somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছেলে এবং মেয়েদের মস্তিষ্কের গঠনগত পার্থক্য

২২ শে জুন, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানুষের মস্তিষ্কের গঠন কমবেশি একই, প্রায় ৪০ ভাগ গ্রে ম্যাটার আর ৮০ ভাগ হোয়াইট ম্যাটার। কিন্তু তারপরও ছেলেদের সাথে মেয়েদের মস্তিষ্কের কিছু গঠনগত পার্থক্য রয়েছে যার কারণে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা কথা বেশি বলে আবার মানচিত্র ছেলেরা ভালো ও দ্রুত বুঝতে পারে। কিন্তু কেন এমন হয়? বিভিন্ন গবেষণার মাধ্যমে এর উত্তর পাওয়া গিয়েছে।
ইন্টেলিজেন্স টেস্ট এর মাধ্যমে দেখা যায় ছেলেরা মেয়েদের তুলনায় ৭ গুণ গ্রে ম্যাটার ব্যবহার করে আবার মেয়েরা ৯ গুণ বেশি হোয়াইট ম্যাটার ব্যবহার করে। গ্রে ম্যাটার এর অন্যতম কাজ হল লজিক্যাল বিষয় যেমন অবস্থান সম্পর্কে ধারণা, মানচিত্র পঠন, গণিত, ও প্রব্লেম-সলভিং জাতীয় কাজগুলো করা। অন্যদিকে হোয়াইট ম্যাটার মস্তিষ্কের প্রসেসিং সেন্টারগুলোকে যুক্ত করে, যা ভাষাগত দক্ষতা, ইমোশনাল চিন্তা ও একসাথে অনেক কাজ করতে ভূমিকা পালন করে।
যেহেতু মেয়েদের হোয়াইট ম্যাটার বেশি ব্যবহৃত হয়, তাই তারা ভাষাগত যোগাযোগে বেশি পারদর্শি। প্রকৃতপক্ষে, ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের মস্তিষ্কের অনেক বেশি অংশ এই যোগাযোগের কাজে ব্যবহৃত হয় ফলে তারা ভাষাকে সামাজিক বন্ধন গঠনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারে অধিক পারদর্শি, আর ছেলেরা ভাষা ব্যবহার করে তথ্য আদানপ্রদান ও সমস্যা সমাধানের মাধ্যম হিসেবে। গড়ে, একজন মহিলা দিনে ৭০০০ শব্দ আর পুরুষ দিনে ২০০০ শব্দ ব্যবহার করে।
ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের মস্তিষ্কের দুটি অংশের (হেমিস্ফেয়ার) মধ্যে যোগাযোগ আরও বেশি কার্য্যকর, তাই ছেলেরা যখন একসময়ে একটি কাজেই মনোনিবেশ করে, তখন মেয়েরা একাধিক কাজ (multi-tasking) করতে পারে। ধারণা করা হয়, এই অধিক কার্য্যকরী যোগাযোগের জন্যই মেয়েদের স্বভাবসুলভ বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়।
এই পার্থক্যগুলো প্রাগৈতিহাসিক সময় থেকেই ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে। যখন পুরুষেরা শিকারের খোঁজে বের হত এবং তাদের শিকারের অবস্থান নির্ণয় ও সমস্যা সমাধানে মস্তিষ্ক বেশি ব্যবহৃত হত, আর নিজেদের ঘরবাড়ি ও সন্তানদের নিরাপত্তা ও বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে মহিলাদের ভাষাগত দক্ষতা অর্জন করতে হয়েছিলো।
এক্ষেত্রে এখনও অনেক গবেষণার সুযোগ রয়েছে। আশা করা যায় ভবিষ্যতে আরও নতুন তথ্য আমাদের সামনে উঠে আসবে.

নতুন তথ্যের জন্য যোগ দিন,
The Curious Minds
a medical science based group from Khulna Medical College
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভালো শিক্ষার্থী কখনো পরীক্ষা পেছাতে চায় না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:২৯

কারণ একজন প্রস্তুত শিক্ষার্থী জানে, পরীক্ষা যত দ্রুত শেষ হবে, সে তত দ্রুত জীবনের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবে। অনিশ্চয়তা, বারবার সময়সূচি পরিবর্তন কিংবা দীর্ঘ অপেক্ষা—এসব কারও জন্যই কল্যাণকর নয়।

বৃষ্টি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারত কোন ভাবেই স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশে সৈন্য পাঠায়নি!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৬


ভারত কোন ভাবেই বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য সৈন্য পাঠায়নি! সৈন্য পাঠিয়েছিল পাকিস্তানকে বিভক্ত করতে ও তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানকে লুটপাট করার উদ্দেশ্যে। প্রতিবেশি দূর্বল হলে দাদাগিরি করতে পারবে এটাই ছিল ইন্দ্রিরাগান্ধির ভিষন... ...বাকিটুকু পড়ুন

উপপোকায় খাওয়াচ্ছ

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮


তোমার ফসলী মাঠের ফসল.
কেন উইপোকায় খাওয়াচ্ছ
কিছুদিন পর করবেটা কি
পাগল পাগল হবেই. শুনি!
পড়ালেখা করে একদিন বড় হবে
এটাই তো স্বপ্ন দেখি ওগো সোনাধন
তোমার সুনাম ভরে যাবে পাড়ায় পাড়ায়
গর্বে ভরে ওঠবে বাবা মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত- এই বিশ্বাসকে নিজের সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে রেখেছি সারাজীবন। কতবার ব্যক্তিগত ইচ্ছা, সুযোগ, এমনকি ন্যায্য অভিমানও গিলে ফেলেছি। কতবার চুপ থেকেছি, শুধু এই বিশ্বাসে যে ব্যক্তির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকাল বিবাহযোগ্য নারী-পুরুষ যে কারণে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে ভয় পায়

লিখেছেন এমএলজি, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৪

বছর দশেক আগের কথা। আমি তখন কানাডায় ব্যবসারত অস্ট্রেলিয়ান এক ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে সিনিয়র স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করি। আমার এক সহকর্মী ছিলেন যার বয়স কমবেশি ৪৫ বছর। বেশ ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×