somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার জীববৈচিত্র্য: X( :-* (উল্লুক পর্ব) :P

১৮ ই জুলাই, ২০১০ রাত ২:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশের ১০ প্রজাতির বানরের মধ্যে ৮টিই কোনো না কোনোভাবে হুমকির সম্মুখীন। এদের মধ্যে সবচেয়ে বিপন্ন উল্লুক। আকার, আকৃতি ও আচরণের কারণে সহজে দৃষ্টি কাড়ে গরিলা কিংবা শিম্পাঞ্জির মতো দেখতে লেজহীন এই উল্লুক। তবে আশঙ্কার বিষয়- উপযুক্ত আশ্রয় ও খাদ্যাভাবে বাংলাদেশে মহাবিপন্ন প্রজাতির তালিকায় থাকা উল্লুকের টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। গত দুই দশকে এর সংখ্যা তিন হাজার থেকে কমে নেমে এসেছে ৩০০-এ।

পরিবেশ অধিদপ্তর এর তথ্যমতে, বাংলাদেশে বিদ্যমান ১০ হাজার প্রজাতির উদ্ভিদ, প্রাণী ও অনুজীবের মধ্যে বেশিরভাগই হুমকির সম্মুখীন। দেশের প্রায় সোয়া ৯ শ' প্রজাতির বন্যপ্রাণীর মধ্যে দেড় শ' প্রজাতিই বিলুপ্তির পথে। স্তন্যপায়ী, পাখি, উভচর ও সরীসৃপ প্রজাতির এসব বন্যপ্রাণীর বেশিরভাগ এখন অতিবিপন্ন, বিপন্ন ও তিগ্রস্তের তালিকায়। এছাড়া প্রায় আড়াই শ' প্রজাতির বন্যপ্রাণীর সঠিক অবস্থান সম্পর্কে রয়েছে যথার্থ তথ্যপ্রমাণের অভাব।

অন্য সব বন্যপ্রাণীর মধ্যে উল্লুকের আকার, আকৃতি ও আচরণে বেশ উন্নত হওয়ায় সহজে মানুষের দৃষ্টি কাড়ে গোরিলা, শিম্পাঞ্জির মতো দেখতে লেজহীন এই উল্লুক। সোজা হয়ে দাঁড়ালে উচ্চতায় তিন ফুটের মতো হয় উল্লুক। লম্বা হাত আর পায়ের সাহায্যে এক ডাল থেকে আরেক ডালে এমনকি এক গাছ থেকে আরেক গাছে দ্রুত চলাফেরা করতে পারে এরা। উল্লুক জোড়া বেঁধে থাকে। কখনো সঙ্গে বাচ্চাকাচ্চাও থাকে। উল্লুক দিবাচর, রাতে গাছের উঁচু ডালে ঘুমায়। বিভিন্ন ধরনের ফল ও ডুমুর খায়, তবে কচিপাতা, ফুল, পোকামাকড়ও এদের অনেক প্রিয়। তবে পাখির বাচ্চা আর ডিমও খেতেও দেখা যায়।


সকালের দিকে হা-হু শব্দ করে দলগত অবস্থান জানান দেয় এরা। বাচ্চা দেয় দুই তিন বছর পরপর। শীত ঋতুতে। বাচ্চা উল্লুকের রঙ দুধের মতো সাদা। ছয় মাসের মধ্যেই রঙ বদলে হয়ে যায় কালো। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে (৬/৭ বছর) পুরুষ কালোই থেকে যায়। আর স্ত্রী উল্লুক হলুদাভ বর্ণ ধারণ করে।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলেই দীর্ঘদিন টিকে থাকার মতো যথেষ্ট সংখ্যায় উল্লুক নেই। এদের প্রায় সবগুলোই খণ্ড খণ্ড বনাঞ্চলে ছোট ছোট দলে বসবাস করছে।

সারাবিশ্বেই উল্লুক একটি বিপন্নপ্রায় প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশে এ প্রাণীটি এখন অতি বিপন্নের তালিকায়।

সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে দেশে উল্লুকের সঠিক সংখ্যা নিয়ে কোনো জরিপ না হলেও এদের সংখ্যা বর্তমানে দুইশ থেকে তিনশ' বলে দাবি করা হয়।

খাদ্য ও আশ্রয়ের জন্য উল্লুক সম্পূর্ণভাবে বৃরে উপর নিভশীল। উল্লুক যে বনভূমিতে বাস করে তার কোনো অংশ বৃহীন হয়ে পড়লেই এদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়।

বাংলাদেশেরর উত্তর-পূর্ব (বৃহত্তর সিলেট) ও দণি-পূর্ব (চট্টগ্রাম-পার্বত্য চট্টগ্রাম) এলাকার বন ছাড়াও ভারত (উত্তর-পূর্বাংশ), মিয়ানমার (পশ্চিমাংশ) এবং চীনে উল্লুক দেখা যায়।

উল্লুকউল্লুক দেখতে চাইলে যেতে হবে শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়া। বনটা বেশি বড় নয়। সে তুলনায় উল্লুকের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। আর একবার ডাকাডাকি শুরু করলে বনের যে প্রান্তেই থাকুন না কেন টের না পেয়ে উপায় নেই। একটা উল্লুক হু-হা হু-হা করে ডাক দিলে তার সঙ্গে যোগ দেয় আরো কয়েকটা। এদের ডাকই ধ্বনি-প্রতিধ্বনি তুলে গোটা বনে ছড়িয়ে পড়ে মনে হয় কয়েক শ উল্লুক জড়ো হয়েছে।
এছাড়া সিলেটের বড়লেখা, লাঠিটিলা, সাগরনাল, গাজীপুর টি স্টেট, চাউতলি, আদমপুর, হরিণছড়া, রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের দিঘিনালা, বাঘাইছড়ি (সাজেক, শিজক), পাবলাখালী অভয়ারণ্য, করেরখাট, হাজারিখিল অভয়ারণ্য, বাইশারি, ব্যাঙডোবা, কর্ণফুলী, রামপাহাড় (কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান), রামু, থানচি, সাতঘর, ফাসিয়াখালী, দোপাছড়ি, সাঙ্গু, আলিকদম, রাজঘাট, ভোমারিয়াঘোনা, হিমছড়ি জাতীয় উদ্যান, ইনানি, উখিয়া (থানখালি), টেকনাফ ও আপার রিজু এলাকায় উল্লুক দেখা যায়।



সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুলাই, ২০১০ রাত ২:৫৯
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×