somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসুন, আম-জনতার মাইনাস আন্দোলন এখনই শুরু করি

১৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৮:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি বাংলাদেশের অপেক্ষাকৃত শিক্ষিত অংশের সদস্য। কিন্তু আমিও তো ২৯শে ডিসেম্বর ২০০৮ সালে লম্বা লাইনে এক ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে নির্বোধের মত এমন একজনকে ভোট দিয়ে এসেছি, যিনি মন্ত্রী হতে না পেরে তাঁর এলাকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ভর্তির ব্যাপারে চাঁদাবাজি করছেন বলে খবরের কাগজেই বেরিয়েছে, এবং তিনি সেজন্য কোন মানহানির মামলা করছেন না।

গতকাল বিডিআর বিদ্রোহ প্রসঙ্গে দেয়া পোস্টের লিঙ্ক থেকে শেখ সেলিমের স্বীকারোক্তি শুনে (এটা আগে আমার শোনা হয় নি) অত্যন্ত অসহায় বোধ করছি। দেখা যাচ্ছে যে-সব দল নির্বাচনে দাঁড়ায় তারা সবাই শুধু ঘুষখোর আর চাঁদাবাজে ভর্তি নয়, এদের নেতৃত্বে আছে নিষ্ঠুরতম সন্ত্রাসী, যারা ক্ষমতা রাখতে বা দখল করতে শুধু শত্রুপক্ষ নয়, নিরীহ জনগণকেও চরম মূল্য দিতে বাধ্য করে।

এটাও এখন স্পষ্ট যে, দুবছরের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল একটা পাপেট সরকার। সুযোগ পেয়ে সেনাবাহিনীর বেশ কিছু অফিসার (উচ্চতম সহ) কর্তৃক দুই দলের টাকার গাছগুলোকে পাকড়াও করে, নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে অচিন্তনীয় গুপ্তধন নিজেদের কব্জায় আনাই ছিল তথাকথিত সংস্কার আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য। এই অর্কেস্ট্রায় ফেরদৌস কোরেশীরা সঙ্গত দিয়ে গেছেন, কিন্তু প্রত্যাশিত লাভ পান নি, কারণ টাকাওয়ালারা যেভাবে সভা ও মিছিলে বিপুল জনতা ভাড়া করে আনে, তেমনি এক্ষেত্রেও একইভাবে 'জনসমর্থন প্রমাণ' করেছেন দেশে বিদেশে। এতে শংকিত সেনাবাহিনীর চালকগণ চুক্তি মাফিক একটি দলের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে নিজেদের আহরিত লাভ নিয়েই কেটে পড়ার পরিকল্পনা করেছেন এবং আপাতদৃষ্টিতে সফলও হয়েছেন, প্রতিপক্ষ যতই চেঁচামেচি করুক না কেন।


কিন্তু আমরা কেন ক্ষমতা, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের এই খেলায় চিরদিন প্যাসিভ ভূমিকা রাখবো? আমরা সুস্থ একটা সুন্দর রাজনৈতিক পরিবেশের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলাম, সেটা এবার বাস্তবায়িত হয় নি বলেই ভুলে যাবো কি ? সামনের বারেও কি আমি লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আরেক তস্করকে ভোট দিয়ে আসব?

সেনা বাহিনীর কি প্রয়োজন? আমরা নিজেরাই তো এই সব ঘৃণিত মানুষকে সামাজিকভাবে প্রত্যাখ্যান করতে পারি। আমাদের আশে-পাশে যেসব সাদা মনের মানুষ আছে, তাদেরকে এখন থেকেই ২০১৪ সালের জন্য প্রস্তুত করতে পারি, এবং হুদা ও সঙ্গীদের তাড়িয়ে একটি সত্যিকার নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের জন্য আন্দোলন শুরু করতে পারি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আগেকার সরকার যে বদমায়েশী শুরু করেছিল, এ সরকারও যাতে অবসরগামী দলীয় প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত করে, বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি তুলে দিয়ে সেই পথে না এগোয়, সেজন্য এখন থেকেই জনমত তৈরী করার কাজ শুরু করে দিতে পারি।

ভালো মানুষদের চিহ্নিত করুন। এঁদের মধ্যে অধিকাংশই ক্ষমতায় যেতে চান না। অনুরোধ করুন, আহবান করুন, বাধ্য করুন।

শুধু মুখে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে ফেনা তুললেই হবে না, শুধু ভারতীয় আগ্রাসনের ভয় দেখিয়ে বক্তৃতা দিলেই দেশপ্রেম প্রমাণিত হয় না। আমরা এদের ভেতরটা দেখতে চাই।

আসুন, আমরা এবার নিজেরাই মাইনাস আন্দোলন শুরু করি। আসু্‌ন, সবার গোপন খবর বার করে রাস্তায় ন্যাংটো করে ছেড়ে দি। আরো চার বছর হাতে সময় আছে।

মাইনাস তালিকা এভাবে শুরু হতে পারে-

শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, নিজামী, এরশাদ, শেখ রেহানা, সজীব আহমেদ ওয়াজেদ, তারেক রহমান, আরাফত রহমান, মুজাহিদ, ফালু, মামুন, সাকা চৌধুরী, টুকু, নাসিম, তোফায়েল, মেনন, খন্দকার মোশাররফ, মওদুদ, শেখ সেলিম, নানক, মির্জা আজম, শেখ হেলাল, আব্দুল্লাহ, আমু, মায়া, বাবর, এহসান মিলন, নাজমুল হুদা, সুরঞ্জিত, দেলোয়ার, হান্নান শাহ, মান্নান ভুইয়াঁ, ফেরদৌস কোরেশী, কবরী, শামীম ওসমান, জয়নাল হাজারী, ভিপি জয়নাল...।

বহু দীর্ঘ হবে এই তালিকা। ভয় নেই, এদেশের জনসংখ্যা ১৫ কোটি। ২% লোকও যদি সৎ হয়, এবং তাদের মধ্যেও ২% মানুষ যদি এ কাজের জন্য যথেষ্ট শিক্ষিত ও দক্ষ হয়, এবং তাদের মধ্যেও ৫% যদি এ ঝামেলায় এগিয়ে আসতে চায় - ৩০০ আসনের জন্য বেশ কয়েক হাজার চমৎকার প্রার্থী পাওয়া যাবে।



১৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×