ বৃক্ষের পাশে যেয়ো না। তাহলে তোমরা গোনাহগার হয়ে যাবে। অতঃপর শয়তান উভয়কে প্ররোচিত করল যাতে তাদের গোপন অংগসমুহ প্রকাশিত হয়। সে বলল: তোমরা উভয়ে ফেরেশতা কিংবা চিরকাল জান্নাতে বসবাস কারী হয়ে যাবে এ জন্য আল্লাহ তোমাদেরকে এ গাছের নিকটবর্তী হতে নিষেধ করেছেন। সে তাদের কাছে কসম খেয়ে বলল: অবশ্যই আমি তোমাদের হিতাকাংখী। অতঃপর প্রতারণাপূর্বক তাদেরকে সম্মত করে ফেলল। অনন্তর, যখন তারা ওই গাছ থেকে আস্বাদন করল, তখন তাদের লজ্জাস্থান সমূহ খুলে গেল এবং তারা বেহেশতের পাতা দিয়ে নিজেদের লজ্জাস্থান ঢাকতে শুরু করলেন। তাদের পালনকর্তা তাদেরকে ডেকে বললেনঃ আমি কি তোমাদেরকে ওই গাছের নিকটবর্তী হতে নিষেধ করি নি? আর আমি কি তোমাদেরকে বলে দেই নি যে, শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু?

তারা উভয়ে বলল: হে আমাদের রব! আমরা নিজেদের উপর যুলুম করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা ও অনুগ্রহ না করেন তাহলে, আমরা ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাব। (সুরা আ'রাফঃ ১৯-২৩)

উপরোক্ত দু'টি ঘটনার দিকে যদি আমরা দৃষ্টি নিবদ্ধ করি তাহলে আমরা অনেক মৌলিক পার্থক্য দেখতে পাব। কুরআন শরীফ বাইবেলের বিপরীত যেখানে দোষারোপ করা হয়েছে আদম ও হাওয়া(আঃ)উভয়কেই। কুরআন শরীফের কোথাও বলা হয় নি যে, হাওয়া (আঃ) আদম (আঃ) কে গাছ থেকে খেতে প্রতারিত করেছেন বা তিনি আদম (আঃ) এর আগেই তা খেয়েছেন।

সুতরাং, কুরআন অনুযায়ী হাওয়া (আঃ) আদম (আঃ) কে প্রতারণা কিংবা বিপথে পরিচালিত করেন নি। আর গর্ভধারণের যন্ত্রণা মায়েদের উপর আল্লাহ তায়ালার শাস্তি নয়। কুরআন শরীফে উল্লেখিত বর্ণণানুযায়ী আল্লাহ তায়ালা কারো অপরাধের কারণে অন্যকে শাস্তি দেন না। অতএব, আদম ও হাওয়া (আঃ) উভয়েই সমান অপরাধ করে আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন আর আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।
:by:-
মুহাম্মদ ইসমাইল জাবীহুল্লাহ
আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়
কায়রো,মিশর



সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুলাই, ২০১০ বিকাল ৫:১৫
১৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×