লেখাপড়ায় ও ছিল আমাদের ক্লাসের সবচাইতে খারপ মেয়ে। আমি ছিলাম প্রথম সারির একজন। আমার কোন প্রয়োজন না হলে ওর কাছে যেতাম না। প্রয়োজনটা ছিল খুবই সামান্য, হয়ত আমার চিঠি আমার পছন্দের মানুষের কাছে পৌছে দেয়, আমার জামাকাপর ধুয়ে দেয়া, আমাদের বাসার টুকিটাকি কাজ করা। আমার বাড়ি, ওর এবং আমার স্কুলের খুব কাছে।
জীবনটা আসলে কি তা তখন ধারণাত ভাল, আছও করতে পারতাম না। এবার ঈদে বাড়িতে গেলাম। আসার ঠিক আগের দিন ওর সাথে দেখা। মাথায় ছিল সিঁদুর, মুখে ঘোমটা। দেখেই মনে হল পৃথীবির সবচাইতে অসুখী মানুষের মধ্যে ও একজন। ওর কোলে একটি ছোট্ট ফুটফুটে বাচ্চা। ওর সাথে কথা বলার পর আমি সিদ্ধান্ত নিলাম ওর ছেলেটাকে আমি দত্ত্বক নিব। ওর সন্তানের মত আরো অনেকর মা হব আমি।
স্কুল জীবনে সুমি কোন একজনের সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পরেছিল। সেটি হয়ত একধিক বার এবং অবশ্যই সেটি ভালবাসার জন্য না। এজন্য পাড়ায় ওকে ভাল নজরে দেখা হত না। ফলে ওর বিয়ে হয় এমন একজনের সাথে যে কোনদিনই একজন আদর্শ স্বামী হতে পারবে না। আবার ওর স্বামী আরেকটি সম্পর্কের নাগর তার বড় ভাবির সাথে। ফলে সুমি বিয়ের পর কখনই তার স্বামীকে পূর্ণ করে পায় নি। অবহেলা, স্বামীকে না পাওয়ার কষ্ট, অর্থনৈতিক দৈণ্যতা সব মিলিয়ে ওর কাছে বেঁচে থাকা মানে মরার জন্য অপেক্ষা। কিন্তু চাইলেই সমাজ ওকে মরতে দেবে? কি অদ্ভুদ ব্যপার, জীবনে সুখি হবে না জেনেও জীবনকে উপভোগ করছে। কেউ জানেনা সে কথা।
সৃষ্টিকর্তা আমাদের শরীরে অদ্ভুদ কিছু অনুভুতির জায়গা দিয়েছেন। চাইলেই স্বাভাবিক মানুষ তা উপেক্ষা করতে পারে না। সুমিও তা পারেনি। চুপিচুপি তার স্বাদ অনেকেই নিতে চায়, নেয়। যারটা লোচক্ষুর অন্তরালে থাকে, নিনি হন ভাল মানুষ, সতী কিংবা হালাল পুরুষ। আর যারটা জানাজানি হয়ে যায়, তিনি হন বিষ্ঠা।
আমি জািন আমি, যেভাবে ভাবছি সেভাবে ও ভাববে না। হয়ত এ লেখাটি ওর হাতে কখনই যাবে না। আমি জানি ওর মত হাজার হাজার সুমি নিরবে কাঁদে। সে পানি কেউ দেখে না। সমাজ, ধর্ম সেই পানির মর্যদা দিতে চায় না। কি অদ্ভুদ ব্যাপার···················
ঘ
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




