সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বিখ্যাত সেলিব্রিটিদের একজনের হঠাৎ বিয়ের সংবাদের সঙ্গে সঙ্গে তার পরিত্যক্ত বাগদত্তের সাথে অত্যন্ত অন্তরঙ্গ দুটি ভিডিও ইন্টারনেটে দেখা গেল। এর মধ্যে কি শিক্ষনীয় কিছু আছে?
আজ থেকে বহু বছর আগে এ দেশের এক প্রথিতযশা সাহিত্যিক ও শিক্ষকের অত্যন্ত জনপ্রিয় অভিনেত্রী কন্যা নিজ পছন্দের মানুষটিকে বিয়ে করার অল্প দিন পরেই বিচ্ছেদ ঘটে। সে যুগে ভিডিও বা ইন্টারনেট ছিল না। বরটি স্ত্রীর কিছু বস্ত্রহীন রঙীন ছবি ক্যামেরায় তুলেছিল এই আশ্বাস দিয়ে যে, এটি তাদের পারিবারিক রেকর্ড মাত্র, বাইরের কেউ কোন দিন দেখবে না। কিন্তু বাজারে এ ছবিগুলি অল্পদিন পরেই হাতে হাতে ঘুরতে থাকে সবাইকে আমোদিত ক'রে। সেই থেকে ছাড়াছাড়ি। এই মহিলা কিছুদিন আগে হলিউডের এক বিখ্যাত ছবিতে একটি পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করে আবার খবরে এসেছেন। এদেশে তিনি আর থাকেন নি।
ইন্টারনেটে বাংলাদেশী শিক্ষিত তরুণীদের সঙ্গীসহ ঘনিষ্ঠ ভিডিও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমি বিষয়টি কোন নৈতিক বা ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গী থেকে দেখছি না। যদি মানবেতর প্রাণীর মত আমাদেরও এই স্বাভাবিক প্রাকৃতিক কর্মটি সবার চোখের সামনে অসংকোচে করার রীতি থাকত, যদি সব নারী-পুরুষ বহুগম্যা বা বহুগত হতো, তাহলে কোন সমস্যা ছিল না। হয়তো একদিন আমরা সেই অবস্থায় ফিরে যাব। কিন্তু দৃশ্যমান ভবিষ্যতে তা হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এই মুহূর্তে যাঁরা নিজেদের ব্যক্তিগত ও প্রথাগতভাবে গোপন কর্মাবলীর চলচ্চিত্রের ব্যাপক প্রচারে দুশ্চিন্তিত বোধ করেন না, তাঁদেরকে একটু সতর্ক হতে বলা যেতে পারে। কিছু বিবেচ্য বিষয়ঃ
১। মেয়েটি সম্ভবত আর কখনোই তাঁর শিক্ষা, পারিবারিক পটভূমি ও অন্যান্য যোগ্যতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্থায়ী পার্টনার পাবে না। সেটাও যদি তিনি মেনে নিতে রাজি থাকেন, তাহলে তাঁকে একটি সুখী সন্তানসমৃদ্ধ পরিবার তৈরির আশা ছাড়তে হবে। সেটাও যদি নারীরা মেনে নেন, তাহলে মনস্তাত্ত্বিকভাবে দুর্বল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানুষ বেড়ে উঠবে এবং সমাজে নানা বিশৃংখলা দেখা দেবে। বর্তমানকালে একজন মানবশিশু আঠারো বছর বয়স পর্যন্ত দুই প্যারেন্টের স্থায়ী পারিবারিক পরিবেশে গড়ে উঠলেই সঠিকভাবে শিক্ষা সমাপ্ত করতে পারে।
২। এই কর্মে লিপ্ত ছেলেটিকেও কোন আত্মমর্যাদা জ্ঞানবিশিষ্ট মেয়ে আর গ্রহণ করবে না। তার ভবিষ্যৎ পার্টনার এই অস্থির সমশ্রেণীর মধ্যেই সীমিত থাকবে।
৩। ইন্টারনেটে প্রদর্শিত ভিডিওগুলি নিরীক্ষা করলে দেখা যায়, প্রায় সব ক্ষেত্রেই মহিলা অংশগ্রহণকারীর সায় আছে, যদিও কোন কোন ক্ষেত্রে উৎসাহ ততটুকু নয়। অনেক সময় মনে হয় নারীটি এক ঘোরের মধ্যে আছে, এবং তাকে যা যা নির্দেশ দেয়া হচ্ছে, তা স্বাভাবিক অবস্থায় যতই বিকর্ষক মনে হোক না কেন, সবই পালন করছে। এটা সম্ভবত ইয়াবা জাতীয় ড্রাগের ফল হতে পারে, প্রাথমিকভাবে, তবে অভ্যস্ত হয়ে গেলে নিজ থেকেও করতে পারে।
৪। বহুজনের কামনার পাত্রী হওয়া আজকাল অনেক মেয়ের কাছে একটা গৌরবের নিদর্শক হয়ে যাচ্ছে। যে মেয়ের কোন ঘনিষ্ঠ ছেলে বন্ধু নেই তার বান্ধবীরা তাকে উপহাসের পাত্রী করে তার ওপরে মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে।
৫। যে মেয়ে বহুগামী হচ্ছে, সে বুঝতে পারছে না সম্ভাবনা সূত্রের নিয়ম অনুসারেই তার সঙ্গীদের মধ্যে এক বা একাধিক তার জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতে ভিডিও নেবে এবং তা বাজারে ছড়িয়ে দেবে। অনেক ভিডিওতেই দেখা যায়, পুরুষটি মহিলাটিকে আশ্বস্ত করছে - "জান, এটা তো শুধু আমাদের জন্যই। শুধু আমরাই দেখব, আরো বয়স হলে দেখে মজা লাগবে।" মেয়েটি তা বিশ্বাস করছে। কোন সৎ ও মানসিকভাবে সুস্থ পুরুষই কোন মেয়েকে ভালোবাসলে তার এমন অন্তরঙ্গ ছবি নিতে উৎসাহী হবে না। মেয়েটির সান্নিধ্য্ই তার কাছে সবার ওপরে। যে ছেলে একটি মেয়েকে সত্যি ভালোবাসে, সে বছরের পর বছর ঘনিষ্ঠ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে রাজি আছে। এটাই ভালোবাসার সব চেয়ে বড় পরীক্ষা।
যাঁরা এই দুষ্ট চক্রে পা না দিতে চান, এই নীতিগুলো মেনে চলার কথা চিন্তা করতে পারেনঃ
১। আপনার বন্ধুর ফ্ল্যাটে বা তার বন্ধুর ফ্ল্যাটে কখনো একা থাকবেন না। যদি দেখা যায় অনেকেই আছে, কিন্তু একে একে লোক বিদায় নিচ্ছে, তাহলে আপনিও বিদায় নিন। আপনাদের ব্যক্তিগত আলাপ কোন রেস্টুরেন্টে বা ফাস্টফুড শপে বা পার্কে বেঞ্চে জনসমক্ষে (কিন্তু অন্যের শ্রুতির বাইরে) সম্পাদন করুন।
২। এক রিকশাতে চলা ফেরা করলেও, বা সিনেমাতে পাশাপাশি বসলেও, শরীরের শুধু সেই সব অংশই স্পর্শ করতে দেবেন যা আপনার ভাই বা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রা ছোঁয়। মনে রাখবেন, যে অপেক্ষা করতে রাজি নয়, তার মাথায় কুমতলব আছে। সে আপনাকে পরে বিপদে ফেলবে। প্রথমে অল্প দিয়ে শুরু হলেও চাহিদা বাড়তে থাকে, তাই গোড়াতেই 'না' বলুন। কলেমা পড়া পর্যন্ত সম্পর্ক রিভার্সিবল রাখুন।
৩। একান্তই যদি কোন কারণে একা তার ঘরে কিছুক্ষণ কাটাতে হয়, তার দেয়া কোন 'সফট' ড্রিঙ্ক খাবেন না। নিজেই চা, কফি বানিয়ে নিন। বিছানায় বসাতে চাইলে এভয়েড করবেন। যদি সে একটি নির্দিষ্ট জায়গাতে আপনাকে বসাতে বার বার চেষ্টা করে, তাহলে নিশ্চিত থাকতে পারেন, একটা ক্যামেরা সেই জায়গাতে ফোকাস করা আছে।
৪। মনে রাখবেন, আপনার অন্তরঙ্গ ভিডিও এ যুগে আর মোছা যাবে না। আপনার সন্তানেরাও এক সময় দেখে ফেলবে। লজ্জায় আর মুখ দেখাতে পারবেন না।
৫। যদি কাউকে খুব পছন্দ হয়, খবর নিয়ে নিশ্চিত হয়ে বিয়ে করে ফেলুন। তবে স্বামীকেও অন্তরঙ্গ ভিডিও করতে দেবেন না। জোরাজুরি করলে বুঝবেন, তিনি বেশিদিন স্বামী থাকবেন না, এ কাজ আগেও অন্যের সাথে করেছেন।
সঠিক লোকটিকে চিনে নিন, ভালোবাসুন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



