somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার প্রেমের গল্পসমূহ (গল্প নং-২)

২৬ শে জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জন্মদিনের উপহার

সে দিন আমার জন্মদিন ছিল না । কিন্তু ওকে দেখার জন্য মিথ্যে বলেছিলাম। সে বিকেলের দিকেই আমার বাসায় এলো। এসেই বিস্মিত হলো...
-আর বাকীরা কই?
-বাকীরা মানে?
-তোমার বন্ধু বান্ধব কেউ আসবে না?
-না!
-কেন?
-কারণ আজ আমার জন্মদিন নয়! তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছিল...
-এই কথা! তা এমনি বললেই হত। আমি চলে আসতাম। আমি কত কষ্ট করে নিউমার্কেট থেকে তোমার জন্য গিফ্ট কিনলাম...
-কিছু মনে কোর না। আমি ভেবেছি এমনি বললে তুমি আসবে না...
-তোমার জন্মদিন তাহলে কবে?
-১৩ ই জুন
- আরও সাত মাস? সাত মাস আগে জন্মদিনের কথা বললে?
-ভালই ত’ হল। সবাই জন্মদিনে একটি উপহার পায়। আমি পেলাম দুটি... তাও আবার জন্মদিন না হয়েও!
- দুটি মানে?
- একটি তোমার হাতে আর একটি তো তুমি...
- কোন বদমতলব আছে না কী? অবশ্য তোমার যা বীরত্ব! তোমারে দেখলে ফড়িং ও পালায় না...হা হা হা
- তুমি আমাকে আমার চেয়ে বেশী জান! তুমি খুবই বুদ্ধিমতী...
- হয়েছে থাক আর তেলাতে হবে না.... সিরিয়াস কোন বিষয়ে কথা বলবে নিশ্চয়ই...
- গিফটের প্যাকেটটা আগে খুলে দেখি?
- না না ওটা এখন খুলবে না!... প্রতিজ্ঞা কর যে আসল জন্মদিনের আগে উপহারটা খুলবে না। জন্মদিনের উপহার আসল জন্মদিনেই দেখবে...
-তার মানে আরো সাতমাস পরে?
-জ্বি হাঁ...এবার কথা দাও...
-ঠিক আছে কথা দিলাম জন্মদিনের উপহার আসল জন্মদিনেই দেখব। এই যে গিফ্ট ওয়ার্ড্রবে সযতনে রেখে দিলাম।
-আমি চলে গেলে আবার গিফ্ট খুলে দেখবে না তো? তাহলে কিন্তু সারপ্রাইজ নষ্ট হয়ে যাবে!
- সারপ্রাইজ! তাহলে তো দেখার প্রশ্নই আসে না! আসল জন্মদিনে প্রথমেই তোমার উপহার খুলব!
- শুনে খুশী হলাম...
এরপর আমরা অনেক বিষয়ে কথা বললাম। ক’দিনেরই বা আমাদের সম্পর্ক... তবু মনে হয় যুগ যুগ ধরে দুজন দুজনকে চিনি...
সম্পর্র্কের শুরু থেকেই আমরা দুজন দুজনকে নানারকম সারপ্রাইজ দিতাম। আমি ওকে কোন সারপ্রাইজ দিলে ও অবশ্যই আমাকে পাল্টা সারপ্রাইজ দিত।

নকল জন্মদিনের ছয় মাস পরের একদিনের কথা...

সে আমাকে ফোন করে বলল যে আগামী মাসেই আমাদের বিয়ে।
আমি বললাম, ‘তোমার বাসা থেকে বলেছে?’
- আমিই বলে কয়ে রাজী করিয়েছি যে আগামী মাসে আমরা বিয়ে করব!
- আগামী মাস তো জুন মাস! কত তারিখ?
- কোন সমস্যা না হলে ১৩ই জুন!
- জন্মদিনে বিয়ে?
- হ্যাঁ কোন আপত্তি আছে?
- না...আচ্ছা তাহলে আমার জন্মদিনে কেন? তোমার জন্মদিনেও তো করতে পারতে...
- কারণ আছে মশাই...যথাসময়ে জানতে পারবেন!

এরপর মোটামুটি জাঁকজমকের মধ্যেই আমাদের বিয়ে হল। বাসর ঘরে ঢুকতেই সে বলল, ‘তোমার নকল জন্মদিনের উপহার টা কোথায় রেখেছ? আজ আসল জন্মদিনে তোমার না ঐটা দেখার কথা?’
আমি ওয়ার্ড্রব থেকে সযতনে র‌্যাপিং পেপারে মোড়ানো উপহারটি বের করলাম।
-আজও আমি দুটি উপহার পেলাম। তুমি ইচ্ছে করেই এমনটি করেছ তাই না?
সে লাজুক হাসি দিয়ে বলল ‘সারপ্রাইজ!’
আমি ধীরে ধীরে র‌্যাপিং মোড়ানো উপহারটি খুললাম-
‘এ কী! এ যে দেখছি নববধূর সাজে সজ্জিত তার অসাধারণ একটি ছবি!’
-তুমি না নিউমার্কেট থেকে গিফ্ট কিনেছিলে?
-হ্যাঁ! ছবিটি নিউমার্কেটে তোলা, আর্জেন্ট নোটিশে একঘন্টায় ডেলিভারি এবং সেখান থেকেই আর্জেন্ট নোটিশে বাঁধাই করে সেদিন এনেছিলাম! মনে মনে ঠিক করেছিলাম যে ভাবে হোক তোমাকে দিয়ে প্রতিজ্ঞা করাবো উপহারটি যাতে তুমি আজকের আগে না খোল!
-তাহলে তুমি আগেই জানতে আমার অরিজিনাল জন্মদিন কবে?
-এ আর কঠিন কী? তোমার সাথে সম্পর্র্ক হবার একমাস পরই তোমার বন্ধু জোসেফ ভাই এর কাছে থেকে জেনে নিয়েছিলাম তোমার জন্মদিন কবে! তোমাকে তোমার জন্মদিনে যে কোন একটা সারপ্রাইজ দেবো ভেবে উনাকেও মানা করেছি তোমাকে না বলতে...অবশ্য তখন বিয়ে করেই সারপ্রাইজ দেবো তা ভাবিনি। নকল জন্মদিনে তুমি যখন ফোন করে বললে যে সেদিন তোমার জন্মদিন তখনই নববধূরূপী ছবি মানে নকল বউ ও আসল জন্মদিনে বিয়ে মানে আসল বউ এর এই আইড়িয়াটি মাথায় আসে। আজকের এই বিয়ের মাধ্যমে সেই আইডিয়া বা সারপ্রাইজের সফল বাস্তবায়ন!
আমি কী বলব! আমি থ! নকল জন্মদিনের দুটি উপহার যার কোনটিই সেদিন দেখা হয়নি। আজ আসল জন্মদিনেও দুুটি উপহার! পরমূহুর্তেই আমার মনে হল উপহার আসলে কয়টি?
একটি না দুটি?
-ঃসমাপ্তঃ-
(সংশোধিত পুনঃলিখন)
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×