somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধাক্কার পর ধাক্কা এবং অতঃপর সামলানো

৩১ শে জুলাই, ২০১০ রাত ১২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

2nd year এর শেষ থেকে আমার so called friend দের সাথে সম্পর্ক খারাপ হওয়া শুরু করে । আমাদের দু’জনের সাথে ওদের ব্যবহার কেমন যেন change হয়ে যায় ।রীতিমত avoid করা শুরু করে আমাদের দু’জনকে । কয়েকটা নমুনা পেশ করি । নোটপত্র কেউ পেলে আমরা সবাইকে জানাতাম । তা ওরা বন্ধ করে দেয় । প্র্যাকটিক্যাল এর সময় ল্যাবে ভাল pc দখল করতে হত আগে গিয়ে । যেই আগে যাক, সবার জন্য জায়গা রাখতাম । তেমনই একদিন ওদের বলেছিলাম আমাদের জন্য জায়গা রাখতে । গিয়ে দেখি রাখেনি । বলল, জায়গা পায়নি । অথচ প্রায় পুরা ল্যাব ই সে মুহূর্তে ফাঁকা ছিল । এমন অনেক ঘটনা বলে শেষ করা যাবে না ।

এখন ওদের কোন দোষ দেইনা । কারন আমারই ওদের চিনতে ভুল হয়েছে । তাছাড়া “কুকুরের কাজ কুকুর করেছে কামড় দিয়েছে পায়,তাই বলে কুকুরকে কামড়ানো মানুষের শোভা পায়?” ।তবে এই সব কুত্তা-কুত্তির কামড় নীরবে সহ্য করার মত পাবলিক আমি না । at least, একটা লাত্থি তো মারা উচিত । সে আমি মারি বা অন্য কেউ, তা তারা খাবেই । সময়টা বেশ খারাপ যাচ্ছিল । ওদের কারনে আমাদের নিজেদের মধ্যেও খালি ঝগড়া হত । মাঝে মাঝে মনে হত, আমার চেয়ে ওর কাছে তারাই বেশি important. যদিও আমি জানি যে তা নয় । এরপর একদিন আসে full stop মারার সময় । সেদিন ৮:৩০ এ ক্লাস হওয়ার কথা ছিল । ক্লাস cancel হয়ে গিয়েছিল । ক্লাসের CR ওদের জানায়, কিন্তু ওরা আমাদের জানায়নি । আমি সবসময় missed call পেলে call back করি । খা**গুলা মিস কল ও দেয়নি । সেদিন ওদের বলে দিলাম আর কখনো কোন ব্যাপারে আমাদের জানানো দরকার নেই । এই ছিল ওদের সাথে last কথা ।

কিছু friend কমার পরও একজনের সাথে তখনও ভাল সম্পর্ক ছিল । আর এটাই ছিল অনেক বড় একটা ভুল । মানুষ তার ফ্রেন্ডের কাছে just একটা জিনিসই চায় । আর তা হল, moral support . আর যে ফ্রেন্ড তাও দিতে পারে না তাদের আমার দরকার নেই । যে ফ্রেন্ডের বিপদের সময় সাহায্য করতে না পারুক at least পাশে এসেও দাড়াতে পারবে না , just f**k him out of my life, & I did so.মন খারাপ হয়েছিল অনেক, কিন্তু সমস্যা হয়নি । কারন আমাকে সামলানোর মত একজন তখন আমার কাছে ছিল, আর সারাজীবন থাকবেও ।

সমস্যা এখানেই শেষ না । একটা সময় আমাদের ক্লাসের বেশ কয়েকজন পিছে লেগে থাকে আমাদের । আমাদের একসাথে ভাল থাকতে দেখে সহ্য করতে পারত না বলে । তাও কিছু বলি না আমি । কারন মূলত ৩ টা ।

১. আমি একা নই । আমি বিপদে পড়লে সাথে আরেকজনও পড়বে
২. আমি একটু শান্তিপ্রিয় প্রাণী আমি
৩. আমার কলেজের অতি প্রিয় বন্ধু শিমনের মতে “Revenge is a meal best served cold”. কথাটা মাথায় ঢুকে গিয়েছিল ।

দাঁতে দাঁত চেপে এই ভার্সিটি লাইফটা শেষ করতে হবে । কারন আমি বিশ্বাস করি, আমার যদি কোন দোষ না থাকে কেউ আমার ক্ষতি করে পার পাবে না । আল্লাহই এর বিচার করবে । পরে অবশ্য এক নির্লজ্জ মাফ চেয়েছিল । মাফ করার প্রশ্নই ওঠে না । কারন আমি অত্যন্ত প্রতিশোধপরায়ন মানুষ , উপরের ৩ নং পয়েন্ট ।

এর পর থেকে আমরা দু’জন শুধু থাকতাম, সাথে আর কেউ থাকত না । & frankly speaking, আগের চেয়ে অনেক ভাল সময় কাটাতাম আমরা । আর একসাথে আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় পেতাম । যার কারনে ওই সব ক্ষতিকারক প্রাণীদের প্রভাব থেকে বেঁচে গেলাম । আমরা , বিশেষ করে আমার ইয়ে, ভালমত বুঝতে পারলাম, ওদের সাথে থাকলে খারাপ ছাড়া ভাল কখনই হত না ।

হ্যা । এমন না যে জীবনে ফ্রেন্ডের কোন দরকার নেই । অবশ্যই আছে । কিন্তু ভার্সিটিতে আমি যেসব ফ্রেন্ড পেয়েছি, সেরকম ফ্রেন্ড পেলে সারাজীবন শত্রুর দরকার হবে না । ওরা আমার যত ভাল ফ্রেন্ড ছিল, তত ভাল ফ্রেন্ড মীর জাফরও কখনো সিরাজউদ্দৌলার হতে পারেনি । আর আমি আমার কলেজ লাইফে যে কয়েকজন খচ্চর টাইপের ফ্রেন্ড পেয়েছি তা দিয়েই আমার সারাজীবন চলবে । শিমন, সাব্বির, উপল, এরা থাকলে আর লাগে কি :D? আর আমার ইয়ে তো আছেই সবসময় ।

আমি আমার জীবনের দ্বিতীয় বড় ভুলটা করি এই ফ্রেন্ড নির্বাচন এর ক্ষেত্রে । একজন যদি আরেকজনকে ভাল থাকতে দেখতেই না পারে , সব ব্যাপারে interfere করে, jealousy ফিল করে, তাহলে আর কিসের বা** ফ্রেন্ডশিপ । আর ফ্রেন্ড যদি এমন হয় তাহলে এরচেয়ে শত্রু থাকা safe । এইসব আবর্জনা টাইপের ফ্রেন্ডদের f**k off করে আমরা টোনা-টুনি বেশ আনন্দের সাথেই 3rd year এর বাকি সময়টা কাটিয়েছি ।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×