somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সংবাদপ্ত্র ও সাংবাদিকদের উপর নির্যাতনের পথ পরিহার করুন

০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

৩ সেপ্টেম্বর যশোরের দড়াটানা চত্বরে এক সমাবেশ করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্র লীগের নেতারা দৈনিক প্রথম আলো প্রতিনিধি আরিফুর রহমানকে যশোর থেকে প্রত্যহারের দাবি জানিয়েছেন। তা না হলে তাকে হাত-পা ভেঙ্গে ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি প্রদান করেন নেতৃবৃন্দ। যশোর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং যশোর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব শাহিন চাকলাদারের বিরুদ্ধে চরমপন্থী, সন্ত্রাসী, চোরাচালানীদের মদদ দানের অভিযোগে প্রথম আলোয় ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের প্রতিবাদে যুবলীগ এই সমাবেশের আয়োজন করেছিল। এর একদিন আগে চুয়াডাঙ্গা শহরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রীতিমত তান্ডব চালিয়েছে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীরা। তারা দৈনিক প্রথম আলো এবং দৈনিক আমার দেশ এর প্রতিনিধিদের বাড়ি বাড়ি হামলা চালিয়ে তাদের না পেয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে। এই দুই সাংবাদিকের ‘অপরাধ’ তারা তাদের পত্রিকায় জেলা আওয়ামী লীগ নেতা সাংসদ সেলুন জোয়ার্দার এবং তার ভাই উপজেলা চেয়ারম্যানের চরমপন্থী সংশ্লিষ্ঠতা ও চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। এই দুটি ঘটনাই প্রমাণ করে দেয় আওয়ামী লীগ যত পুরোনো রাজনৈতিক দল হোন আর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সমৃদ্ধ হোক না কেন বিরুদ্ধ মতকে তারা কখনোই পাত্তা দিতে চায় না। প্রয়োজনে কঠোরভাবে সেগুলোকে দমন করতেও পিছপা হয় না।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এ ধরনের একটি ঘটনায় ফেনির অপরাধ জগতের গডফাদার ও সে সময়ের সাংসদ জয়নাল হাজারীর নির্দেশে তার সন্ত্রাসী বাহিনী প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি টিপু সুলতানকে হত্যার উদ্দেশ্যে নির্মমভাবে নির্যাতন করে। তাদের সে নির্যাতনে টিপু সুলতান এক প্রকার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন। একই সময় ফরিদপুরে জনকন্ঠের তৎকালীন জেলা প্রতিনিধি প্রবীর শিকদারকেও হত্যার উদ্দেশ্যে নির্মমভাবে নির্যাতন চালিয়েছিল আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। তাদের ক্ষমতাকালীন হত্যার শিকার হন সাহসী সাংবাদিকতার প্রথিকৃৎ যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক রানার সম্পাদক আরএম সাইফুল আলম মুকুল, সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত পত্রদূত সম্পাদক সম আলাউদ্দীন এবং ঝিনাইদহ থেকে প্রকাশিত দৈনিক বীরদর্পণ সম্পাদক রাজনীতিক মীর ইলিয়াস হোসেন দীলিপ। আলামউদ্দীন আওয়ামী লীগ রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলেও তার দলের লোকেরাই তাকে হত্যা করে বলে এলাকার মানুষ মাত্রই জানেন। শুধু এগুলোতেই যে তারা ক্ষান্ত ছিল তা নয় সারা দেশেই এভাবে সাংবাদিকদের উপর হত্যা নির্যাতনের স্টিমরোলার চালিয়ে সত্য প্রকাশের স্বাধীনতাকে কণ্ঠরোধ করতে চেয়েছিল তারা। এ সময়রে আরো একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয় জাতীয় প্রেসকাবে পুলিশি হামলার মাধ্যমে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতাদের ইশারায় পুলিশ প্রেসকাবে হামলা চালিয়ে সেখানে অবস্থানরত জাতীয় সংবাদপত্র এবং ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকদের সিনিয়র জুনিয়র নির্বিশেষে লাঠিপেটা করে। এটি জাতীয় প্রেসকাবের ইতিহাসে প্রথম এবং এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে দ্বিতীয় ঘটনা ঘটে বিএনপি সরকারের আমলে।
আওয়ামী লীগের সংবাদপত্র দমনের এই ইতিহাস নতুন কিছু নয়, বরং বেশ পুরনো। ১৯৭৪ সালে বাকশাল কায়েমের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘Press and Publication Act' এর মাধ্যমে সংবাদপত্র দলননীতির সূচনা করেছিলেন। সেসময় মাত্র চারটি পত্রিকা রেখে দেশের সকল সংবাদপত্রের প্রকাশনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। যে চারটি পত্রিকার প্রকাশনা বাঁচিয়ে রাখা হয় তারাও বাকশালের গুনকীর্তন ছাড়া বিরুদ্ধ কোন মত বা সংবাদ প্রকাশ করেনি।
শুধু আওয়ামী লীগ নয়, এরশাদ সামরিক শাসনামলেও আমরা সংবাদপত্র দলননীতির কলঙ্কিত ইতিহাস দেখেছি। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সংবাদপত্র অফিসে ছবক পাঠানো হত কি লেখা যাবে আর যাবে না। কিন্তু, দেশের প্রতিটি সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকেরা একযোগে এর প্রতিবাদ করেন। এরশাদ উত্তর ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’য় আওয়ামী শাসনামলে সাংবাদিকদের উপর হত্যা-নির্যাতনের প্রতিবাদেও সোচ্চার হয়েছিল দেশের প্রায় সকল সংবাদপত্র। এবং কি আশ্চর্যের ব্যাপার সামরিক স্বৈরাচার ও আওয়ামী স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনকে দ্রুত যৌক্তিকতার দিকে নিয়ে যায় সংবাদপত্রের এই ভূমিকা। প্রেক্ষিতটা ভিন্ন হলেও বিএনপি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনকেও ত্বরান্বিত করেছিল সংবাদপত্রের সাহসী ও উদ্যোগী ভূমিকা।
এসব দিক বিবেচনা করে আমরা আশা করেছিলাম, এবার অন্তত আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী সংগঠনের লোকজন অন্তত সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকদের ব্যাপারে যতœবান হবেন। কিন্তু, অন্যান্য সব বিষয়ের মত এই বিষয়েও তাদের যে কোন শিক্ষা হয়নি তার প্রমাণ তারা রাখতে শুরু করেছে। যার পরিণতি কোনভাবেই ভাল হতে পারে না।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:১৭
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ সুবহানার বীরত্ব

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:১০




সুবহানা খুব ছোট্ট হলেও, দারুণ মিষ্টি দেখতে,
চটপটে, বেজায় সাহসী , কেউ পারে না রুখতে।

স্কুল থেকে ফেরার পথে একদিন দুপুরবেলা
অনাথ দুটি শিশু বসে করছিল কি এক খেলা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৩৩

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

একসময় ভারতীয় কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ কিংবা বাংলাদেশের কিছু ক্ষমতাসীন নেতা এমন ভাষায় কথা বলতেন, যেন বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র নয়; বরং কোনো ছোট ভাই, আদরের বোন বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্তর্দিগন্ত

লিখেছেন মুনতাসির রাসেল, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৯



যে নদী সাগরকে ছোঁয়নি, সে-ই গায় সবচেয়ে নির্মল সঙ্গীত।
যে বৃক্ষের শাখা ফলের ভারে নত হয়নি, সে-ই আকাশকে বেশি বোঝে, বাতাসকে বেশি শোনে।

পৃথিবীর প্রাচীনতম ভ্রমগুলোর একটি এই,
মানুষ ভেবেছে প্রাপ্তিই পরিত্রাণ।

তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

Laptop Stand কেন দরকার?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৪ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৯

Laptop Stand কেন দরকার? | Digital Fast IT থেকে স্মার্ট সমাধান



দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ ব্যবহার করলে অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা দেখা দেয়—ল্যাপটপের নিচের অংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। অতিরিক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমিগ্রেশনেই ধরা খেল বিএনপির কূটনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪০


ধরুন আপনার পাশের বাড়ির সাথে সম্পর্ক ভালো না। দীর্ঘদিনের পুরনো ঝামেলা, কথা বলাবলি বন্ধ, একে অপরকে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার অভ্যাস হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পাশের বাড়িতে একটা বৈঠক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×