কবিঃ আচ্ছা গতকাল আপনি সাহিত্য সাময়িকীতে আমার কবিতার পাশে যে অলংকরণ করলেন তার মাথামুন্ডু কিছুই বুঝলাম না... কী এঁকেছেন ওটা?
অলংকরণ শিল্পীঃ সম্পাদক আমাকে বলেছিলেন আপনার কবিতার অর্থঅনুযায়ী অলংকরণ করতে... আমি তাই করেছি।
কবিঃ কিন্তু আপনি এঁকেছেন দুইটা লোক পাশাপাশি। এর মধ্যে একজনের মাথা আছে আর একজনের মাথা নেই! এদ্বারা কী বোঝায়? আমার কবিতার বক্তব্যের সাথে এর সম্পর্ক কী?
অলংকরণ শিল্পীঃ বিষয়টা খুব সহজ। আপনার কবিতার মাথা-মুন্ডু আমি কিছুই বুঝিনি। সেজন্যই দুটা লোক পাশাপাশি আঁকলাম তার মধ্যে একটার মাথা আছে আর একটার মুন্ডু নেই!
কবিঃ তাহলে শুনুন ঐ দুজনের মধ্যে আপনি হলেন মুন্ডু নাইওয়ালা আর আমি হলাম মাথাওয়ালাটা...
অলংকরণ শিল্পীঃ আমি এঁকেছি আমি জানি কোনটা কে? আপনি হলেন মুন্ডু নাই ওয়ালাটা...
কবিঃ মানে আপনি বলতে চাচ্ছেন আমার মাথা নেই?
অলংকরণ শিল্পীঃ বলতে চাচ্ছি না... বলেছি এবং এঁকেছি!
কবিঃ এজন্যই বলি আপনার যারা চিত্রকর্ম করেন- ‘চিত্রকর্ম’ যেটার সাথে ক্ষেীরকর্র্মের একটা ভাল যোগ আছে, তাদের মাথাও নাই মুন্ডুও নাই!
অলংকরণ শিল্পীঃ যুক্তি ছাড়া কথা বললে তো হবে না... যুক্তি দিয়ে বলেন।
কবিঃ যেমন ধরুন একজন মহিলার মাথা থুক্কু মুন্ডু আঁকলেন আর সারা মুখে দিয়ে দিলেন নীল রং! মহিলারা কী কখনো মুখে নীল রং মাখে?
অলংকরণ শিল্পীঃ হা হা হা হা ... পেইন্টিং বোঝার ক্ষমতাই আপনার নাই! ওটা হল বেদনায় নীল রং... আচ্ছা তাও যদি বাদ দিই... আপনারা কী করেন? কী লেখেন ছাইপাশ? ‘‘... সোনালী মাংস”... মাংস আবার সোনালী রং এর হয় কী করে? কোন দেশে হয়?
কবিঃ হা হা হা হা সোনালী মাংসও তোমার বোঝার ক্ষমতা নাই। ওটা রূপক...
অলংকরণ শিল্পীঃ কী আজব তামাশা! যাই লেখে তাই রূপক বলে চালিয়ে দেয়!
কবিঃ কী আজব তামাশা! যাই আঁকে তাই শিল্প বা কলা (!) বলে চালিয়ে দেয়!
অলংকরণ শিল্পীঃ সাধে কী আর পল ভ্যালেরী বলেছেন, কবিতার কোন শেষ নাই... ওটা পরিতাজ্য!
কবিঃ আর তোমাদের ওস্তাদ পাবলো পিকাসো কী বলছে? ছবি আঁকা আর ডায়রী লেখার মধ্যে কোন পার্থক্য নাই!
অলংকরণ শিল্পীঃ ইংরেজী বোঝেন? পাবলোর কথার ভাবার্থ কী তাই?
কবিঃ আর আপনি খুব বোঝেন তাই না? পল ভ্যালেরীর কথাটার অনুবাদ কী তাই?
অলংকরণ শিল্পীঃ আপনাদের মত কবির কবিতার জন্য ওটাই সই!
কবিঃ পাবলো পিকাসোর কথাটার অর্থটাও আপনার জন্য সই! শোনেন ডায়রি আমিও লিখি, সে অর্থে আমিও একজন চিত্রশিল্পী! কারণ আমি অনেক কাটাকুটি করি! সেগুলো দেখতে অনেকটা চিত্রকর্মের মতই...আপনার আঁকা চিত্রকর্মের চেয়ে ভালই দেখায় বলে আমার মনে হয়!
অলংকরণ শিল্পীঃ আপনি কিন্তু ভদ্রতার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছেন?
কবিঃ সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছি না... ছাড়িয়ে গেছি। কী করবি তুই?
অলংকরণ শিল্পীঃ তুই তোকারি শুরু করছেন কেন? অভদ্র কে?
কবিঃ তোর সাথে আবার ভদ্রতা!
অলংকরণ শিল্পীঃ এ্যাই খবরদার ... তুই আর আগে বাড়িস না! নইলে তোর মাথা কিন্তু চিবিয়ে খেয়ে ফেলব!
কবিঃ দেখি মাথা খেতে আয় তো! দেখি তোর ঘাড়ে কয়টা মুন্ডু...
(...শুরু হয়ে গেল মারামারি...শুরুতে এদের দুজনেরই মাথাও ছিল মুন্ডুও ছিল। কিন্তু মারামারির পর যে কোন একজন অথবা দুজনেরই মাথা-মুন্ডু হারানোর বেশ ভালো সম্ভাবনা আছে!)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



