অতীতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, আপনার সোনার ছেলেরা যা করছে তা সব অতীতকে হার মানিয়ে আইয়্যামে জাহেলিয়ায় নিয়ে যাচ্ছে দেশকে। গতকাল প্রধানমন্ত্রী বলেন, চারদলীয় জোট সরকারের সব অপকর্ম জনগনকে স্মরণ করিয়ে দেন। তারা সব কিছু ভুলে যায় ঋতু পরিবর্তনের মত। যেহেতু বাংলাদেশে দুই মাস পর পর ঋতু বদল হয় তাই ভুলে যাওয়া স্বাভাবিক।
ছাত্রলীগের অপকর্ম তারা শেয়ার করতে চান না।ছাত্রলীগের সাথে সম্পর্ক যদি আওয়ামীলীগের না-ই থাকে, তাহলে দেশের আইন-শৃক্মখলা রক্ষাকারী পুলিশ বাহিনী কী করার জন্যে আছে? আইন-শৃক্মখলা রক্ষাই যদি তাদের একমাত্র কাজ হয় তাহলে ছাত্রলীগের এই ধ্বংসাত্মক তান্ডবে বাধা না দিয়ে কেন নিশ্চল পুতুলের মত দাঁড়িয়ে থাকে? পুলিশের কাজ তো উল্টোটাই হওয়া উচিত ছিল।
সশস্ত্রদের সাথে পুলিশের কেন এত একাত্মতা? পুলিশের সামনেই নাঙ্গা-চাপাতি নিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়ায় এরা। এদের পরিচয় কি? এরা কারা? ছাত্র নামের কলংক তারা।এদের নাম দেওয়া হয়েছ চাপাতিলীগ।
প্রায় প্রতিদিনই যেখানে সেখানে এমনতরো মারামারি ও সংঘর্ষ লেগেই আছে। খবরের কাগজে প্রকাশিত প্রথম পৃষ্ঠাতেই দেশের কোথাও না কোথাও এ ধরনের নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা কারো চোখ এড়াবার কথা নয়। সংবাদপত্রে এসবের ছবিও আসছে। ছাত্রদলের দলীয় কোন মিটিংয়ে হামলা, কোন ন্যায্য দাবি-দাওয়ার শান্তিপূর্ণ মিছিলে ছাত্রলীগের আকস্মিক চড়াও হওয়া। শুধু চড়াও হওয়াই নয়, ব্যক্তিগত তুচ্ছ ব্যাপার নিয়েও প্রতিপক্ষের ওপর আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে বিন্দুমাত্র ইতস্তত করে না। ফলে অবস্থা এমন এক পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছায় যে, রক্তপাতের মতো ভয়ংকর কান্ডও মাঝে মাঝে ঘটে। পুলিশ এ ব্যাপারে নাক গলালেও শেষ পর্যন্ত পক্ষপাতিত্বের দোষে দুষ্ট বিচার ব্যবস্থা ছাত্রদলের ওপরে গিয়ে বর্তায়। সপক্ষের কৌশলী মিডিয়ার মাধ্যমে সত্যকে ধামাচাপা দিয়ে খবরে আসে দলীয় কোন্দল বলে। প্রতিপক্ষরা পার পেয়ে যায় সহজেই- একদম বেকসুর খালাস। সেটা কাদের কৌশলে?
এসব একটু তলিয়ে দেখলেই, একটু গভীরে গেলেই বোঝা যায়, এসব কর্মকান্ডের পেছনে আছে কার বা কাদের পৃষ্ঠপোষকতা? পুলিশ তো আজ্ঞাবহ! আদেশ-নির্দেশ যা দেয়া হবে, তা তাদের মাথা নত করে মেনে নিতে হবে। পুলিশ তো কখনই নির্দেশের এদিক-ওদিক যেতে পারবে না- সামান্য হেরফের করার ক্ষমতাও তাদের নেই, অথচ পুলিশ কিন্তু ক্ষমতার আধার! স্বাধীনভাবে যদি তাদের প্রকৃত কাজে আইন-শৃক্মখলা রক্ষা বা বজায় রাখার ব্যাপারে প্রদত্ত ক্ষমতার নিরপেক্ষ ব্যবহার করতে দেয়া যায়, তাহলে এক কথায় তাদেরকে অসীম ক্ষমতাধরই বলতে হবে এবং সেটা আইনগত দিক থেকেই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

