somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার : আছে বিস্ময়, আছে রহস্য

০৭ ই আগস্ট, ২০১০ ভোর ৪:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আপনি কি পৃথিবীতে বসেই দূর নক্ষত্রলোক ঘুরে আসতে চান, খুব কাছে থেকে দেখতে চান দূর মহাকাশের গ্রহ-নক্ষত্রদের মিলনমেলা? তাহলে চলে আসুন ঢাকার বিজয় সরণিতে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটারে। প্রযুক্তির কল্যাণে প্রায় একই অনুভূতি আপনি লাভ করতে পারবেন এখানে। বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান, তথ্ ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এখানে ১২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি করেছে দেশের একমাত্র প্লানেটোরিয়াম নভোথিয়েটার। এ প্রকল্প শুরু হয় ১৯৯৭ সালে এবং এর কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৪ সালে। এখানে প্রদর্শনীর জন্য জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারত থেকে উন্নতমানের সরঞ্জাম আনা হয়েছে।

বিনোদনের মাধ্যমে দেশের নাগরিক বিশেষত শিক্ষার্থীদের মহাকাশবিজ্ঞান সম্পর্কে ধারণা দেওয়া, কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস দূর করে বিজ্ঞানশিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করাই এই প্রতিষ্ঠানটির মূল উদ্দেশ্য।

এই নভোথিয়েটারের অর্ধগোলাকৃতি কক্ষে আছে বিমোহিত করার মতো পারফোরেটেড অ্যালুমিনিয়ামের পর্দা, এই জাতীয় পর্দায় চোখ রাখলে পুরো হলরুমের ছাদটাকেও মনে হয় সিনেমার অংশ। রয়েছে জাপানের গোতো কোম্পানির জিএসএস হ্যেলিয়াস প্রজেক্টর। এটি বিভিন্ন স্পেশাল ইফেক্ট সৃষ্টি করে। রয়েছে অ্যাস্ট্রোভিশন ৭০ প্রজেক্টর, যা ফিল্মে গ্রহ-নক্ষত্র দেখার সময় দর্শকের অনুভূতিকে অনেক বেশি সজাগ করে তোলে। এছাড়া বিশাল অ্যালুমিনিয়াম পর্দার সাথে এই জাতীয় উন্নতমানের প্রজেক্টরের সমন্বয়ে ফিল্ম দেখতে বসলে গোটা দৃশ্যকে মনে হয় জীবন্ত। তাই নভোথিয়েটারের এই প্রদর্শনী হয়ে ওঠে সারাজীবন মনে রাখার মতো।

প্রদর্শনী : নভোথিয়েটারে নিয়মিত দুটি ফিল্ম প্রদর্শিত হয়। একটি মহাকাশবিষয়ক শো ‘জার্নি টু ইনফিনিটি’, অন্যটি বাংলাদেশবিষয়ক তথ্যচিত্র ‘এই আমাদের বাংলাদেশ’। ‘জার্নি টু ইনফিনিটি’ শোতে মহাকাশ বিষয়ক বিভিন্ন তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এটি আমেরিকান ডকুফিল্ম নির্মাতা ড. বিল গুসের সৃষ্টি। এই তথ্যচিত্রটি এখানকার উচ্চক্ষমতার প্রক্ষেপণযন্ত্রের অনিন্দ্য-সুন্দর আলোচ্ছটায় দর্শকদের যেন পৌঁছে দেয় গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে, মিল্কিওয়ে ও গ্যালাক্সিতে। মনেই হবে না যে, আপনি ফিল্মে দেখছেন। বরং মনে হবে আপনিও এ বিশাল মহাশূন্যের মধ্যে ভাসছেন। মনে হবে বিস্ময় জাগানো রহস্যময় বিগব্যাং বা মহাবিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে সৌরজগতের সৃষ্টিপ্রক্রিয়ার সাথে কোনো না কোনোভাবে আপনিও সম্পর্কিত। বৃহৎ ও স্পষ্টভাবে এই ফিল্মে আপনি দেখবেন : চন্দ্রগ্রহণ, সূর্যগ্রহণ, উল্কাপাত; বিভিন্ন দেশের বছরের বিভিন্ন সময়ের রাতের আকাশ; দূর অতীত, বর্তমান ও দূর ভবিষ্যতের গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান ও বিচরণ; পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহ-উপগ্রহের পৃষ্ঠদেশ; সূর্যের অভ্যন্তরীণ ক্রিয়া-বিক্রিয়া, নক্ষত্রমণ্ডলির বহিঃত্বক; নক্ষত্রের মৃত্যু এবং সর্বগ্রাসী কৃষ্ণগহবরে এদের কোনো কোনোটির হারিয়ে যাওয়ার দৃশ্য এবং সর্বোপরি বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ। আর দেখার পাশাপাশি সিম্যুলেশন ইফেক্টের কারণে দর্শকদের মনে তৈরি হবে ঘটনাস্থলে সশরীরে হাজির থাকার অনির্বচণীয় অনুভূতি।

অপর ফিল্মটিতে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির প্রতিফলন রয়েছে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূলে যে মানবিকতা, সাম্য, গণতন্ত্র আর অসাম্প্রদায়িকতার চেতনা, তার কথা বর্ণিত আছে। এটি পরিচালনা, চিত্রনাট্য তৈরি ও ধারাবিবরণী করেছেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক।

ক্যাপসুল রাইড সিমুলেটর : এটি এমন একটি রোলার কোস্টার, যেখানে প্রাচীন পিরামিডের মধ্য দিয়ে সময়ের দরোজা পেরিয়ে মিশর ভ্রমণের অনুভূতি লাভ করা সম্ভব। ক্যাপসুল রাইড সিমুলেটরে আসন সংখ্যা ৩০ । জনপ্রতি টিকিটের মূল্য ২০ টাকা। নভোথিয়েটারের বাহির ও ভেতরের কাউন্টার থেকে টিকেট সংগ্রহ করা যায়।

অন্যান্য সায়েন্টিফিক প্রদর্শন
: এই নভোথিয়েটারে আরো আছে প্রদর্শনযোগ্য বিচিত্র সায়েন্টিফিক বিষয়। এর বেশিরভাগই গ্রহ-নক্ষত্র-ছায়াপথ সংক্রান্ত। যেমনÑ ‘সৌরজগতের গ্রহসমূহের মডেল’, মহাকাশবিষয়ক চিত্র; সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদের মডেলসহ নানা কিছু। আছে বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য জানার জন্য একটি টাচস্ক্রিন কম্পিউটার, যার মধ্যে আঙুল ছোঁয়ানো মাত্রই পাওয়া সম্ভব বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন তথ্য।

প্রবেশ তথ্য : শুধু মূল চত্বরে প্রবেশ ফি ১০ টাকা। তবে প্লানেটোরিয়াম শো/রাইড সিমুলেটরের টিকিট সংগ্রহ করলে এ টিকিটের প্রয়োজন হবে না। প্লানেটোরিয়াম শোর জন্য জনপ্রতি টিকিটমূল্য ৫০ টাকা। প্রতিদিন পাঁচবার প্রদর্শনী চলে। সকাল ১১টা, দুপুর ১টা, বেলা ৩টা, বিকেল ৫টা ও সন্ধে ৭টায়। সাপ্তাহিক বন্ধ বুধবার। অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনেও বন্ধ থাকে। প্রদর্শনীর আগে কাউন্টার থেকে টিকেট বিক্রি করা হয়। আর কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য পরিচালক বরাবর আবেদন করা সাপেক্ষে অগ্রিম টিকেট বরাদ্দের ব্যবস্থা আছে।

অন্যান্য বিষয়
: নভোথিয়েটারে রয়েছে ১৫০ আসনের অডিটোরিয়াম, ৫০ আসনের কনফারেন্স রুম, গাড়ি পার্কিং ও খালি জায়গা, যা সরকার নির্ধারিত হারে ভাড়া দেয়া হয়। তবে দু’বছরের কম বয়সী শিশু এবং বিশেষ অসুস্থ ব্যক্তিদের নভোথিয়েটারের প্রদর্শনী উপভোগ না করাই ভালো।

নভোথিয়েটারের মূল ভবনে প্রবেশের আগে আছে একটি ছোট্ট জলাশয়, সেখানে বিচিত্র মাছ সাঁতরে বেড়ায়। আপনি চাইলে ওই সব মাছকে কিছুটা খাবার দিয়ে আসতে পারেন, মুগ্ধ হয়ে দেখতে পারেন তাদের খাবার গ্রহণের শৈল্পিক দৃশ্যও।

তথ্য ও যোগাযোগ : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান নভোথিয়েটার
দূরভাষ: ৯১৩৮৮৭৮, ৯১৩৯৫৭৭, ৮১১০১৮৪, ৯১৩০০০৬


সৌজন্যবাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডি
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই আগস্ট, ২০১০ ভোর ৪:৩২
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×