somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের নিঝুম দ্বীপ : পর্যটকদের আকর্ষণ : চিত্রা হরিণ, সমুদ্র বালুচর, নকশিকাঁথার মাঠ

০৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সমুদ্রকোলে অস্তগামী সূর্য। কেওড়া বন থেকে দলবেঁধে ঘাসবনে ছুটে আসছে মায়াবী চিত্রা হরিণ। দূর বালুচরে চিক চিক খেলা করছে মিষ্টি সূর্যরশ্মি। কেওড়া-গেওয়া বনের কোলঘেঁষে বয়ে যাওয়া সরু খালের পাড়ে সবুজের আচ্ছাদিত নকশিকাঁথার মাঠ। ওপরে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখির ওড়াওড়ি। বনে পাখির কিচিরমিচির। শীতের বিকালে প্রকৃতির এমন অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করতে কার না মন চায়। সাগরবক্ষের নৈসর্গিক সৌন্দর্যময় অভয়ারণ্য নিঝুম দ্বীপে শীত মৌসুমজুড়ে প্রকৃতির এমন মায়াবীরূপ এখন প্রতিদিনই উপভোগ করা যায়। বঙ্গোপসাগরের কোলে উত্তর ও পশ্চিমে মেঘনার শাখা নদী, আর দক্ষিণ এবং পূর্বে সৈকত ও সমুদ্র বালুচরবেষ্টিত ছোট্ট সবুজ ভূখণ্ড নিঝুম দ্বীপ—এখন পর্যটকদের জন্য এক আকর্ষণীয় স্থান। নোয়াখালীর দক্ষিণে মূল হাতিয়া পেরিয়ে এ দ্বীপে পৌঁছাতে পাড়ি দিতে হয় প্রমত্তা মেঘনা। শীতে নদী শান্ত থাকে বলে প্রকৃতিকে ভিন্ন স্বাদে উপভোগ করতে ভ্রমণপিয়াসীরা ছুটে যায় নিঝুম দ্বীপে। সকাল বিকালে নকশিকাঁথার মাঠে বসে দলবেঁধে হরিণের ছুটে চলা এবং জোয়ারের সময় খালের পাড়ে জলপানের দৃশ্য উপভোগ করতে হলে নিঝুম দ্বীপ ছাড়া আর কোথায়ইবা যাবেন। ৪০ হাজারের বেশি হরিণের ছুটোছুটিতে এ দ্বীপের অরণ্য যেন সব সময়ই জেগে থাকে। জানা যায়, আইলার আঘাতে অনেক হরিণ মারা গেছে। আর বন্য কুকুর তো সব সময়ই হরিণ হত্যা করে চলেছে। তবুও হরিণের দলবেঁধে চলা দেখলে কেউ ধারণাই করতে পারবেন না মরে গেছে এ বনের অনেক হরিণ। তবে আইলা যে নিঝুম দ্বীপের একমাত্র সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে তা সবারই চোখে পড়বে। কিন্তু যারা বনবাদাড় মাড়িয়ে পায়ে হেঁটে সৈকত আর সমুদ্র বালুচর দেখতে আগ্রহী তাদের জন্য আরও আকর্ষণীয় এখন নিঝুম দ্বীপ। শীতের সময় শরীরকে একবার চাঙ্গা করে নিতে হলে এখন ঘুরে আসতেই হয় বঙ্গোপসাগরের চোখসদৃশ এ দ্বীপে। তবে যাওয়ার আগে জেনে নেয়া উচিত কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন। নিঝুম দ্বীপে যেতে হলে হাতিয়ায় সরাসরি যাওয়া যায় লঞ্চযোগে। ঢাকা এবং চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি হাতিয়ায় লঞ্চ রয়েছে। এগুলো পৌঁছে সাধারণত সকাল বেলা। বিশ্রাম করে দুপুরের পর জাহাজমারা হয়ে নদী পেরিয়ে নিঝুম দ্বীপ পৌঁছাতে সময় লাগে দেড়ঘণ্টা। মোক্তারিয়া ঘাটের অপরপাড়ে নিঝুম দ্বীপের যে ঘাট, তার ডানপাশেই নকশিকাঁথার মাঠ। এ মাঠে বসেই হরিণ দেখা যায়। বন্দরটিলায় রয়েছে পর্যটন কমপ্লেক্স। আগে বুকিং দিয়ে গেলে নিঝুম দ্বীপে রাত কাটানো নিরাপদ। অন্যথায় থাকার জায়গা নিয়ে বিপাকে পড়তে হতে পারে। তবে পর্যটন কমপ্লেক্সটি কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়। এটা জেলা পরিষদ নির্মিত সাইক্লোন শেল্টার। লিজ নিয়ে এটি পরিচালনা করছে একটি বেসরকারি কোম্পানি। সকালে রিকশা অথবা পায়ে হেঁটে যাওয়া যায় নামারবাজারে। সেখানে একই সঙ্গে দেখা যায় সৈকত সূর্যাস্ত এবং বিস্তীর্ণ বালুচর। নামারবাজার অবকাশ কেন্দ্রে আপনি রাত কাটাতে পারেন। আর ফিরতে চাইলে সন্ধ্যার এক ঘণ্টা আগেই আবার বন্দরটিলায় ফিরতে হবে। না হয় বনের মেঠোপথে রাত হয়ে যাবে। পায়ে হাঁটলে প্রায় ৫ কিলোমিটারের এ পথ। বন্দরটিলার দক্ষিণে পূর্বদিকে যতদূর হাঁটা যায় বালুচরে। মনে হবে দূরদূরান্ত পর্যন্ত সব বালুচর। সমুদ্রের দেখা নেই। নৌকা নিয়ে বেড়ানো যায় নিঝুম দ্বীপের কোলঘেঁষে। হাতিয়া থেকে সড়কপথে নোয়াখালী হয়ে বাস বা ট্রেনযোগে ফেরা যায়। নিঝুম দ্বীপে সড়কপথে গেলে প্রথমদিন নোয়াখালী পৌঁছে রাত কাটালে ভালো। নোয়াখালী শহরে নানা গেস্ট হাউস এবং হোটেল ছাড়াও রয়েছে ‘নাইস’-এর মতো অভিজাত মোটেলও। এখান থেকে সড়কপথে হাতিয়া চেয়ারম্যানঘাট হয়ে সি-ট্রাকে হাতিয়া অথবা স্পিডবোট নিয়ে সরাসরি যাওয়া যায় নিঝুম দ্বীপ। তবে প্রকৃতির অপরূপ আর রহস্যঘেরা দ্বীপটিকে উপভোগ করতে হলে হাতিয়া হয়ে যাতায়াত করা নির্ঝঞ্ঝাট বলে অভিজ্ঞরা জানালেন।
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৩৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫



ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে। এই স্থানটি খুবই নিরিবিলি। দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা খুবই খারাপ। এমন ফাকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×