somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাগরকন্যা নিঝুম দ্বীপসহ হাতিয়ার দক্ষিণের বন উজাড় নদী ও বনাঞ্চল দখলে বেপরোয়া মুন্সিয়া বাহিনী

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাগরকন্যা নিঝুম দ্বীপসহ হাতিয়ার দক্ষিণের বনাঞ্চল উজাড় এবং বনভূমি ও নদী দখলে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে দুর্ধর্ষ মুন্সিয়া বাহিনী। বনের গাছ কাটতে বাধা দেয়ায় সে জ্বালিয়ে দিয়েছে বন বিভাগের আলাদি বাজার বিট। উজাড় করে চলেছে ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। বনভূমি দখল করে প্রতিবিঘা বিক্রি করেছে ১২ হাজার টাকায়। নদীতে প্রতি ‘হার’ বিক্রি করছে আড়াই লাখ টাকা। হাতিয়া থানার কাছাকাছি এলাকায়ই অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে চলে মুন্সিয়া বাহিনীর মহড়া। কিন্তু পুলিশ তাদের খুঁজে পাচ্ছে না।
বছরখানেক আগেও হাতিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে মুন্সিয়া চোর হিসেবেই পরিচিত ছিল। স্থানীয় সোনাদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা ইয়াসির আরাফাত কানুর চাচা ও মুন্সিয়া চোরার আসল নাম আবদুল মালেক। স্থানীয়রা জানায়, দেশে জরুরি অবস্থার সময় মুন্সিয়া চোরা দস্যুসম্রাট বাশার মাঝির আশ্রয়ে বিভিন্ন চরে পালিয়ে থেকেছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মুন্সিয়া নিজ এলাকায় আস্তানা গড়ে এবং থানা পুলিশের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। সশস্ত্র বাহিনী তৈরি করে প্রভাব বিস্তার শুরু করে নিঝুম দ্বীপ, দমার চর, চর কালাম, চর ওসমান, চর কমলা ও পার্শ্ববর্তী মেঘনা এবং শাখা নদী এলাকায়। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় এসব এলাকায় গাছকাটা ও চাঁদাবাজির বিস্তার ঘটায় মুন্সীয়া। গত তিন মাসে এ বাহিনীর বেপরোয়া তাণ্ডবে স্থানীয় জনসাধারণ এবং বন বিভাগ দিশেহারা হয়ে পড়ে। গত ২ নভেম্বর বন উজাড়ের খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা চর কালামের তবলখালী এলাকায় অভিযান চালালে পাল্টা ধাওয়া করে আলাদি বাজার বনবিট ভেঙে জ্বালিয়ে দেয় মুন্সীয়া বাহিনী। আহত করে বিট কর্মকর্তাদের। পরদিন তারা কেটে ফেলে ৪ হাজার গেওয়া গাছ। এ দুটি ঘটনায় মুন্সীয়াকে প্রধান আসামি করে দুটি মামলা করেছে বন বিভাগ। কিন্তু ধরা পড়েনি মুন্সীয়া।
মুন্সীয়া এখন এসব এলাকায় তাঁবু দিয়ে আস্তানা তৈরি করেছে। বনের গাছ কেটে প্রতিবিঘার দখল ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করছে। গত দুই মাসে গাছকাটা এমন বেপরোয়া হয়েছে, এখন জাহাজমারাসহ দক্ষিণের বনাঞ্চল এবং নিঝুম দ্বীপের অভয়ারণ্য হুমকিতে পড়েছে। চিত্রা হরিণগুলো বনের নিরাপত্তা হারিয়ে লোকালয়ে চলে আসছে। প্রতিরাতেই মুন্সীয়া বাহিনী গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। ম্যানগ্রোভ বনায়ন প্রকল্পে সৃজিত ৭ হাজার একর বনের গাছ অধিকাংশই নিঃশেষ করে দিয়েছে। গত কয়েক মাসে মুন্সীয়া বাহিনী সংরক্ষিত বনের জায়গায় দুই থেকে তিন হাজার লোককে দখলে বসিয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে হাতিয়ার দক্ষিণ ও পশ্চিমে মেঘনা এবং শাখা নদীতে মাছ ধরার স্থানগুলো খুঁটি দিয়ে দখল করে নিয়েছে মুন্সীয়া বাহিনী। চার খুঁটি দিয়ে দখল করা জায়গাকে বলা হয় ‘হার’। প্রতিটি হার জেলেদের কাছে আড়াই লাখ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। যেসব জেলে চাঁদা দিতে পারছে না, তারা এবার মাছ ধরার সুযোগ পাচ্ছে না। জানা যায়, স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে মুন্সীয়া বাহিনীর সখ্যের কারণে প্রশাসন এ বাহিনীর তাণ্ডব নিয়ে বেশি উচ্চবাচ্য করছে না। থানা সদরের ৬ কিলোমিটারের মধ্যে মুন্সীয়ার বাড়ি এবং চরচেঙ্গা বাজারে তাকে সবাই প্রকাশ্যে দেখতে পায়। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণেই মুন্সীয়া এমন বেপরোয়া বলে জানা গেছে। জামাল মাঝি এখন মুন্সীয়ার সেকেন্ড ইন কমান্ড এবং নাজিম, মোশাররফ, আনোয়ার, আশরাফ, বাহার, মোজাহার, হাসান মাঝি, আক্তার ও হেলাল মুন্সীয়ার সশস্ত্র ক্যাডার হিসেবে সক্রিয় বলে স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়। এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যাপক ওয়ালীউল্লাহর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দল বদলকারী আওয়ামী লীগ নামধারীরা দস্যুদের আশ্রয় দিচ্ছে। আসল আওয়ামী লীগ অপকর্মের সঙ্গে নেই।
দস্যু মুন্সীয়া থানার ওসিকে কালিজিরার চালসহ বিভিন্ন উপঢৌকন নিয়মিত পাঠিয়ে থাকে। তবে হাতিয়া থানার ওসি রতন দাশগুপ্ত এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মুন্সীয়াকে গ্রেফতারের জন্য তিনি অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। মুন্সীয়া এখন পলাতক বলে তিনি জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হারুন অর রশিদ বলেন, চর এবং বনের দস্যুরা ভয়ঙ্কর। তাই এদের পাকড়াও করতে হলে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগ করতে হবে। হালকা অভিযানে নদী ও বনের দস্যু দমানো সম্ভব নয়।

Click This Link
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×