somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সোমার জন্যঃ সিন্ডারেলার চতুর্থ ভার্সন

১৪ ই জুলাই, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যখন শিহাব বাড়ি ফিরল শেষ ক্লাসের পরে তখন শেষ বিকেলের রোদ এসে পড়েছে বারান্দায়। ড্রয়িং রুমে মা কথা বলছিলেন কার সাথে যেন, গলার আওয়াজ পাওয়া গেল, কিন্তু অন্য পক্ষের না। ঘরে ঢুকে শিহাব দেখল এক মেয়ে, কিন্তু শুধু পেছনটা তার নজরে এলো ঢোকার সময়। মা মেয়েটাকে কি জানি বোঝাচ্ছিলেন আর মেয়েটা ঘাড় নেড়ে সায় দিচ্ছিল। পেছন থেকে দেখলেও শিহাবের মনে হলো ছোটখাটো মেয়েটা বেশ সুন্দরী, জামার ওপরে ফর্সা ঘাড়, শ্যাম্পু করা চুলে বাহারী ক্লিপ। নিজের ঘরে ঢোকার আগে একবার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলো, আসলেই দারুন সুন্দরী। চমৎকার ফিগার এবং শার্প চেহারা। শিহাব নিজের ঘরে কাপড় বদলাতে বদলাতে ভাবতে লাগল এ কোন আত্মীয়, আগে তো দেখে নি। নাকি কোন নতুন প্রতিবেশী? কিন্তু একা কেন?

নাস্তা খেতে বসে টের পেল এ নতুন কাজের মেয়ে এবং জানা গেল সে সার্বক্ষণিক, এখানেই থাকবে। বয়স মনে হলো আঠার-ঊনিশ। বেশ দ্রুত কাজ করে দিচ্ছিল। মাকে তাই খুশি মনে হলো। যেন একটা বড় ঝামেলা থেকে অন্তত সাময়িক রক্ষা পেয়েছেন। বেশ কিছদিন ঠিকা ঝি ছিল; সে কখনো আসত, কোনদিন আসত না। তখন মাকেই সব কাজ করতে হতো।

বাড়িতে শুধু মা আর শিহাব থাকে। দু বছর আগে বাবার পোস্টিং হয়েছে লন্ডনে। মা মাঝে মাঝে যায়, কিন্তু শিহাবের যাওয়া হয় না ক্লাসের জন্য। বাড়িতে খুব বেশি কাজ নেই। তবু আজকাল মা আর রান্না-বান্না পছন্দ করেন না। সকালে মার উঠতে একটু দেরী হয়, কারণ রাত জেগে টিভি দেখেন। শিহাব রাত জাগতে পারে না, আর প্রায় প্রতিদিনই সকাল আটটাতে ক্লাস থাকে। তাই যেদিন কাজের বুয়া আসে না, বা দেরি করে, শিহাব নিজেই পাউরুটি টোস্ট করে ডিম ভেজে খেয়ে চলে যায়।

এ মেয়েটা এত অল্প বয়সের, আগে কখনো এমন কেউ ছিল না। সবাই পঞ্চাশ-ছোঁয়া বিধবা বা স্বামী পরিত্যাক্তা। মাস দুয়েক পরেই মা আবার লন্ডন যাবেন। এত অল্প বয়স্ক একটা সুন্দরী মেয়েকে বাড়িতে তার সাথে একা রেখে যাবেন কি করে এই চিন্তা এখনই পেয়ে বসল শিহাবকে। শিহাব তথাকথিত ভালো ছেলের টেক্সট বই উদাহরণ। বিশ্ববিদ্যালয়েও কোন মেয়ের সাথে ভাব জমাতে তার উৎসাহ নেই, যদিও দেখে আজকাল সেকেন্ড ইয়ার থেকেই শুধু সেই বিশেষ গোঁড়া শ্রেণী ছাড়া অধিকাংশ মেয়ে বান্ধবীদের সাথে আর চলাফেরা করে না, সবার এক একজন বন্ধু বা প্রেমিক সাথে থাকে। তাদের সাথেই ক্যাম্পাসে অবসরে গল্প করে, এক রিকশায় যাওয়া আসা করে। এমনকি এক রিকশাতে এক ছেলে দুই মেয়ে, বা দুই মেয়ে এক ছেলেকে প্রায় গা জড়িয়ে থাকতে দেখে শিহাব অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। শিহাব একটু অস্বস্তিতে ভোগে, কিন্তু সমালোচনা করে না। সে নাস্তিক, কিন্তু তার জীবন সুশৃংখল। অনেক বন্ধু তার এই এটিটিউড নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করে, কিন্তু শিহাব তার পরোয়া করে না। কোন কোন মেয়ে তাকে টিজ করতে, অনেকে নিজের ইন্টারেস্টে তার সাথে ভাব জমাতে আসে। শিহাব কাঠের মত আড়স্ট হয়ে যায়। অভদ্র না হয়ে যেটুকু বলতেই হয়, সেটুকু বলে নিজের কাজে চলে যায়, পেছনে হাসির শব্দ শুনতে পায়।

একবার একজন ভুয়া এড্রেস ব্যবহার করে ই-মেইলে কয়েকটা ভিডিও লিঙ্ক পাঠিয়েছিল তার কাছে। শিহাব নিছক কৌতূহলে ক্লিক করে যা দেখেছিল তার মাথা বেশ কয়েকদিন অস্বাভাবিক অবস্থায় ছিল। সব ভালো পরিবারের শিক্ষিত মেয়ে, কি কাজ করছে! ছি! ক্লাসের মেয়েদের দিকে তাকাতেই তখন তার সংকোচ হচ্ছিল। এদের মধ্যেও কেউ কি এই শ্রেণীর হতে পারে? এর পর থেকে সে মেয়েদের সাথে প্রায় কথা বলাই বন্ধ করে দিয়েছিল।
মা জানেন শিহাবের মনোভাব। তার দিক থকে তাঁর মনে কোন ভয় নেই। ভয়টা অন্যদিকে। বলেনঃ
'শিহাব, মেয়েটা ইয়াং, আমি খুব ভালো চিনি না। এক জন দিয়ে গেল, এমারজেন্সি বেসিস রাখলাম। তুমি একটু সাবধানে চলো, আজকাল এই বয়সী মেয়েদের বিশ্বাস নেই। কিছুদিন যাক, তারপরে পাকা ব্যবস্থা করব লন্ডন যাওয়ার আগে।'

সারাদিন ভার্সিটিতেই কাটে শিহাবের। যখন সে ফেরে তখন মা-ও থাকে, বেশি ঝুঁকি নেই। সোমাকে দেখা যায়, রান্না করতে সাহায্য করছে, ঘর মুছছে, কাপড় ধুচ্ছে। এই টুকুন মেয়ে, মনে হয় গায়ে কোন জোর নেই। কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি সব কাজ করে ফ্রি হয়ে যায়। তারপরে নিজের ঘরে ঘুমায় দুপুরে, সেখানে মা একটা রেডিও রেখেছেন, কিন্তু সোমা তা অন করে না। তার সাথে শিহাবের কোন ইন্টার-একশন হয় না। এক শুক্রবার মা গেলেন ছোট খালার বাড়ি। সোমাকে বলা হলো নিজের ঘরে থাকতে, শুধু শিহাবের খাবার টেবিলে যথাসময়ে দিতে। সেই কাজ করে, এক ফাঁকে শিহাবের কাছে এসে বললঃ 'ভাইজান, ফোনটা একটু ইউজ করা যাবে, অল্প সময়ের জন্য?'
মেয়েটার সুন্দর সফিস্টিকেটেড উচ্চারণ শুনে অবাক হলো শিহাব। বলল, 'ঠিক আছে নম্বর বল, আমি ডায়াল করে দিচ্ছি।' মেয়েটা সুন্দর দাঁত দেখিয়ে হাসল, 'না ভাইজান, আমিই করছি।'
শিহাব লিভিং রুম থেকে নিজের ঘরে চলে গেল। সোমা খুব হেসে হেসে প্রায় পনেরো মিনিট কথা বলল কোন এক কামরানের সাথে। হাসি ও রাগের শব্দ থেকে বোঝা গেল এটা তার ঘনিষ্ঠ একজন। বেরুবার সময় বলল, 'সরি ভাইয়া, চলে আসেন। আমার শেষ। আমার টাইম সেন্স কম।‘
শিহাব বলল, 'না, না, কিছু আসে যায় না।'
সোমা যেন এক ঘোরের মধ্যে ছিল। নিজ থেকেই বলল, 'কামরানের সাথে কথা বলছিলাম। আমার দূর সম্পর্কের চাচাতো ভাই। এম, এ পাস, ব্যাংকের অফিসার।'
'তুমি লেখাপড়া করেছ কতটুকু?' এই প্রশ্নটা অনেকক্ষণ মনে ঘুরছিল শিহাবের।
'আমি কখনো স্কুলে যাই নি।'
শিহাব বিশ্বাস করল না। কারণ আছে। সকালে মা দেরি করে ওঠেন, শিহাব ফ্ল্যাটের দরজার কাছে যখন যাচ্ছিল খবরের কাগজের জন্য, সোমা বলেছিলঃ 'এই যে আপনার ডেইলি স্টার।' শিহাব হাঁ করে তাকিয়েছিল তার মুখের দিকে, একেবারে খাঁটি বৃটিশ উচ্চারণ। ভার্সিটিতে তার পরিচিত কোন মেয়ের এত ভালো এক্সেন্ট নেই, কারণ তার ডিপার্টমেন্টে ইংরেজি মাধ্যমের কোন ছাত্রী নেই। বলেই ফেললঃ 'সোমা, তুমি এভাবে ইংরেজি বলতে কোথায় শিখেছ তাহলে?'
'আমি আগে যে বাসায় কাজ করতাম, সেখানে দুটো কিন্ডারগার্টেনের বাচ্চাকে দেখতে হতো সারা দিন। ওরা ইংরেজিতে কথা বলত। সেখান থেকে শিখেছি।'
কথাটা আংশিক বিশ্বাস হলো শিহাবের। হতেও পারে।

এর পরে মায়ের অনুপস্থিতেতে মাঝে মাঝে সোমার সাথে কথা হতো, এ নিয়ে শিহাবের মধ্যে এখন আর কোন সংকোচ নেই। এ মেয়ের তো একজন প্রেমিক আছেই, যাকে সে সুযোগ পেলেই ফোন করে, অবশ্য শিহাবের অনুমতি নিয়ে। তাই কোন ভয় নেই। আর নিজের ওপরে তার বিশ্বাস আছে।

এরপর দেখা গেল মা বাইরে গেলে টিভি দেখতেও এ মেয়ে সমান উৎসাহী। শিহাব পড়ার ফাঁকে ফাঁকে এসে দেখত কি মনোযোগ দিয়ে দেখছে। ওর পছন্দ ছিল কার্টুন চ্যানেল। সিন্ডারেলার গল্পের তিনটি আলাদা ভার্সন শিহাব জানতে পারল সোমার কাছ থেকে। ডিজনি, হানা-বারবেরার সব ছবির নামও। আশ্চর্য স্মৃতি শক্তি। সেই দুই বাচ্চার সাথে যা যা দেখেছে, সব হুবহু মনে আছে। খুব উৎসাহ নিয়ে শিহাবকে শোনাত একই রকম গল্পের এক ভার্সনের সাথে অন্য ভার্সনের কি তফাৎ। চমৎকার অব্জারভেশন শক্তি। এ মেয়ের আই, কিউ নিঃসন্দেহে জিনিয়াস লেভেলের। কিন্তু ভাগ্যদোষে আজ তাদের বাড়ির কাজের লোক।

‘আচ্ছা সোমা, আমার মনে হচ্ছে, ঐ বাড়ীতে তোমাকে খুব আদর করত। তুমি সেখানে থেকে গেলে না কেন?’
সোমার মুখটা একটু ম্লান হয়ে গেল। ‘হ্যাঁ, অনেক আদর করত। কিন্তু ওরা বিদেশে চলে গেছে।‘
কয়েকদিন পরে এক বিরাট লম্বা চওড়া নিকষ কালো মহিলা এল বাড়িতে, মায়ের সাথে কি জানি বলল। তবে নিজের ঘর থেকে যেটুকু শুনল শিহাব বোঝা গেল এটা সোমার আপন বোন। বেতনের টাকা নিতে এসেছে। মায়ের অবর্তমানে সোমাকেই জিজ্ঞেস করল। ‘ তোমার আর তোমার বোনের মধ্যে তো কোনই মিল নেই।‘
খিল খিল করে হাসল সোমা। ‘হ্যাঁ, তা ঠিক। কেউ বিশ্বাস করে না আমরা দুই আপন বোন।‘
‘তোমার বোন মাকে বলে গেল তোমার ওপরে নজর রাখতে। কি ব্যাপার?’ হাসতে হাসতেই বলল শিহাব।
সোমা একটু বিরক্তি প্রকাশ করল ভ্রূ উঠিয়ে। ‘যেখানেই যাই, কিছু শয়তান লোক আমার পেছনে লাগে। এখানেও কিছু ড্রাইভার আমাকে বিরক্ত করছে।‘
শিহাবের ঘর থেকে কলোনীর ভেতরের রাস্তাটা পুরো দেখা যায়। শিহাব পরদিন খেয়াল করল সোমা যখন বিকেলে অন্য বাড়িগুলোর কাজের মেয়েদের সাথে বিকেলে হাঁটে কিছু ড্রাইভার/সিকিউরিটি শ্রেণীর লোক ওর পিছু পিছু হাঁটে, ওর সাথে ভাব জমাতে চেষ্টা করে। কিন্তু ও তাদের কোন পাত্তা দেয় না। তাই তো, ওর তো কামরান আছে। এদেরকে পাত্তা দেয়া দরকার কি ?

কয়েকদিন পরে হঠাৎ একদিন কুন্ঠিত মুখে সোমা শিহাবের কাছে এসে দাঁড়ালো। ‘ভাইজান, কিছু মনে করবেন না। একটু টাকার দরকার ছিল । খালাম্মার কাছ থেকে বুবু বেতন নিয়ে গেছে, এখন চাইতে সাহস নেই। আপনি দিতে পারবেন ধার? পরের মাসে বেতন পেলেই দিয়ে দেব।‘
‘নিশ্চয়ই, কত লাগবে?’
‘দেড় হাজার।‘
শিহাব এবার একটু ঘাবড়ে গেল। এই টাকা দেয়া কোন সমস্যা না তার জন্য। কিন্তু মনে একটু সন্দেহের কালো মেঘ জমল। এক মাসের বেতন সে চাইছে তার কাছে, কোন দিন তা শোধ করতে পারবে না। মতলব নেই তো কোনো?
‘এত টাকা দিয়ে কি করবে?’
‘একজনকে একটা গিফট দেব।‘
এবার হাসি পেল শিহাবের। এই মেয়ে তার এম এ পাস অফিসার বন্ধুকে একটু ইম্প্রেস করতে চায়। করুক। বেশ মজা পেল শিহাব। বলল, ‘দিচ্ছি।‘
সোমা নিজের ঘরে চলে গেল। শিহাব একটু পরে টাকা নিয়ে তার ঘরের দরজায় গেল। দেখে অবাক, ভেতরটা শুধু দারুন সাজানো গোছানো না। এই মেয়ে হরেক রকম দামী কস্মেটিক্স রেখেছে আয়নার সামনে। ভীষণ সৌখিন। কাপড়গুলিও খুব সাবধানে গুছিয়ে রাখা, যাতে ভাঁজ না ভাঙে। শিহাব টাকাটা দিয়েই তাড়াতাড়ি চলে এল দরজা থেকেই।
ক’দিন পরেই দেখল সোমার নতুন পোশাক, আর কিছ সুন্দর কাস্টিউম অলংকার। একবেলা ছুটি নিয়ে বেরিয়ে গেল সোমা। ফিরে এলো খুব খুশি মেজাজ নিয়ে। কিন্তু মা ব্যাপারটা খুব ভালো চোখে দেখলেন না।
‘কোথায় গিয়েছিলে? তোমার বোন কিন্তু আমাকে বলেছে তোমার ওপরে খেয়াল রাখতে, কোন অঘটন ঘটাবে না, আশা করি।‘
‘আমি তো আমার বোনের ওখানেই গিয়েছিলাম। ‘
কিন্তু শিহাবের কথাটা বিশ্বাস হলো না।

শিহাবের একটা ভালো ক্যামেরা আছে। এটা সোমা লক্ষ্য করেছে। যখনই শিহাব সেটা নাড়াচাড়া করে দেখে সোমা সেটার দিকে তাকিয়ে। একদিন শিহাব বলেই ফেলল। ‘ কি ছবি তুলবে?’
খুব খুশী সোমা। ‘ভাইজান, তাহলে শাড়ি পরে আসি?’
মা আজ মামার বাড়িতে, ফিরতে দেরি হবে। আধ ঘন্টা পরে তার সব চেয়ে দামী শাড়িটা পরে অনেক সেজে গুজে যখন সামনে এসে দাঁড়াল, তখন আর সোমাকে কাজের মেয়ে বলে চেনা একেবারেই অসম্ভব। আজ প্রফেশনাল ফটোগ্রাফারের দৃষ্টিতে দেখল খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে। বেশ ফটোজেনিক মুখ, হাইট কম, কিন্তু ছবিতে তা বোঝা যাবে না, কারণ ফিগার আনুপাতিক। হাতের চামড়া একেবারে মসৃণ। পোজ ঠিক করার সময় একবার শিহাব ওর হাতটা ধরলো। আসলেই ভীষণ কোমল, রোজকার এত অত্যাচারেও নষ্ট হয় নি। এখন বুঝল কেন এত কিছু তার সাজার টেবিলে। ময়সচারাইজার, ভেজেলিন, সব আছে চামড়া বাচাতে।

শিহাব আটটি ভঙ্গিমায় তার ছবি তুলল। দাঁড়িয়ে, মাটিতে বসিয়ে, চেয়ারে বসিয়ে।
দু’দিন পরে এক ফাঁকে শিহাবকে ধরল। ‘ভাইজান, আমার এটা ফুরিয়ে গেছে। আরেকটা এনে দেবেন? আমি দাম দিয়ে দেব।‘
শিহাব দেখল আয়ুর্বেদিক ফেয়ার এন্ড লাভ্লির খালি বাক্স। এনে দিয়ে বললঃ ‘তুমি এত ফরশা, তোমার এটা দরকার কেন?’
সোমা একটু লজ্জা পেল। তারপরে বললঃ আমার মুখে দানা হয়, এটাতে তা মরে যায়। ভাইজান, আপনার মুখেও কিছু দানা আছে, আপনি নিজের জন্যেও একটা নিয়ে আসেন না কেন?’
শিহাব হাসল। ‘আমার রূপচর্চার সময় নেই , সোমা, লেখাপড়ার অনেক চাপ। আর আমাকে যে মেয়ে পছন্দ করবে, যদি কেউ করে, তাহলে চেহারার জন্য করবে না।‘

কয়েকদিন পরে শিহাব আবার বিকেলে জানালার বাইরে তাকিয়ে দেখছিল সোমা ওর নতুন গয়নাগুলো অন্য বাড়ির মেয়েগুলোকে দেখাচ্ছে, আর হাত পা নেড়ে অনেক কিছু বোঝাচ্ছে। মনে হলো ও এরই মধ্যে একটা দারুন সম্মানের আসন তৈরি করে ফেলেছে, এই পিচ্চি বয়সেই। শিহাব দেখে খুব মজা পেল। ও ফিরে এলে জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি তোমার সব ধন সম্পদ সবাইকে দেখালে ওদেরও লোভ হয়ে যেতে পারে।‘
‘ভাইজান, আপনি সব দেখছিলেন? আমার এক জোড়া ইয়ার রিং একজনকে দিয়ে দিয়েছি। আর লকেটটা আরেক জনকে।’
শিহাব অবাক হলো। ‘কেন দিলে?’
‘ওদের অনেক পছন্দ হয়েছিল, তাই। আমার দিতে ভালো লাগে।‘
শিহাব স্তম্ভিত হয়ে গেল। এটা কি করে সম্ভব। এক কাজের মেয়ে, যে বহু পরিশ্রমে অল্প কিছু বেতন পায়, তার মধ্যে তো এমন উদারতা থাকা সম্ভব নয়। কিন্তু এ মেয়ে তো আরো অনেক দিক দিয়ে অসাধারণ। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের চেয়ে ভালো এক্সেন্টে ইংরেজী বলে। মেক আপ এবং সাজ পোশাক সম্বন্ধেও তার জ্ঞান বোধ হয় আরো ভালো।

কয়েকদিন পরে মা এক ফাংশনে গেছেন। সোমা এসে বলল, ‘ভাইজান, আমার বুকে কেমন ব্যথা করছে।‘
শিহাব এবার বিপদে পড়ল। ওকে এখনই ডাক্তারখানায় নিয়ে যাওয়া ঠিক হবে, না মায়ের জন্য অপেক্ষা করবে? শিহাব একটু আধটু ডাক্তারি জানে, মায়ের রক্তচাপ নিয়মিত চেক করে, তাছাড়া হার্টবিটের শব্দও আজকাল বুঝতে পারে ইন্টারনেটে কিছু সাইটে গিয়ে আত্মপ্রশিক্ষণের পরে। একটু দ্বিধা এল। তারপরে ভাবল ক্ষতি কি একবার প্রাথমিক একটা চেক করলে। সোমাকে বললঃ ‘তুমি যদি চাও আমি স্টেথোস্কোপ দিয়ে একবার দেখতে পারি হার্টে কোন সমস্যা আছে কি না। আমি ডাক্তার না, তবে কিছু কিছু বুঝতে পারি।‘ সোমা সঙ্গে সঙ্গে ঘাড় নেড়ে বলল, ‘দেখেন, ভাইজান।‘

খুব সাবধানে সোমার বুকের ওপরে যন্ত্রের মাথা রেখে শিহাব হার্টের শব্দ শুনল, রিদম দেখল। অল্পবয়সী মেয়েদের অনেক সময় রিউম্যাটিক ফিভার থেকে হার্টের ভাল্ভ নষ্ট হয়। অনেক সময় জন্মগত ত্রুটি, যেমন প্রকোষ্ঠের দেয়ালে ফুটো থাকে। সেজন্য শব্দ বদলে যায়, যা ইন্টারনেটে শিহাব শুনেছিল। না, শব্দে কোন অস্বাভাবিকত্ব পেল না। তার মুখেও কোন অক্সিজেনের অভাবের চিহ্ন নেই; হাত পা কিছু ফোলে নি। আশ্বাস দিয়ে বলল, ‘তেমন কোন সমস্যা তো দেখছি না। কাল ডাক্তারের কাছে যেও। নাহলে মা এলে বলো উনি ব্যবস্থা করে দেবেন।‘

কিছুক্ষণ পরে সোমা এসে বলল, ‘না ভাইজান, চলে গেছে। মনে হয় খাওয়াতে এসিডিটি।‘
শিহাবের একটু সন্দেহ হলো মেয়েটা কি মজা করছিল, তাকে পরীক্ষা করে দেখছিল, সে এই সুযোগে গায়ে হাত দেয় কি না? কিন্তু শিহাব যে সে ধরনের মানুষ না, তা তো এর এতদিনে জানার কথা। আসলেই কি মেয়েটা এ রকম সরল? এ তো বিপজ্জনক!

একদিন শিহাবও ভাবল একটা পাল্টা দুষ্টুমি করে। বললঃ ‘সোমা, তুমি ভালো মেয়ে না খারাপ, কখনো খারাপ কাজ করেছ?’
সোমা একেবারে চুপ হয়ে গেল। ভয় পেয়েছে মনে হলো। শিহাব নিজেই একটু লজ্জা পেল। কথাটা সহজ করে দিল । ‘যেমন, তুমি সব সময় সত্যি কথা বলো?’
সোমা এবার প্রাণ খুলে হাসল। ‘না, ভাইয়া, আমি অনেক মিথ্যা বলি। আর সবাই আমার মিথ্যা সহজেই ধরে ফেলে।‘ এবার দুজন মিলেই অনেক হাসল। শিহাব বলল, ‘আমিও ভালো মানুষ না, মিথ্যা খুব কম বলি, কিন্তু মনটা আমার খুব খারাপ।‘
সোমা মাথা নাড়াল। ‘হুঁহ, আপনার মন খুবই ভালো। আমি জানি।‘
শিহাব এবার বলল, ‘আমার মন খারাপ, এই কারণে যে, তোমাকে নিজের সংসারের বদলে অন্য সংসারে কাজ করতে হচ্ছে।‘
মুখে কপট বিরক্তির ভাব করল সোমা। ‘কি যে বলেন ভাইয়া। এটাই এখন আমার সংসার।‘

কিন্তু এর পরের দিনই সে ছুটি নিল। কথা হলো সন্ধ্যায় ফিরবে। কিন্তু সে রাতে ফিরল না। পরের দিন সকালে ফেরা মাত্র মা রাগ দেখালেন। ‘সারারাত কোথায় ছিলে। তোমার তো সন্ধ্যাতে ফেরার কথা ছিল।‘
‘খালাম্মা, আপার বাসায় ছিলাম, খেতে একটু দেরি হয়ে গিয়েছিল, তারপরে দুলাভাই বললেন, ফিরতে অসুবিধা হবে, রাত সেখানে থেকে সকালে ফিরতে। আমার বোন পরের বার এলে জিজ্ঞাসা করে দেখতে পারেন।‘
কিন্তু মা পুরোপুরি সন্তুষ্ট হলেন না। ‘তোমার বোন তো আমাকে বলেছেন তোমার ওপরে নজর রাখতে। দেখ নিজের ভালো-মন্দ বুঝে চল।‘
সোমা একটু অপমানিত বোধ করছিল মনে হলো শিহাবের কাছে, কিন্তু এখানে ওর কিছু করার নেই, চুপ করে রইলো।

দু’দিন পরে সোমা এসে শিহাবকে বলল, ‘ভাইজান, আমার ছবিগুলো দেবেন আমাকে এক কপি?’
শিহাবের মনে হলো এগুলো কম্পিউটারে অনেকদিন পড়ে আছে, প্রিন্ট নেয়া হয় নি। কিন্তু আবার একটা ভয় পেয়ে বসল। এভাবে তো প্রিন্ট নেয়া যাবে না। মুখে বলল, ‘দু দিন পরেই তোমাকে দেব, যেখানে প্রিন্ট করা হয় সেখানে যাওয়া হয় না রোজ।‘

অনেক রাত পর্যন্ত জেগে শিহাব একটা একটা করে ছবি ধরে ফটোশপ দিয়ে পেছনের পটভূমি একটু করে বদলে দিল, যাতে দেয়াল, লাইটিং ফিক্সচার এসব না দেখা যায়, পর্দাও ডিজাইন মুছে প্লেইন করে দিল। এখন কেউ আর বুঝতে পারবে না এগুলো তাদের বাড়িতে তোলা। সোমার হাতে পরের দিন প্রিন্ট এনে দিলে ওর মুখ দেখে বোঝা গেল, ও চিন্তা করছে কোথায় যেন একটা গলদ আছে, কিন্তু ও তো আর ফটোশপের কথা জানে না, বোধ হয় ভাবল ছবির লাইটিং আর এঙ্গেলের জন্য এ রকম অপরিচিত মনে হচ্ছে। শিহাব সান্ত্বনা দিল, “তোমাকে খুব সুন্দর দেখাচ্ছে।“

হতাশ সুরে সোমা বলল, ‘কি যে বলেন ভাইজান। আমি আবার সুন্দর হলাম কোথায়।‘ শিহাবের মনে হলো সোমা আসলে তাদের বাড়ির ভেতরটাই হয়তো ওর আত্মীয়দের দেখাতে চেয়েছিল। কিন্তু সেটা শিহাবের জন্য বিপদজনক হতো, ওর আত্মীয়রা টের পেয়ে যেত শিহাবের সাথে ওর একটা মোটামুটি বন্ধুত্বের সম্পর্ক আছে। ব্ল্যাকমেইলের দিকে টার্ন নিতে পারত ব্যাপারটা। সে ঝুঁকিতে যাবে না শিহাব, যদিও সে মনে করে সোমা নিজে থেকে তার কোনো ক্ষতি করবে না।

কয়েকদিন পরে দু’জন লিভিং রুমে টিভি দেখছিল। জুতোর বিজ্ঞাপন চলছিল। হঠাৎ সোমা জিজ্ঞেস করল, ‘আপনার পায়ের সাইজ কত, ভাইজান।‘
‘কি জানি। দোকানে গিয়ে যেটা ফিট করে সেটাই কিনি। খেয়াল করি নি। আচ্ছা, তুমি জানো ‘ফুট’ কথাটা কোথা থেকে এসেছে?’
‘রাজার পায়ের মাপ থেকে।’
‘ঠিক। লোকে বলে ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম হেনরির পা নাকি এক ফুট ছিল।‘
সোমা হাসল । ‘লোকটা নিশ্চয়ই দৈত্যের মত ছিল।‘
‘তা হতে পারে, তবে অনেকে ভাবে এটা আসলে জুতোসুদ্ধ মাপ। মেয়েদের পা ছোট হয়, দেখি তোমারটা কত বড়।‘
সোমা খুব লজ্জা পেল। পা লুকিয়ে ফেলল। তারপরে বলল, ‘ঠিক আছে, দেখাচ্ছি।‘ কোথায় গিয়ে একটা ছেঁড়া কাগজ়ে একটা পেন্সিলে নিজের পায়ের আউটলাইন এঁকে নিয়ে এলো আর দূর থেকে দেখালো। ‘এই যে আমার পায়ের মাপ। হি হি হি।‘
শিহাব সেটা ওর হাত থেকে কেড়ে নিল।
‘কি করছেন, ভাইজান! ছি ছি, আমার পায়ের ধূলো লাগা কাগজ ধরেছেন?’
‘কিছু হবে না, বাড়িতে ধূলো কই। আমি তোমাকে এই মাপের একটা সুন্দর জুতো কিনে দেব।‘
এবার মেয়েটা একটু দ্বিধায় পড়ল। লোভও আছে, আবার সংকোচও। ‘ না, ভাইয়া, লাগবে না।‘
শিহাব সেটা রেখে দিল।

শিহাবের মা এক বুটিক খুললেন সময় কাটাতে। মা শিহাব আর সোমাকেও সাথে নিয়ে গেলেন মিলাদে। শিহাবের খালারাও এলো। সোমা এত চমৎকার সেজেছিল যে মনে হচ্ছিল ও-ই একটা ম্যানেকুইনের জায়গায় জীবন্ত মডেল হতে পারে। শিহাব লক্ষ্য করল ছোট খালা শিহাব আর সোমাকে খুব কড়া নজরে রেখেছেন। আর মেয়েটা বোকার মত মাঝে মাঝেই শিহাবের দিকে তাকাচ্ছিল। শিহাব বুঝতে পারছিল ও চায় শিহাবের ক্যামেরাতে ছবি তোলার সময় যেন কয়েকটাতে সোমাও চলে আসে। সেভাবেই ছবি তুলল শিহাব।

কিন্তু খালা আর মায়ের মধ্যে বোধ হয় কোনো কথা হয়েছিল। দুদিন পরেই মা শিহাবকে ডাকলেন। ‘আমার মনে হয় আমার নতুন লোক খোঁজা উচিত। এই মেয়েটাকে আমি পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছি না।‘
শিহাব নিস্পৃহতা দেখালো। সে ঠিক বুঝতে পারলো মা তার রি-একশন দেখার জন্যই তাকে ডেকে এসব বলছেন। ‘তোমার যা ভালো মনে হয় কর, আমাকে বলছ কেন, কাজ তো তোমার।‘
শিহাব জানে মায়ের মেজাজ ভালো নেই। পত্রিকায় বুটিকের উদবোধনের যে ছবি ছাপা হয়েছে, তাতে মায়ের অংশটা বাদ দিয়ে সোমাকে দেখানো হয়েছে। আরেকটা কারণ হলো লন্ডনে বাবা একলা থাকেন। কে কি উড়ো খবর দিয়েছে বাবাকে কোন মহিলার সাথে মাঝে মাঝে দেখা যায়, মায়ের মনে একটা আতংক কাজ করছে, যদিও শিহাব নিজে এ সব বিশ্বাস করে না। কিছু লোক আছে যারা এ ধরণের বানানো কথা ছড়িয়ে আমোদ পায়। মা শিহাবের প্রতিক্রিয়া দেখে একটু আশ্বস্ত হলেন।

একদিন মা গেছেন বুটিকে। সোমা কার্পেটে বসে কার্টুন দেখছে। শিহাব মাঝে মাঝে পড়ার ফাঁকে ফাঁকে এসে দু’একটা কথা বলছে তার সাথে। বিশেষ করে যখন পড়ার ঘরে সোমার খিল খিল হাসির শব্দ শোনে, তখন চলে এসে জিজ্ঞেস করে হাসির কি হলো, সোমা ব্যাখ্যা করে। শিহাব নিশ্চিত হয় মেয়েটা মোটামুটি ভালোই ইংরেজি শিখে ফেলেছে। এমন সময় বেল বাজল। শিহাব ভাবল মায়ের খোঁজে কেউ এসেছে। দরজা খুলেই আঁতকে উঠল। মা-ই ফিরেছেন অনেক আগে। কার্পেটে সোমাকে দেখেই তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন। ‘তুমি এখানে কি করছ, নিজের ঘরে যাও।‘
মায়ের মেজাজ সত্যি খারাপ। ‘শিহাব, ইস সামথিং গোইং অন বিটুইন ইউ টু? ইওর কাজিন্স সে ইউ ডোন্ট ইভেন টক টু এনি গার্লস ইন দি ইউনিভার্সিটি। সো ইউ প্রেফার দিজ ট্র্যাম্পস এন্ড স্লাটস? ডু ইউ স্লিপ উইথ হার?’
শিহাব আড়চোখে দেখল নিজের ঘরে যাওয়ার পথে থমকে দাঁড়িয়ে করিডোরে সোমা এ সব শুনছে আর তার মুখ একেবারে পাংশু হয়ে গেছে। ‘ মা, স্টপ দিস। শি ইস লিসেনিং। ইউ আর হার্টিং হার, শি মে বি পুয়োর , বাট শি ইস আ হিউম্যান।‘
‘আই সি, এই মেয়ে, তুই ইংরেজি ভালোই বুঝিস, তাই না?’
সোমা ভয়ে কাঁপতে লাগল।
‘ইয়েস শি ডাজ, বেটার দ্যান মেনি অব ইয়োর স্টুপিড নীসেজ।‘ শিহাব বুঝতে পারল না সে কেন এমন রেগে যাচ্ছে। মা রাগছেন বাবার ওপর অবিশ্বাসে, এবং সেখানেও এক অধস্তন কর্মচারিনী জড়িত বলে গুজব, সেই সাদৃশ্যে।
‘আহা, সো হু হ্যাজ বিন ডুইং দ্য টীচিং? এন্ড হাউ লং হ্যাজ ইট বিন গোয়িং অন?’
‘মা, না জেনে কথা বলো না। ও এখানে আসার আগে যে বাড়িতে কাজ করত সেখানে সবাই ইংরেজিতে কথা বলত।‘
‘আর সে খবর তুমি পেলে কেমন করে, আনলেস ইউ হ্যাভ বিন ইন ফেয়ারলি ইন্টিমেট টার্মস উইথ হার। তোমাকে তো ওর সাথে কথা বলতেই বারণ করে দিয়েছিলাম আমি। এখন দেখছি আমি বেরিয়ে গেলেই তোমরা বেশ জমিয়ে ফেল। আই ডু হোপ ইউ টুক প্রিকশন্স এন্ড শি ইজ নট প্রেগ্ন্যান্ট।‘
শিহাবের মাথা খারাপ হয়ে গেল। ‘শাট আপ, মা। হোয়াটেভার ইয়র ফ্রাস্ট্রেশন্স মে বি, প্লীজ ডোন্ট টেক ইট আউট অন দিস পুয়োর গার্ল। শি ইজ লাইক আ সিস্টার টু মি, ওয়ান আই ডু নট হ্যাভ।‘
‘হা হা , আ সিস্টার ইন্ডিড হু ইজ ডিয়ারার টু ইউ দ্যান ইয়োর ঔন মাদার। বের হ, নষ্ট মেয়ে, এখনই আমার বাড়ি থকে বের হও।‘
‘এত রাতে ও কোথায় যাবে একা?‘
‘আই ডোন্ট কেয়ার। ড্রাইভার ওকে বাসস্টপে রেখে আসবে। ‘
সোমা তার জিনিসপত্র দশ মিনিটেই গুছিয়ে নিল। না খেয়েই বিদায় নিল। এক বারও আর শিহাবের দিকে তাকালো না।

মা সাত দিন বাদেই পাকাপাকিভাবে লন্ডন চলে গেলেন। ভালই আছেন। শিহাব হলে চলে এসেছে। মাঝে মাঝে চলে যায় মীরপুরের সেই পাড়ায় যেখানে সোমা বলেছিল তার বোন থাকে। তিন মাস পরে একদিন দেখা হয়ে গেল। শিহাব প্রথমে চিনতেই পারে নি। কি চেহারা হয়েছে। শুকিয়ে কাঠি। মুখ শ্রীহীন। ও-ই তাকে আগে চিনল, ‘ভাইজান। আপনি এখানে!’
‘সোমা, তোমার এ কি অবস্থা!’
‘শয়তানটা আমার সব টাকা নিয়ে গেছে, বিয়ে করেছে কলেজের এক মেয়েকে।‘ সোমাকে কেমন ক্লান্ত উদাসীন মনে হলো। একটু পরে বলল, ‘আচ্ছা, ভাইজান, আমি যদি বড়লোকের মেয়ে হতাম, ভার্সিটিতে পড়তাম, তাহলে...’
হঠাৎ সোমা একটা বাসে উঠে পড়ল।
শিহাব ভাবতে লাগল সোমা কিভাবে বাক্যটা শেষ করতে চেয়েছিল। বাড়ি এসে ড্রয়ার থেকে সোমার পায়ের ছাপটা বের করল। না সেই জুতোটা কিনে দেয়া হয় নি। কোন ভালো পরী এই সিন্ডারেলার সাহায্যে এগিয়ে আসবে না। ওর ভাগ্যে কোন রাজপুত্র নেই।

[এই ‘গল্পটা’ আমি সোমাকেই উৎসর্গ করলাম]


সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুলাই, ২০১০ রাত ৯:১৭
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×