হামাস- হরকাতুল মুকাওয়ামা আল ইসলামিয়া (ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন) সংক্ষেপ। হামাস জিতেছিল ২০০৫ সালে ফিলিস্তিনের জাতীয় নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্টতা নিয়ে। এবার জিতলো যুদ্ধে। আজ ২৩ দিন ধরে যুদ্ধ চলছে হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে। অসম যুদ্ধের এক নজীর বিহীন দৃষ্টান্ত। ইসলাইল যুদ্ধে জয়ী হবে তা সকলেই বুঝে নিয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধে পরাজিত হল ইসরাইল। কিভাবে, দেখুন :
এক. হামাস কোন জঙ্গী দল নয়। তারা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ফিলিস্তিনীদের বৈধ প্রতিনিধি। কিন্তু আমেরিকার চাপে প্রেসিডেন্ট মাহমূদ তাদের সরকারকে অপসারিত করেছে। আগামী নির্বাচনেও হামাস অংশ নেবে। এজন্য তাদের দরকার ব্যাপক জনসমর্থন। এটা তারা অর্জন করেছে।
দুই. আন্তর্জাতিকভাবে তারা আরব ও মুসলিম বিশ্বের সমর্থন ও সহযোগিতা, সহানুভূতি ও স্বীকৃতি লাভ করেছে।
তিন. ইসরাইলের লক্ষ্য ছিল হামাসের রকেট হামলা বন্ধ করা। তারা তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। গতকালও ইসরাইলে রকেট হামলা হয়েছে।
চার. ইসরাইল চেয়েছে হামাস-কে ধ্বংস করতে। কিন্তু হামাস আরো শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
পাচ. কুটনৈতিক দিক দিয়ে ইসরাইল পিছিয়ে পড়েছে। ভেনিজুয়েলা, ইকুয়েডর, মৌরিতানিয়া, কাতার ইসলাইলের সাথে সম্পর্ক স্থগিত করেছে।
ছয়. বিভিন্ন মুসলিম দেশে ইসরাইল ও আমেরিকার দালালেরা ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করার যে ওকালতি শুরু করেছিল এ যুদ্ধের কারণে তাদের কাজের অগ্রগতি ব্যহত হয়েছে। তারা পিছিয়ে পড়ছে।
সাত. বিশ্বের শান্তিকামী, যুদ্ধবিরোধী মানুষ আরেকবার ইসরাইলী বর্বরতা দেখল ও তাদের ঘৃণা জানাল।
আট. সকলেই বলেছেন, এ যুদ্ধে ইসরাইলের নৈতিক পরাজয় ঘটেছে। অনেকে বলেছেন, রাজনৈতিক পরাজয় ঘটেছে। আসলে যে জন্য যুদ্ধ করা হয়, তা না পাওয়াটাই হল পরাজয়।
মনে রাখতে হবে বর্বর ইসরাইল শুধু তখনই যুদ্ধ বিরতিতে যেতে রাজী হয়, যখন সে পরাজয় ছাড়া সামনে আর কিছু দেখতে পায় না।
কে কত মানুষ মারতে পারল, কে কত বাড়ীঘর গুড়িয়ে দিতে পারল তা দেখে যুদ্ধে জয়-পরাজয় নির্ণয় করা হয় না। যুদ্ধে কোন পক্ষ তাদের টার্গেট অর্জন করল সেটাই মুখ্য বিষয়। এটা আল-কুরআনেও বলা আছে। দেখুন -
আল্লাহ অবিশ্বাসীদের তাদের আক্রোশসহ ফিরিয়ে দিলেন, তারা ভাল কিছু লাভ করতে পারেনি। যুদ্ধে বিশ্বাসীদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। আল্লাহ প্রবল শক্তিমান, পরাক্রমশালী।
সূরা নং ৩৩, আয়াত নং ২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





