somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কি বলব এটা--- কোইন্সিডেন্স নাকি মিরাকেল

২৬ শে অক্টোবর, ২০১১ সকাল ১০:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অফিস থেকে প্রায়ই আমার স্যার এর গাড়িতে বাসায় ফেরা হয়। আমাদের ম্যানেজার স্যার খুবই ভাল এবং হাসিখুশি মানুষ। তো ফেরার পথে আমরা বেশ মজার মজার কথা বলি, গল্প করি। সেদিন মানে ১১ অক্টোবর ২০১১ আনুমানিক সন্ধ্যা ৬ টার দিকে আমরা রওনা দিলাম।অনেক কথার মাঝখানে কোন কারন ছাড়াই আমি হঠাৎ আমার ছোটবেলার কাহীনি বলা শুরু করে দিলাম। কথাগুলো ছিল এইরকম "জানেন স্যার, আমার ছোটবেলাটা অনেক মজার ছিল। বাবার চাকরির সুবাদে আমরা চিটাগং এর অনেক জায়গায় অনেক ধরনের মানুষের সাথে থাকার এবং মেশার সুযোগ পেয়েছি।আমার একেবারে ছোটবেলা কেটেছে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের সাথে।খুব ভোর বেলা আমি ঘুম থেকে উঠেই মাকে বলতাম দরজা খুলে দিতে। এক দৌড়ে চলে যেতাম বুদ্ধ মন্দিরে। সেখানে পুরোহিতের জন্য যারা চা নাস্তা বানাতেন (তাদের বলা হত শীষ্য বা শ্রমন) আমি তাদের সাথে নাস্তা করতাম।চা এর অভ্যাস টা আমার তখন থেকেই। ওদের সবরকম ধর্মীয় অনুষ্ঠান আমি পালন করতাম ঠিক ওদের মত করে।মা বাবা আমাকে কখনই বাধাঁ দেননি। তো এইরকমই একটা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সন্ধ্যাবেলা আকাশে অনেক ফানুস ওড়ান হয়। আমরা ওড়াতাম সেই মন্দিরের মাঠে। দেখার মত দৃশ্য। খুবই চমৎকার এবং স্মরণীয়।আমার বয়স ছিল তখন ৩ কি ৪। ওখানে আমরা ছিলাম ২বছর। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল তাদের সাথে বিশেষ করে সেই শ্রমনের সাথে আমাদের এখনও যোগাযোগ আছে। " সে যাক। স্যার অনেক অবাক হয়ে আমার কথা শুনছিলেন। এবার গাড়ি থেকে নামার পালা। নামামাত্রই আমার মাথায় ঘুরছিল যে আমি এতসব কথা স্যার কে কেন বললাম। আমার ত এই কথাগুল সবসময় মনে পরেনা :-* .। যাইহোক ঠিক তার পরের দিন মানে ১২ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে স্যারের ফোন পেয়ে একটু অবাক হই। স্যার আমাকে প্রথম-আলো পত্রিকার ৩য় পেইজ টা দেখতে আর আমার প্রতিক্রিয়া জানাতে বললেন। আমি এবার পুরোদুস্তর কৌতুহলী হয়ে উঠলাম। পত্রিকার ৩য় পাতা খুলে দেখলাম অনেক ফানুসের ছবি যা রীতিমত আমাকে হতভম্ব করে দিল। গতকাল ছিল সেই দিনটি যে দিনে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীরা ফানুস উড়ায়। আমি আগের দিন যখন স্যার কে গল্প গুলো বলছিলাম সেটা ছিল ফানুস উড়ানর সঠিক সময়। আমি আসলে তখন ভেবে উঠতে পারছিলামনা এটাকে কি বলে? আমি বছরে ৩৬৫ দিনের ১ টা দিনই সেইদিনগুলর কথা মনে করলাম আর এভাবে মিলে গেল !!!! আমি সত্যি এই অনুভূতি ভাষায় ব্যক্ত করতে পারছিলামনা। আমি বোধহয় মনের অজান্তেই সেই দিনগুল খুব মিস করছিলাম। স্যার কে অনেক থাঙ্কস যে উনি দেখে আমাকে জানিয়েছিলেন। নতুবা এই বিষয় টা আমার অজানাই থাকত। :)
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×