ওরা মরে , ওদের মারে...শ্রমিকদের জীবনে ঈদ নেই, আনন্দ নেই...ক্ষুদার বেসাতি আছে , রাস্তায় পরে নেরি কুত্তারমত মৃত্যু গরীবদের নিয়তির লেখা ...
ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে মরে গেল জহির। তিন মাস আগে বিয়ে করা নব বধূটিকে অকাল বিধবা করে দিয়ে চলে গেল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেটি। রেখে গেল কতগুলো অভুক্ত পেট, দু:খিনী মা । দিয়ে গেল তাদের সমাজের নির্মম ঘৃণা আর অবহেলা।
আমি লিখতে গিয়ে স্তব্দ হয়ে যাই কিভাবে বাকি জীবনটা কাটাবে ১৫ বছরেই বিধবা হওয়া কিশোরী মেয়েটি। তারতো এ বয়সে বন্ধুদের সাথে হেসে খেলে সময় কাটানোর কথা ছিল !
ট্রেনের ছাদে করে বাড়ি ফিরছিল জহির(২২)। দিনাজপুরের ভোলাহাট উপজেলার খালেআলমপুর গ্রামের ছেলে সে। অর্থের জন্য ঢাকায় এসে চাকরি নেয় গার্মেন্টে। তিনমাস আগে বিয়ে করে বউ রেখে আসে বাড়িতে। ওদের মধূচন্দ্রিমাটা কত সুন্দরই না হল। ঈদের ছুটিতে জহির বেড়াতে চলে গেল অজানার দেশে ...কবরের পাশে নির্বাক পাড়ে রইল বউ... আর ছেলেটির মায়ের এই ঈদে কত আনন্দ...
আমাদের দেশে বাসের পথ নিরাপদ না মানুষ তাই ট্রেনে চড়ে। এখন ট্রেনে ও দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহআজ সারা দিনে ৫/৭ জন মারা গেল তবে কোন পথে গেলে দানবীয় মৃত্যু থেকে বাঁচবে দেশের সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন অজানা অসংখ্য মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে, এর প্রতিকার চাওয়ায় আমরা ইলিয়াস কাঞ্চনের গলায় জোতার মালা পরিয়েছে। ইলিয়াস কাঞ্চনকে গাড়ির চাকায় পিষে ফেললে সড়ক দূর্ঘটনা বন্ধ হবে কি ? আসুন আমরা আমাদের জীবনের নিরাপত্তা চাই...নিরাপদ সড়কের জন্য, একটি সুন্দর সমৃদ্ধ দেশের জন্য ইলিয়াস কাঞ্চনদের সাথে একাত্ন হই। আমি কাল ভোরে (৬-১১-১১) গ্রামের বাড়ি যাব মার সাথে ঈদ করতে। জানি না আমি যাব নাকি আমার লাশ যাবে আমার চির বঞ্চিত , অবহেলিত, জীবনে কোনদিনও সুখের মুখ না দেখা মা-টির কাছে...আমি জানি না ... যোগাযোগ মন্ত্রী জানেন কি ???????????????????????????????

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

