সেদিন ছিলো ভরা পূর্ণিমা
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
নভো বিজ্ঞানের হিসাবে সেদিন চাঁদের অবস্থান ছিলো শতভাগ। অর্থাৎ ইংরেজিতে যাকে বলে Full Moon. কত কবি কত কবিতা লিখেছেন এই ভরা পূর্ণিমা নিয়ে । কত প্রেমিক-প্রেমিকা রাত ভোর করেছে এমন দিনে। আমার জানা ছিলোনা এই দিনটিতে আমার জন্য অপেক্ষা করছে কত আনন্দ। জানা ছিলোনা এই দিনটির জন্য কতগুলো প্রিয় মানুষ প্রহর গুনছে। শুধু জানতাম এই দিনে আমাকে অফিস থেকে ছুটি নিতে হবে। এটা ছিলো আমার প্রতি একজনের অনুরোধ।
আগের দিন, অর্থাৎ বুধবার অফিস থেকে ফিরেই দেখি সবাই তৈরী হচ্ছে। গন্তব্য রাজারবাগ গ্রীন লাইন কাউন্টার। আমরা দু'জন, সুমনা, আইরিন, রুমি ১ এবং ২। ছয় জনের দলটি রাজধানী ঢাকা থেকে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে বাসে উঠে বসলাম। এভাবে বললা, কারণ বাসের সুপারভাইজর ঠিক এইভাবেই সবাইকে আহবান করছিলেন হাস্যকর ভঙ্গিতে। ঘড়ির কাঁটা ১২ টা ছুঁতেই সবাই হই, হই করে উঠলো। বাসের অন্যান্য যাত্রীরাও যোগ দিলো এই আনন্দে। কোথা থেকে বের হয়ে এলো বিশাল এক কেকের প্যাকেট। সুপারভাইজর ছেড়ে দিলো গান। বুঝলাম এটা পূর্ব ষড়যন্ত্র। বাসের সবাইকে নিয়ে এই কেক খাওয়া হলো।
মোবাইল বিদ্যায় আমি বিশেষ-অজ্ঞ। বহুবার তিরষ্কৃত হয়েও বেশি কিছু শিখতে পারিনি। তাই ৫৩ সালের একটা সেট এতদিন যাবৎ ব্যবহার করছিলাম। আজ সুমনার কাছ থেকে পেলাম একটা নতুন নকিয়া মোবাইল সেট। ভাবলাম চমকের বোধ হয় এই শেষ। পথটা কেটে গেলো খুব দ্রুত। ভোরে পৌঁছে গেলাম গন্তব্যে। সেখানে অপেক্ষা করছিলো ছোট ভাই আমিন, পিচ্চি রুবেল, জিতু, চৈনিক বন্ধু জয়। সকাল ১০টায় ছুটে চললাম রাঙামাটির পথে। পাহাড়ের কোল ঘেষে। অক্ষরে, অক্ষরে চলছিলো গানের প্রতিযোগীতা। ছেলেরা হেরে গেলো। ক্ষুধায় সবার পেট চোঁ, চোঁ করছিলো। ছোট্ট একটা হোটেল পাওয়া গেলো । দুই তলার চারটা রুমই আমরা নিয়ে নিলাম। দুপুরে উদরপূর্তি খেয়ে চললাম ঝুলন্ত ব্রীজের দিকে। একটা নৌকা ভাড়া করে চললাম পাহাড়ের টানে। চৈনিক বন্ধু জয় সাথে করে নিয়ে এসেছিলো আরেকটি কেক। কাটলাম, খেলাম, খাওয়ালাম। সূর্যটা একটু. একটু করে হারিয়ে যাচ্ছে পাহাড়ের পেছনে। অদ্ভুৎ লালিমা ছড়িয়ে রেখেছে চারপাশে। কেমন যেন নেশা ধরানো। সবুজের কোলে কুসুম লাল রঙের চাদর বেছানো।
সন্ধ্যায় সবাইকে নিয়ে যাওয়া হলো পানির ওপরে ভাসমান একটি রেস্টুরেন্টে। ছোট্ট, ছিমছাম। বেলুন দিয়ে সাজানো চারপাশ। মৃদু আলোর মাতম। চোখ গেলো আকাশে। চাঁদ ওপর থেকে যেন তাকিয়ে হাসছে আর পানিতে তার প্রতিবিম্ব ফেলছে। কেমন ঘোর লাগানিয়া। আমাকে অবাক করে দিয়ে আরেকটি বি--শা--ল ইংরেজি এস আকৃতির কেক বেরিয়ে এলো। রেস্টুরেন্টে একটি উপজাতি পরিবার রাতের খাবার খাচ্ছিলো। তারাও যোগ দিলো আমাদের সাথে। গান হলো কোরাসে, খাওয়া হলো লুটেপুটে।
হোটেলের ছাদে চাদর বিছিয়ে শুরু হলো নৈশ আড্ডা। চাঁদের আলোর বন্যায় ভেসে যাচ্ছিলাম। সবাই তখন ব্যস্ত পরের দিনের বেড়াতে যাবার পরিকল্পনা নিয়ে। আমরা দু'জন আকন্ঠ পান করছি ভরা পূর্ণিমার সুধা। দিনটি ছিলো বৃহস্পতিবার। আমার তাই বলতে ইচ্ছে হচ্ছিলো, " বৃহস্পতি আমার এখন তুঙ্গে "। এমন একটি দিনের জন্য আমি আবার আসতে চাই পৃথিবীতে। জীবন সুন্দর, তার চেয়েও সুন্দর বেঁচে থাকা।
দিনটি ছিলো ৩ ডিসেম্বর , ২০০৯। আমার জন্মদিন !!
১৩টি মন্তব্য ৬টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমরা এমন কেন?
একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।
শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।