
হঠাত করে পরশুদিন খেলার মাঠেই সিদ্ধান্ত!!আমি বাগেরহাট এসেছিলাম শীতের ছুটি কাটাতে,ব্যাডমিন্টন খেলার মাঠে কে জানি হঠাত বলল “চল,সুন্দরবন ঘুরে আসি”।আমি বললাম “অনেক সময় লাগবে তো

”,ও বলল, “নাহ,দিনে যাব দিনে আসব

” –ও করমজল যাওয়ার প্রস্তাব দিল,আমি সঙ্গে সঙ্গে এক রকম রাজি ই হয়ে গেলাম-দক্ষিনাঞ্চলে জন্ম অথচ কখন সুন্দরবন যাইনি,খুবি লজ্জার কথা

!!!!প্লান হল পরদিন সকাল ৭টায় সবাই এক হব,তারপর রওনা দিব[যেহেতু বাসায় না বলে যাব সবাই,তাই চিন্তা ছিল যত তারাতারি সম্ভব গিয়ে আবার ফিরে আসতে হবে…


হেহেহেহ!] মোটামোটি একটা প্লান করে বাসায় ফিরলাম-রাতে একদম ঘুম ই হলনা

!!
সকালে উঠলাম ৫টায়,উঠে চা খেয়ে রেডি হলাম!!!প্রথমে ঘড়ি খেয়াল করিনি,পরে দেখলাম “হায় হায়!!কেবল দেখি ৬ টা বাজে

”-তারপর বসে টিভি দেখলাম কতক্ষন!!৭ টা ১৫ এ এক এক করে সবাই কে ফোন করতে থাকলাম!!দেখি কেউ ঘুম থেকেই উঠেনি!!সবাই কে ফোন করে উঠালাম

!!সব কুড়ের বাদশা


! শেষমেষ ৯টায় রওনা দিলাম!!!বাসে করে গেলাম কাটাখালি-খুব মজা করতে করতে ছয় জন গেলাম

! সেখানে গিয়ে নাসতা করলাম,সেখানে আরেক কান্ড!!যাই হোক-বাসায় বলেছিলাম ‘চন্দ্রমহল’ দেখতে যাচ্ছি


!!ভয়ে ভয়ে ছিলাম কেউ দেখে ফেলে কিনা

!!সেখান থেকে বাস এ করে গেলাম মংলা-চিপা সিটে কষ্ট করে মোটামোটি ছয় জন বসলাম কোনরকম

!গান শুনতে শুনতে আর গান গাইতে গাইতে পৌছে গেলাম প্রায় দেড় ঘন্টা পর!!আমাদের ‘লেবু’

এখানে আগে ৫-৬ বার এসেছে,আর বাকি সবাই ই প্রথম!! লেবু ই সব এরেঞ্জমেন্ট করল!!! ওখান থেকে ট্রলার এ পার হলাম পশুর নদী!! মংলা ঘাটের এক নং জেটি তে বাধা ছিল আমাদের ভাড়া করা বোট টি।সেখানে গিয়ে বেশ কিছুক্ষন অপেক্ষা করলাম ,লেবু গিয়ে কিছু খাবার-দাবার কিনে আনল!!বোট টা অনেক সুন্দর ছিলো

। ছাদে সামিয়ানা টাঙ্গানো,সোফা সেট করা! [বোট টার ভাড়া ছিল ৪০০ কিন্তু বোটওয়ালা বিটলামি করে পরে ৪৫০ আদায় করেছে

]-মোটামোটি ১২ টার দিকে রউনা দিলাম। বোটে বসে সিঙ্গাড়া,চিপস,চানাচুর,কেক্কুক সব খাওয়া দাওয়া হল,একি সাথে চলল ছবি তোলার মহতসব!! কেউই ভুল ক্রমে ডিজিটাল ক্যামেরা নেয়নি

,কিন্তু তাতে কি,মোবাইল আছে না-দে দানা দান ছবি তুললাম

!! ঘাটে নেমে ১০ টাকা দিয়ে টিকেট কেটে ঢূকতে হল ‘বিশ্বের সর্ব বৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট’ দেখার জন্য! যাই হোক ,টিকেট কেটেই দৌড়



!! ওখানে হাটার জন্য আলাদা পথ করে দেয়া আছে,কিন্তু সে পথের পরোয়া কে করে???সবাই নিচে নেমে বনের ভিতরে হাটতে থাকলাম,গাছ ধরে ঝুলে ছবি তুলতে লাগলাম-বানর গুলোও অবাক চোখে দেখতে লাগল


!! সবাই যদ্দুর সাধারনত যায় তদ্দুর তো গেলাম ই,এরপর লেবুর নেতৃত্বে গেলাম বনের [সংরক্ষিত অঞ্চলে]মধ্যভাগে!!সারা বনে [এমনিতেই ঐদিন লোক অনেক কম ছিল]আমরা ছয় টা মানুষ!! যদিও সংরক্ষিত এলাকা,বাঘ অন্তত আসবেনা,তবুও পাগলামি হলেও সত্যি ‘বাঘ এর মুখোমুখি’ হয়ার ইচ্ছে ছিল




!!৩ ঘন্টা ধরে মাটি-কাদা পেড়িয়ে অপর পাশ থেকে উঠলাম-যারা কেডস পড়ে গেছিলাম তাদের তো ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা!লেবু স্যান্ডেল পড়ে গিয়েছিল,তাই সব থেকে কম্ফোর্টেবল ছিল!বনে গিয়ে যেন সত্যিই বন্য হয়ে গিয়েছিলাম

!ইচ্ছেমত চিল্লাপাল্লা শুরু করলাম সবাই- যাদের মনে মেটাল সিঙ্গার হওয়ার সুপ্ত ইচ্ছে ছিল,তারা সুযোগ পেয়ে তা পরখ করে নিল!!!!!বনের গাছপালা গুলকে খুব মনো্যোগের সাথে পর্যবেক্ষন করতে থাকলাম।

হরিনের পা এর ছাপ গুলো দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।মুহুর্মুহু ছবি তোলা হল,হল ভিডিও করাও!৩ ঘন্টা পর চিড়িয়াখান দেখতে গেলাম-কিছু নাই সেখানে-আছে কয়েকটা বানর,কুমির আর হরিন! আমি তো বাঘ দেখতে চাচ্ছিলাম

,
দি রয়েল বেংগল টাইগার!নাহ তাকে আর দেখা হল না ….
কেমন লাগবে আপনার যদি কোন বাড়িতে বেরাতে যান অথচ সেই বাড়ির কর্তা আপনার সাথে দেখা না করে!!!প্রায় ৪টায় বোটে ফিরলাম!!! এবার ইচ্ছে করেই হয়ত,বোট ওয়ালা বিখ্যাত
বানিয়াশান্তা’র পাড় ঘেষে চালাএ লাগল! লেবু সহ দুএক জন তো ওখানকার বাসিন্দা(!) দের সাথে বিভিন্ন ‘আঙ্গুল ভিত্তিক সংকেত’ দেখাতে লাগল

,ওরাও পাড় থেকে সমানে গালি দিতে লাগল,আর আঙ্গুল দিয়ে বিভিন্ন সংকেত দেখাতে লাগল


-আমি বেশ কয়েকটি ছবি তুললাম[লেবুর বাপ কে দেখাব….হাহাহ


] বোট ধেয়ে চলল!!৫টার দিকে ওপার পোছেই ভাত খেলাম,যা ক্ষুধা লেগেছিল,উফ!!! এরপর উঠলাম বাসে,ঠিক বাসে নয়,বাসের ছাদে

!!আমার স্বপ্ন ছিল বাসের ছাদে উঠে যাওয়ার,লেবুর কল্যানে তা পুরন হল!!!!!ছাদের দুলুনি,চরম ঠান্ডা,নেভি ক্যাম্পের সামনে মাথা নিচু করে রাখা সহ প্রত্যেক টা ক্ষন ছিল এক এক টী এডভেঞ্চারের সমান!!!!আসার সময় আমরা পাচ জন ছিলাম,একজনের মামাবাড়ি মংলা-সে সেখানেই নেমে গিয়েছিল!কাঠাখালি এসে অবশ্য আমরা বাসের ভিতরে এসে বসলাম-কারন অসম্ভব ঠান্ডা লাগছিল। এরপর প্রায় ৭টার দিকে বাগেরহাট এসে নামলাম-শেষ হল একটা জট্টিল এডভেঞ্চার আমার জীবনের


!!!!বাসায় এসে আম্মু তো চন্দ্রমহলের গল্প জিজ্ঞাসা করল!এবার পরলাম ফান্দে,আর আপনারা তো জানেন ই
ফান্দে পরে ঘুঘু কান্দে!

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৩৩