বেগমগঞ্জের মীরওয়ারীশপুরের পূর্ব নির্ধাতির স্থানে নোয়াখালীর মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবিতে গতকাল রোববার জেলার প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র চৌমুহনী পৌর এলাকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট ও গনমিলনায়তন চত্বরে বিশাল ছাত্রগনজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃষ্টি উপক্ষো করে সকাল ১২টা থেকে ঘন্টাব্যাপী জমায়েত থেকে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ স্থাপন নিয়ে সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ছাড়াও মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার কর্মসূচী ঘোষনা দেওয়া হয়।
নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ বাস্তবায়ন সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটির ব্যানারে আয়োজিত গনজমায়েতে সকাল থেকে চৌমুহনীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা একে একে জড়ো হতে থাকে। সকাল ১২ টা নাগাদ চৌমুহনী গনমিলনায়তন চত্বরে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর পাশাপাশি বেগমগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবি সংগঠনের কর্মী সমর্থকেরা উপস্থিত হন।
সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক ও বেগমগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান ভিপি মোহাম্মদ উল্লার সভাপতিত্বে গণজমায়েতে ছাত্রছাত্রীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন জেরিন সুলতানা, সর্বদলীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আবদুর রব চেয়ারম্যান, মোহাম্মদ উল্লা বিকম, আবুল খায়ের বিএ, আজিজুর বাশার স্বপন, মাওলানা তফাজ্জল হোসেন, রহমত উল্যা, সাদেক উল্লা, মনজুরুল আজিম সুমন, মুজিবুর রহমান বাচ্চু, কাজী বেলায়েত হোসেন রাজু, আমিনুল হক মুন্না, হুমায়ুন কবির, রহমত উল্যা মিন্টু প্রমুখ।
বক্তারা নির্ধারিত স্থানে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ স্থাপনের বিরুদ্ধে আদালতে রীট পিটিশনকারী সাবেক সংসদ সদস্য ও পার্টেক্স গ্র“পের চেয়ারম্যান এম এ হাশেমের সমালোচনা করেন এবং তিনি যদি তাঁর রীট প্রত্যাহার না করেন তাহলে পার্টেক্স গ্র“পের সকল পন্য বয়কটের ঘোষনা দেন। পাশাপাশি বেগমগঞ্জে মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। গনজমায়েত শেষে একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের হয়ে চৌমুহনীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চৌরাস্তায় গিয়ে শেষ হয়।
এদিকে মেডিক্যাল কলেজ নিয়ে হাইকোর্টে রীট আবেদনকারী বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও পারটেক্স গ্র“পের চেয়ারম্যান এম এ হাসেম জানান, জনগণের দাবির সাথে তিনি একমত। চৌমুহনীতে থাকলে তিনি নিজেই মিছিলে যোগ দিতেন। প্রস্তাবিত জায়গায় তিনি নিজের নামে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের কাছ থেকে বন্দোবস্ত নিয়েছিলেন। জরুরী অবস্থা জারীর পর সরকার সেখানে সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। এতে তাঁর কোন আপত্তি নেই প্রয়োজনে যে কোন ধরণের সহায়তা করতে তিনি প্রস্তুত তবে যেহেতু তিনি এখানে মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন তাই তাঁর নামে এটি হতে হবে এজন্যই তিনি রীট করেছেন।
প্রসঙ্গত; বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সে অনুযায়ী বেগমগঞ্জ উপজেলার মীরওয়ারিশপুর মৌজায় ২৬ একর সরকারি ভূমিতে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য স্থান নির্বাচন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাইড সিলেকশন কমিটি। ইতোমধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে এ ভূমি বরাদ্দ প্রদান করে। এমনকি কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য গত ৬জুন দরপত্র আহবান করে গণপূর্ত বিভাগ। আগামি ৮ জুলাই দরপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। কিন্তু গত সাপ্তাহে মেডিক্যাল কলেজের জন্য বরাদ্দকৃত ভূমি নিয়ে একটি রীট আবেদন করেন পারটেক্স গ্র“পের চেয়ারম্যান এম এ হাসেম।
#
http://www.youtube.com/watch?v=J_fXYjED7bE

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

