মানুষকে প্রতারিত করার হাজার অনুষজ্ঞের মধ্যে বিগত কয়েক বছর ধরে যুক্ত হয়েছে মোবাইল ফোন এবং এই প্রতারণার সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছে মেয়েরা, স্পেসিফিক ভাবে বললে টিনএজ মেয়েরা। এখনকার টিনএজ ছেলেমেয়েদের গড়ে ৮০% এর হাতে মোবাইল এরা হয়ত অনেকেই শখ করে মোবাইল কিনছে কিংবা কোন কোন পরিবার স্ট্যাটাস মেইন্টেনের জন্য কিনে দিচ্ছে , এরপর এরা আস্তে আস্তে মোবাইল আসক্তে পরিণত হচ্ছে , যেহেতু তাদের মোবাইল এর যেটা মূল কাজ (কল ইনকামিং আউটগোয়িং) খুবই কম সেহেতু তারা কিছুদিনের মধ্যেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে কিন্তু মোবাইল আসক্তির কারণে সেটাও ত্যাগ করতে পারছেনা। এরপর তারা তাদের বিভিন্ন বন্ধু বান্ধবের কাছ থেকে নাম্বার যোগাড় করে মিসকল দিচ্ছে , আর এভাবে জড়িয়ে পড়ছে তীব্র মোবাইল আসক্তিতে, আর তার সাথে যুক্ত হচ্ছে মোবাইল কম্পানীর চটুল বিজ্ঞাপন।
শুধু টিনএজ নয়, এধরণের অভ্যাসে জড়িয়ে পড়ছে কিশোর থেকে মাঝবয়সী মানুষ, নিজেদের পরিচয় গোপন করে তারা সত্য কে মিথ্যা, মিথ্যাকে সত্য বানিয়ে অপরিচিত মেয়েদের সাথে সম্পকে জড়িয়ে যাচ্ছে , হয়ত মেয়েটিও তার সাথে কথা বলত মজা করার জন্য কিন্তু আস্তে আস্তে সেও অপরপক্ষের চটুল কথার ফাঁদে জড়িয়ে পড়তে থাকে মোবাইলের ফিসফিসানির নেশাতে। আর এভাবে তারা ভালবাসার মত ডিসিশন নিচ্ছে আবেগের বশবর্তী হয়ে একবারও চিন্তা করছেনা ঐ অপরপাশের মানুষটি সৎ কিনা ? এভাবে তাদের কে প্ররোচিত করে সেক্স করছে এবং সেগুলোকে ভিডিও করে রাখছে ব্ল্যাকমেলের জন্য, অনেককে লালসার শিকার হয়ে মর্মান্তিক ভাবে মৃত্যুবরণ করতে হচ্ছে।
এতো গেল একপক্ষ, অন্যদিকে মোবাইল ফোনে মেয়েদের কে ব্যাবহার করছে কিছু চক্র, তারা ব্যাবসায়ী, চাকুরীজীবি, ছাত্র সহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের সাথে সম্পর্ক তৈরী করছে তারপর তাদের সাথে দেখা করার কথা বলে কৌশলে তাদের কাছ থেকে সব কিছু ছিনিয়ে নিচ্ছে , কাউকে কাউকে আটকে রেখে মুক্তি পণ দাবি করছে। যা নিয়ে বিভিন্ন খবরের কাগজে সংবাদ এসেছে, আর এটা এমনই বিষয় যেটা নিয়ে মানুষ লোক লজ্জার ভয়ে আইনের সাহায্য নিতে পারছেনা বা চাচ্ছেনা, আর এটাই এসব বিকৃ্ত মানসিকতা মানুষদের সব চেয়ে বড় পূঁজি।
গত ১৬ই ডিসেম্বের'০৯ প্রথম আলো , ইত্তেফাক সহ আর ও আন্যান্য পেপারে খুবই মর্মান্তিক একটা সংবাদ এসেছিল একই এলাকার দুই বান্ধবীকে তাদের মোবাইলে পরিচিত হওয়া কথিত প্রেমিকরা তাদেরকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ঢাকার একটা হোটেলে ফেলে রেখে যায়। আমরা কি একবার চিন্তা করতে পারি সেই পরিবারটির কথা যাদের ফুটফুটে কিশোরী মেয়েটিকে এভাবে খুন হতে হল। এটা যে কত বড় কস্টের এবং লজ্জার তা শুধু যে পরিবারে ঘটেছে তারাই বলতে পারে।আর এধরণের কাজ কখনই নিয়ম আইন করে ঠেকান যাবেনা যত দিন না মানুষের নৈতিকতা বোধের পরিবর্তন না ঘটে, আর এজন্য দরকার পারিবারিক সচেতনতা কারণ একজন মানুষ নিঃসজ্ঞ হলে সে সজ্ঞীর জন্য উদগ্রীব হবেই এটাই স্বাভাবিক আর পরিবার এবং ভাল বন্ধুই পারে মোবাইল, ড্রাগ সহ সব রকমের নেশা থেকে বের করে নিয়ে আসতে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

