আমি বাংলাদেশের অপেক্ষাকৃত শিক্ষিত অংশের সদস্য। কিন্তু আমিও তো ২৯শে ডিসেম্বর ২০০৮ সালে লম্বা লাইনে এক ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে নির্বোধের মত এমন একজনকে ভোট দিয়ে এসেছি, যিনি মন্ত্রী হতে না পেরে তাঁর এলাকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ভর্তির ব্যাপারে চাঁদাবাজি করছেন বলে খবরের কাগজেই বেরিয়েছে, এবং তিনি সেজন্য কোন মানহানির মামলা করছেন না।
গতকাল বিডিআর বিদ্রোহ প্রসঙ্গে দেয়া পোস্টের লিঙ্ক থেকে শেখ সেলিমের স্বীকারোক্তি শুনে (এটা আগে আমার শোনা হয় নি) অত্যন্ত অসহায় বোধ করছি। দেখা যাচ্ছে যে-সব দল নির্বাচনে দাঁড়ায় তারা সবাই শুধু ঘুষখোর আর চাঁদাবাজে ভর্তি নয়, এদের নেতৃত্বে আছে নিষ্ঠুরতম সন্ত্রাসী, যারা ক্ষমতা রাখতে বা দখল করতে শুধু শত্রুপক্ষ নয়, নিরীহ জনগণকেও চরম মূল্য দিতে বাধ্য করে।
এটাও এখন স্পষ্ট যে, দুবছরের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল একটা পাপেট সরকার। সুযোগ পেয়ে সেনাবাহিনীর বেশ কিছু অফিসার (উচ্চতম সহ) কর্তৃক দুই দলের টাকার গাছগুলোকে পাকড়াও করে, নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে অচিন্তনীয় গুপ্তধন নিজেদের কব্জায় আনাই ছিল তথাকথিত সংস্কার আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য। এই অর্কেস্ট্রায় ফেরদৌস কোরেশীরা সঙ্গত দিয়ে গেছেন, কিন্তু প্রত্যাশিত লাভ পান নি, কারণ টাকাওয়ালারা যেভাবে সভা ও মিছিলে বিপুল জনতা ভাড়া করে আনে, তেমনি এক্ষেত্রেও একইভাবে 'জনসমর্থন প্রমাণ' করেছেন দেশে বিদেশে। এতে শংকিত সেনাবাহিনীর চালকগণ চুক্তি মাফিক একটি দলের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে নিজেদের আহরিত লাভ নিয়েই কেটে পড়ার পরিকল্পনা করেছেন এবং আপাতদৃষ্টিতে সফলও হয়েছেন, প্রতিপক্ষ যতই চেঁচামেচি করুক না কেন।
কিন্তু আমরা কেন ক্ষমতা, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের এই খেলায় চিরদিন প্যাসিভ ভূমিকা রাখবো? আমরা সুস্থ একটা সুন্দর রাজনৈতিক পরিবেশের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলাম, সেটা এবার বাস্তবায়িত হয় নি বলেই ভুলে যাবো কি ? সামনের বারেও কি আমি লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আরেক তস্করকে ভোট দিয়ে আসব?
সেনা বাহিনীর কি প্রয়োজন? আমরা নিজেরাই তো এই সব ঘৃণিত মানুষকে সামাজিকভাবে প্রত্যাখ্যান করতে পারি। আমাদের আশে-পাশে যেসব সাদা মনের মানুষ আছে, তাদেরকে এখন থেকেই ২০১৪ সালের জন্য প্রস্তুত করতে পারি, এবং হুদা ও সঙ্গীদের তাড়িয়ে একটি সত্যিকার নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের জন্য আন্দোলন শুরু করতে পারি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আগেকার সরকার যে বদমায়েশী শুরু করেছিল, এ সরকারও যাতে অবসরগামী দলীয় প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত করে, বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি তুলে দিয়ে সেই পথে না এগোয়, সেজন্য এখন থেকেই জনমত তৈরী করার কাজ শুরু করে দিতে পারি।
ভালো মানুষদের চিহ্নিত করুন। এঁদের মধ্যে অধিকাংশই ক্ষমতায় যেতে চান না। অনুরোধ করুন, আহবান করুন, বাধ্য করুন।
শুধু মুখে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে ফেনা তুললেই হবে না, শুধু ভারতীয় আগ্রাসনের ভয় দেখিয়ে বক্তৃতা দিলেই দেশপ্রেম প্রমাণিত হয় না। আমরা এদের ভেতরটা দেখতে চাই।
আসুন, আমরা এবার নিজেরাই মাইনাস আন্দোলন শুরু করি। আসু্ন, সবার গোপন খবর বার করে রাস্তায় ন্যাংটো করে ছেড়ে দি। আরো চার বছর হাতে সময় আছে।
মাইনাস তালিকা এভাবে শুরু হতে পারে-
শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, নিজামী, এরশাদ, শেখ রেহানা, সজীব আহমেদ ওয়াজেদ, তারেক রহমান, আরাফত রহমান, মুজাহিদ, ফালু, মামুন, সাকা চৌধুরী, টুকু, নাসিম, তোফায়েল, মেনন, খন্দকার মোশাররফ, মওদুদ, শেখ সেলিম, নানক, মির্জা আজম, শেখ হেলাল, আব্দুল্লাহ, আমু, মায়া, বাবর, এহসান মিলন, নাজমুল হুদা, সুরঞ্জিত, দেলোয়ার, হান্নান শাহ, মান্নান ভুইয়াঁ, ফেরদৌস কোরেশী, কবরী, শামীম ওসমান, জয়নাল হাজারী, ভিপি জয়নাল...।
বহু দীর্ঘ হবে এই তালিকা। ভয় নেই, এদেশের জনসংখ্যা ১৫ কোটি। ২% লোকও যদি সৎ হয়, এবং তাদের মধ্যেও ২% মানুষ যদি এ কাজের জন্য যথেষ্ট শিক্ষিত ও দক্ষ হয়, এবং তাদের মধ্যেও ৫% যদি এ ঝামেলায় এগিয়ে আসতে চায় - ৩০০ আসনের জন্য বেশ কয়েক হাজার চমৎকার প্রার্থী পাওয়া যাবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



